প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৪:৩৭ পিএম
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৪:৪১ পিএম
প্রথমবারের মতো
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন তথ্যচিত্র নির্মাতা ফুয়াদ চৌধুরী। গত ১৬ জানুয়ারি
বরিশালের উলানিয়া দ্বীপ অঞ্চলে শুরু হয় ‘মেঘনাকন্যা’ নামে এই সিনেমার শুটিং। ইতোমধ্যে
সিনেমার শুটিং শেষ হয়েছে। এবার চলছে মুক্তির অপেক্ষা।
এ সিনেমায় দুই
নারীর প্রতিবাদের গল্প বলবেন পরিচালক। যার একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী নওশাবা আহমেদ।
এতে অভিনয় প্রসঙ্গে
নওশাবা বলেন, ‘গল্পের কারণেই এমন একটা সিনেমায় যুক্ত হওয়া। এত সুন্দর একটা গল্পে আমাকে
নেওয়ার জন্য নির্মাতার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।’
এর গল্পে দেখা
যাবেÑ চারপাশ ঘেরা মেঘনা নদী, ঠিক তার মাঝখানে ছোট্ট একটা দ্বীপের মতো গ্রাম উলানিয়া।
শহুরে মেয়ে প্রজ্ঞা এসেছে এ গ্রামে। একদিকে প্রেমিকের সঙ্গে ব্রেকআপ, অন্যদিকে গ্রামের
নতুন পরিস্থিতিতে খাপ না-খাওয়ানোয় শহরে ফিরতে চায় প্রজ্ঞা; কিন্তু তখনই সে মুখোমুখি
হয় গ্রামের সবচেয়ে পুরোনো এক ভবনের। কয়েকশ বছর আগে মগেরা যখন আক্রমণ চালাত উলানিয়ায়;
সেই আক্রমণ প্রতিহত করতে এ ভবন থেকে ছোড়া হতো কামানের গোলা। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা
হলো, ভবনের মধ্যে প্রজ্ঞা খুঁজে পেল টেরাকোটা। সেই টেরাকোটায় কী যে সুন্দর ডান্সের
ফর্ম! গ্রামে এমন নাচ নাকি নাচতে পারত একজনই। নাম তার হাসি! কিন্তু হাসি তখন দূর এক
জায়গায়, বিদেশের এক অখ্যাত পতিতাপল্লীতে আটকা পড়ে আছে। প্রজ্ঞা তার খবর পায় ঠিকই, কিন্তু
হদিস পায় না। ওদিকে হাসিও চেষ্টা করে যায় নিজের এই ইঁদুরজীবন শেষ করার।
নানা ঘটনার ভেতর
দিয়ে হাসি যখন পালিয়ে আসে তার গ্রামে, প্রজ্ঞা ছুটে যায় তার কাছে। কিন্তু গ্রামের মানুষ
প্রজ্ঞার মতো না। দালাল নুরুল আর গ্রামের চেয়ারম্যানের চাপে প্রজ্ঞাকে ‘খারাপ মেয়ে’
হিসেবে প্রতিপন্ন করে সবাই। হাসি আর খুশিকে রাতের অন্ধকারে জোর করে আবার পাচার করতে
উদ্যত হয় তারা। তবে এবার বাধা হয়ে আসে প্রজ্ঞা। তার সঙ্গী হয় আদিল। কিন্তু চাইলেই কি
আর তারা এতদিনের সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারবে? চাইলেই কি ভাঙতে পারবে মানুষের
ভ্রান্ত ধারণার ট্যাবুগুলো?
ছবিটি নিয়ে পরিচালক
ফুয়াদ চৌধুরী বলেন, ‘নারী পাচারের মতো একটি কঠিন বিষয়কে একদিকে যেমন দর্শকের সামনে
উপস্থাপন করছি, একই সঙ্গে গ্রামীণ পটভূমিতে বলা এ সিনেমার গল্পে রয়েছে দর্শকের জন্য
পর্যাপ্ত বিনোদন। আমার পুরো টিম একটা স্পিরিট নিয়ে কাজ করেছে। আমরা দর্শকের জন্য একটা
উপভোগ্য সিনেমা নির্মাণের চেষ্টা করেছি। খুব দ্রুতই প্রেক্ষাগৃহে আসবে সিনেমাটি।’
ফুয়াদ চৌধুরীর
নির্মাণে এ সিনেমা প্রযোজনা করেছেন কাজী সাইফুল ইসলাম ও আনোয়ার আজাদ। এর সহযোগিতায়
আছে সুইজারল্যান্ড। এর টেলিভিশন পার্টনার দীপ্ত টেলিভিশন।
মেঘনাকন্যার চিত্রনাট্য
করেছেন ফাহমিদুর রহমান ও আহমেদ খান হীরক। চলচ্চিত্রটিতে নওশাবা ছাড়াও অভিনয় করেছেন
ফজলুর রহমান বাবু, শতাব্দী ওয়াদুদ, সেমন্তি দাস সৌমি, সাজ্জাদ হোসেইনসহ অনেকে। এ ছবির
সংগীতায়োজনে রয়েছেন চিরকুট খ্যাত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শারমিন সুলতানা সুমী।