প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৫:৪১ পিএম
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৫:৪৮ পিএম
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘গণজাগরণের মূকাভিনয় উৎসব’। আজ শুরু হচ্ছে উৎসবটি। এখানে অংশ নেবেন দেশবরেণ্য মূকাভিনয়শিল্পীরা।
বাংলাদেশে মাইম শিল্পের আগমন ঘটে ১৯৭৩ সালের দিকে পার্থপ্রতিম মজুমদারে হাত ধরে। তখন অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই এ শিল্পে আসেন। ১৯৮১ সালের দিকে পার্থপ্রতিম মজুমদার ফ্রান্সপ্রবাসী হন। তারপর ধীরে ধীরে হারাতে থাকে শিল্পটি।
কারণ বিদেশে মাইম শিল্পীদের প্রচুর চাহিদা থাকায় পার্থকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে যারা মূকাভিনয় চর্চায় এসেছিলেন তারাও একে একে পার্থকে অনুসরণ করে পাড়ি জমান বিদেশে। তাদের মধ্যে কাজী মশহুরুল হুদা, জিল্লুর রহমান জন ছিলেন উল্লেখযোগ্য। তারা চলে যাওয়ার পর বিচ্ছিন্নভাবে সারা দেশের আনাচকানাচে শিল্পটির চর্চা চলতে থাকলেও নতুন শতকে এসে বলা যায় শিল্পটির চর্চা দেশ থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়।
তবে নতুন শতকে এসে মাইম শিল্পে আবির্ভাব ঘটে সম্ভাবনাময় নতুন শিল্পী নিথর মাহবুবের। শিল্পের নানা মাধ্যমে দখল থাকা নিথর মাহবুব শুধু মূকাভিনয়ের চর্চা নিজেই করেননি, সারা দেশে শিল্পটিকে জনপ্রিয় করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাতে থাকেন। তিনি শিল্পটিতে উৎসাহী করতে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে সমন্বয় ঘটান প্রবাসে থাকা এই মাধ্যমের আগের মেধাবী শিল্পীদের। মাহবুবের নিরলস চেষ্টা এবং আন্তরিকতায় প্রাণ ফিরে পায় বাংলাদেশের মূকাভিনয়।
যার প্রমাণ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে তিন দিনের গণজাগরণের মূকাভিনয় উৎসব। যেখানে অংশগ্রহণ করছেন সারা দেশের প্রায় অর্ধশত মূকাভিনয়ের দল, কয়েকশ মাইম শিল্পী। অথচ আজ থেকে ১৫ বছর আগে ঢাকায় নিয়মিত মাইম চর্চা করে এমন একমাত্র দল ছিল মাইম আর্ট, দাবি করেন নিথর মাহবুব।
২০০৮ সালে মাইম নিয়ে ব্যাপক কাজ করার লক্ষ্যে কয়েকজন তরুণের সমন্বয়ে দলটি গড়েন নিথর মাহবুব। আজ এ আয়োজনের উদ্বোধনী দিনে থাকছে মাইম আর্টের পরিবেশনা। যার মধ্যে আছে নিথর মাহবুবের একক মাইম ‘নারী নির্যাতনের সাজা’ এবং দলের আরেক সদস্য টুটুলের পরিবেশনা ‘আমার স্বপ্ন’। এ ছাড়া আছে দলীয় পরিবেশনা ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ সিরিজের কয়েকটি পর্ব।
নিথর মাহবুব বলেন, ‘এ উৎসব আমাকে কতটা আন্দোলিত করছে তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমি আবেগে আপ্লুত, আমার একটা স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি যখন মূকাভিনয় নিয়ে চর্চা শুরু করেছিলাম, শিল্পটির অবস্থা ছিল মরুভূমির মতো। দেশের কোথাও কোনো চর্চা নেই, শেখার জায়গা নেই। সেই মরুভূমি এখন প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’
নাটুকে থিয়েটারের আল নোমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিথর বলেন, ‘নোমানের পরিকল্পনাতেই পার্থপ্রতিম মজুমদারকে নিয়ে শুরু হয়েছিল সারা দেশে মাইমকে ছড়িয়ে দেওয়ার মিশন। তার পরে মূকাভিনয় সারা দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে দিতে অনেক বড় একটা ভূমিকা রাখে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক। ২০১১ থেকে ২০১৩Ñ এ তিন বছরে কয়েক ধাপে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্র্যাক আমাকে দিয়ে তৈরি করে ৫০ জন মাইম প্রশিক্ষক। যারা আবার নিজেরা ব্র্যাক পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় মাইমের প্রশিক্ষক তৈরি করেন। ব্র্যাক তাদের সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় মূকাভিনয়কে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করে। যে কারণে সারা দেশে দ্রুত বিস্তার ঘটতে থাকে মূকাভিনয়ের। ১২-১৩ বছরের সেসব শিশু-কিশোর আজ তরুণ, এই তরুণরা এখন এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশের মূকাভিনয় শিল্প।’