বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২২ ১৮:৪১ পিএম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২২ ১৯:০১ পিএম
দীপংকর দীপন পরিচালিত ‘অপারেশন সুন্দরবন’ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে নির্মিত সিনেমাটিতে উঠে এসেছে র্যাবের দুঃসাহসিক অভিযান।
জলদস্যু নিধনের দুঃসাহসিক অভিযানের সত্য ঘটনার সঙ্গে বাণিজ্যিক সিনেমার নানা উপকরণের সফল সংমিশ্রণ প্রেক্ষাগৃহে আসা দর্শকদের বিনোদিত যেমন করেছে, তেমনি মূল ভূমিকার রিয়াজ, সিয়াম আহমেদ, রোশান, তাসকিন রহমান, নুসরাত ফারিয়া, দর্শনা বনিকের পাশাপাশি স্বল্প সময় পর্দায় উপস্থিত থেকে নিজ অভিনয়শৈলীর জানান দিয়েছেন বেশ কিছু অভিনয়শিল্পী। তাদেরই একজন নবাগত অভিনেতা তানজিল তুহিন।
‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমায় র্যাব-৬ এর স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি কায়েস আহমেদের ভূমিকায় তার অভিনয়শৈলী ছিল চোখে পড়ার মতো। পর্দায় স্বল্প সময়ের উপস্থিতি ছিল, কিন্তু তার সুনিপুণ অভিনয় দেখে মনে হয়েছে, ভবিষ্যতে মিডিয়ায় দীর্ঘ সময় পাড়ি দেবেন তিনি। জীবনের প্রথম অভিনীত সিনেমা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তুহিন জানান, ‘প্রথম সিনেমাতেই দর্শকদের বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। সিনেমার প্রদর্শনীতে এক দর্শক জিজ্ঞেস করেছিল, আপনি কি সত্যিই এএসপি? অভিনেতা হিসেবে এটাই প্রাপ্তি যে চরিত্রকে প্রাণ দিতে পেরেছি।’
মডেলিংয়ের মাধ্যমে মিডিয়াতে যাত্রা শুরু করা তরুণ তুর্কি তানজিল তুহিন ইতোমধ্যে মডেল হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে একটি স্বতন্ত্র জায়গায় নিয়ে গেছেন নিজেকে। ২০১৬ সালে মোজো কোমল পানীয়ের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই জগতে পা রাখেন তিনি। এরপর একে একে বাংলালিংক, হিরো মোটরসাইকেল, ফ্রুটিকা, ক্লেমন, সিটি ব্যাংক, সিটি গ্রুপ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মতো দেশের নামিদামি বেশ কিছু ব্র্যান্ডের মডেল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। প্রথম বিজ্ঞাপন মোজো এবং পরবর্তী সময়ে হিরো বাইকের ব্র্যান্ডের কাজ করার সুবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ডেও দেখা যায় তাকে।
তবে মডেল হিসেবে কাজ করলেও গত কোরবানির ঈদে মাহমুদ মাহিনের পরিচালনায় একটি ফিকশনে নেগেটিভ রোলে তার সাবলীল উপস্থিতি দর্শকের কাছে তাকে পরিচিতি এনে দেয়। ইতোমধ্যে ইউটিউবে নাটকটি এক কোটি ভিউয়ারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
অভিনয়ের প্রতি তুহিনের একটা ভালোলাগা ছিল অনেক আগে থেকেই। সেই ভালোলাগা থেকেই ২০১৩ সালে ঢাকার আরশিনগর থিয়েটার গ্রুপে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক রেজা আরিফের এ থিয়েটার গ্রুপে তিনি কাজ করেন টানা তিন বছর। তারপর পারিবারিক কিছু দায়িত্ব নেওয়ার কারণে ২০১৬ সালে তিনি থিয়েটারে সময় দিতে পারছিলেন না। তাই সেখান থেকে সরে আসতে হয় তুহিনকে। চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়ে মডেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় নিয়ে এগোতে থাকা তানজিলের কাছে ২০১৯ সালে একটি কাস্টিং এজেন্সির মাধ্যমে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমায় অভিনয়ের অফার আসে। সেখানে অডিশন দিয়েই তিনি চুক্তিবদ্ধ হন কায়েস চরিত্রটির জন্য।
এরপরের গল্পটা তার প্রথম সিনেমার মতোই রোমাঞ্চকর এবং চ্যালেঞ্জিং। ৩৫০ জনের ইউনিট নিয়ে সাতক্ষীরা, সুন্দরবন, খুলনার নানা লোকেশনে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে তানজিলের। সুন্দরবনের মতো গহিন জঙ্গলে পুরো ইউনিটের সঙ্গে ১৫ দিনের মতো থাকতে হয়েছে তাদের। নানারকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শুটিং করেছেন তারা। একজন নবাগত অভিনেতা হয়েও নির্মাতা ও মেন্টর হিসেবে তাই দীপংকর দীপনের মাধ্যমে অনেক কিছু শেখার যে সুযোগ তিনি পেয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন। পাশাপাশি সহশিল্পী হিসেবে রিয়াজ, সিয়াম আহমেদ, রোশানের কাছ থেকেও অনেক কিছু শেখার এবং বোঝার সুযোগ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তানজিল তুহিন।
‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমায় কাজের এ অভিজ্ঞতা সামনের দিনে তাকে অভিনেতা হিসেবে নিজের সেরাটা দেবার জন্য একটা বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন এই সম্ভাবনাময় তরুণ। সামনে বেশ কয়েকটি ওটিটি কনটেন্ট এবং টেলিভিশন ফিকশনে কাজের কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে অফিশিয়াল ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আপাতত কিছুই শেয়ার করতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তুহিন। নতুনের কেতন উড়িয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিবছর আমরা বেশ কিছু তরুণ-তরুণীর দেখা পাই। কিন্তু সঠিক গাইডলাইন এবং গল্প ও চরিত্র বাছাইয়ে অপারদর্শিতার কারণে অনেকেই ছিটকে যান এই রুপালি জগত থেকে। তানজিল তুহিন এইসব নেতিবাচক গণ্ডি পেরোবেন বলেই বিশ্বাস। কারণ তার মধ্যে রয়েছে জয়ী হওয়ার প্রবল ইচ্ছা।
প্রবা/এসএস/টিই