প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৪:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:১৭ পিএম
উপমহাদেশের
প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগমের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের এই দিনে
রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি। তার কণ্ঠে জাতীয় কবি
কাজী নজরুল ইসলামের গান দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে দুই বাংলাতেই।
সংগীতের সব শাখায়ই
ছিল মহীয়সী ফিরোজা বেগমের অনায়াস বিচরণ।
কলকাতার এইচএমভির
রিহার্সেলে নজরুলের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয়। সেখানকার অডিশনে ফিরোজা বেগম কবিকে তার
‘যদি পরাণে না জাগে আকুল পিয়াসা’ গানটি শুনিয়েছিলেন। তখন ফিরোজার বয়স ১১ বা ১২ বছর।
নজরুল খুব প্রশংসা করেছিলেন তার গানের। এখন নজরুলের গান আর ফিরোজা বেগম সমার্থক হয়ে
উঠেছে।
ফিরোজা বেগম ১৯৩০
সালের ২৮ জুলাই ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক আবহে গান শেখার অবকাশ না থাকলেও
বাবা-মায়ের সংগীতপ্রীতি ছিল। এটাই তার জন্য সহায়ক হয়। ১৯৪২ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে
বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে তার প্রথম গান রেকর্ড বের হয়।
বিখ্যাত সুরসাধক
চিত্ত রায়ের তত্ত্বাবধানে ছোট্ট ফিরোজা গাইলেন ‘মরুর বুকে জীবনধারা কে বহাল’। তাতেই
বাজিমাত। এরপর কীর্তিমান সুরকার কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে উর্দু গানের রেকর্ড করেন।
প্রকাশ হয় দ্বিতীয় রেকর্ড। এ রেকর্ড প্রকাশের মাধ্যমে কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে ফিরোজা
বেগমের ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রপাত।
১৯৪৯ সালে গ্রামোফোন
কোম্পানি তার কণ্ঠে নজরুলের গানের প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করে। প্রকাশিত রেকর্ডে ফিরোজা
গাইলেন সর্বকালের জনপ্রিয় দুটি গান ‘দূরদ্বীপবাসিনী’ আর ‘মোমের পুতুল’। ১৯৫৬ সালে কমল
দাশগুপ্তের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি তার পরিবার। কিন্তু নিজের
বোধকেই তিনি সব সময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কলকাতায়ই জন্মেছে তার তিন সন্তান তাহসিন, হামিন
ও শাফিন। তাদের মধ্যে হামিন ও শাফিনও সংগীতের দুই নন্দিত তারকা। তারা মাইলস গঠন করে
বাংলা ব্যান্ডসংগীতে অবদান রেখে চলেছেন।
পৃথিবীর বিভিন্ন
দেশে ৩৮০টির বেশি একক সংগীতানুষ্ঠান করেছিলেন ফিরোজা বেগম। পেয়েছেন বহু পুরস্কার। স্বাধীনতা
পুরস্কার ও একুশে পদক এর মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া তিনি পেয়েছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র পুরস্কার,
সত্যজিৎ রায় পুরস্কার, নজরুল একাডেমি পদক।