প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:০৩ পিএম
‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না চলে না’, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূর পঙ্খী নাও’ এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের জনক বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের এ দিনে ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এ গুণী শিল্পী।
১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শাহ আবদুল করিম সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইব্রাহিম আলী ও মা নাইওরজান। দারিদ্র্যের সঙ্গে আজন্ম যুদ্ধ ছিল তার। কৃষিকাজের পাশাপাশি রচনা করেন কালজয়ী সব লোকগান। সমাজের নানা কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সুরে সুরেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন আজীবন।
দারিদ্র্য ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া শাহ আবদুল করিমের সংগীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। বাউল সম্রাটের প্রেরণা তার স্ত্রী, যাকে তিনি আদর করে ‘সরলা’ নামে ডাকতেন।
ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ, প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সব অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। সুনামগঞ্জের কালনী নদীর তীরে বেড়ে ওঠা শাহ আবদুল করিমের গান শুরুতেই ভাটি অঞ্চলে জনপ্রিয় হলেও শহরের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায় তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কৃষিকাজে বাধ্য হলেও কোনো কিছুই তাকে গান রচনা থেকে বিরত রাখতে পারেনি।
গানের মধ্যে প্রাণের সন্ধান পাওয়া শাহ আবদুল করিম ২০০১ সালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক পেয়েছেন। এ ছাড়াও কথা সাহিত্যিক আবদুর রউফ চৌধুরী পদক (২০০০), রাগীব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার (২০০০), লেবাক অ্যাওয়ার্ড (২০০৩), মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার (২০০৪), সিটিসেল-চ্যানেল আই আজীবন সম্মাননা মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (২০০৫), বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতি সম্মাননা (২০০৬), খান বাহাদুর এহিয়া পদক (২০০৮), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা (২০০৮), হাতিল অ্যাওয়ার্ডস (২০০৯), এনসিসি ব্যাংক এনএ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
শাহ আবদুল করিম লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন ১ হাজার ৬০০-এর বেশি গানে, যেগুলো সাতটি বইয়ে গ্রন্থিত আছে। বাংলা একাডেমির উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে আফতাব সঙ্গীত, গণসঙ্গীত, কালনীর ঢেউ, ধলমেলা, ভাটির চিঠি, কালনীর কূলে, শাহ আবদুল করিম রচনাসমগ্র উল্লেখযোগ্য।
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম বাংলা সংগীতের জগতে ছিলেন জীবন্ত কিংবদন্তি। বাংলার মাটির মমতায় তার বাণী ছিল পুষ্ট। দেশজ লোকসংস্কৃতি ও সাহিত্যকে শুধু সমৃদ্ধ করেছেন। গেয়েছেন দেশপ্রেম, গণসংগীত, দেহতত্ত্ব, মারফতিসহ নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তির অসংখ্য গান।