প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:১৫ পিএম
দেশের ইতিহাসে সরকারি উদ্যোগে সবচেয়ে বড় বাজেটের সিনেমা ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’। অবশেষে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে আজ। চলছে দেশের দেড় শতাধিক সিনেমা হলে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ঘিরে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন উপমহাদেশের ‘বায়োপিক মাস্টার’ খ্যাত পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। ছবিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকেই দেশবিদেশের অনেক গণমাধ্যমে তিনি কথা বলেছেন। জানিয়েছেন এ ছবি নিয়ে তার ভাবনা ও অভিজ্ঞতার কথা।
এ ছবিতে যুক্ত হওয়ার গল্প জানিয়ে শ্যাম বেনেগাল বলেন, ‘আমাকে ছবিটি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এটি ভারতের এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের মধ্যে একটি সহ-প্রযোজনায় নির্মিত ছবি। অনেক সময় নিয়ে আমরা ছবিটির প্রস্তুতি নিয়েছি। সেভাবেই পরিকল্পনা করে শুটিং হয়েছে, নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন এটি উপভোগের পালা। আমি সবাইকে সিনেমাটি দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
ছবিটি শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কী বার্তা দেবে? প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভয়ংকর ট্র্যাজেডির শিকার একজন প্রভাবশালী নেতা মুজিবকেই চিনতাম আমি। এর বাইরে খুব একটা জানা হয়নি তাঁকে। তবে এ সিনেমা করতে গিয়ে মহান এক ব্যক্তিকে জেনেছি। তাঁর ব্যক্তিত্ব যে-কারও হৃদয় ছুঁয়ে যায়। মুজিব ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। পরে বাঙালি জাতীয়তাবাদী হয়ে ওঠেন। তিনি একজন অসাধারণ ক্যারিশমাটিক নেতা এবং অবিশ্বাস্য বক্তা ছিলেন। যিনি তাঁর শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতেন। আমার কাছে যেটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে তা হলো একজন মহান জননেতা হওয়ার পাশাপাশি তিনি তাঁর জনগণকে অনেক বেশি ভালোবাসতে পেরেছিলেন। তিনি সবাইকে ভালোবাসতেন, বিশ্বাস করতেন। তাঁর বিশ্বাসের পাত্ররাই তাঁকে করুণ পরিণতি উপহার দিয়েছে। এ যেন গ্রিক থিয়েটারে মঞ্চস্থ হওয়া কোনো ট্র্যাজেডি ড্রামা। তাঁকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী গান্ধী তাঁকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের জীবন নিয়ে কখনোই ভাবেননি। জাঁদরেল একজন রাজনীতিবিদের বাইরে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ স্বামী এবং বাবা। সিনেমায় উঠে আসা এ বিষয়গুলো মুজিবকে বিশ্বের যেকোনো দর্শকের কাছে আরও বেশি সম্মানিত করে তুলবে বলে আমার ধারণা।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুজিব ছিলেন অত্যন্ত স্বচ্ছ, খোলামেলা প্রকৃতির মানুষ। কিছু গোপন করতেন না। যা একটি মহান গুণ। কিন্তু আপনি যখন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হন তখন কিছুটা অসুবিধা হয় এমন চরিত্রে। চারপাশে সবাইকে বিশ্বাস করা উচিত না। সেই শিক্ষাও দেবে বায়োপিক। এখানে দর্শক রাজনীতিবিদ, নেতা এবং এমন একজন মানবকে দেখতে পাবেন যিনি ছিলেন রাজনীতির পাশাপাশি পারিবারিক ও মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা এক হিমালয়।’
‘চলচ্চিত্রটি শুধু বঙ্গবন্ধুর বিশাল ব্যক্তিত্বই প্রতিফলিত করে না, তাঁর জীবন ও কর্মকেই তুলে আনবে না; আমরা সমসাময়িক ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোও যথাসম্ভব প্রামাণিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। শেখ মুজিবুর রহমান শুধু কিংবদন্তি নন, একটি জাতির জন্মের কারিগর। আমি চেষ্টা করেছি সেই জাতি বিনির্মাণে ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে ক্যাপচার করার জন্য। আমি নিশ্চিত এ ছবিটি সবার ভালোবাসা পাবে।’ যোগ করেন শ্যাম বেনেগাল।