প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ১৩:০৩ পিএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ১৩:২৫ পিএম
ঘোষণার পর থেকেই আলোচনার তুঙ্গে সিনেমাটি। একে তো এটি জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র মাসুদ রানাকে নিয়ে হতে যাচ্ছে। তার ওপর প্রায় ৮৩ কোটি টাকার বাজেটের সিনেমা, যা বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ। পাশাপাশি সিনেমাটিতে দেশের শিল্পীদের সঙ্গে হলিউড ও বলিউডের তারকা শিল্পীরাও থাকবেন।
এত বড় পরিসরে তৈরি সিনেমা স্বভাবতই অনেক প্রত্যাশার জন্ম দেবে। জাজ মাল্টিমিডিয়ার ‘এমআরনাইন’ প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। তবে সে অনুযায়ী যে তৃপ্তি দিতে পারবে না সেটা যেন নিশ্চিত! এরই মধ্যে প্রকাশ হয়েছে সিনেমাটির পোস্টার, ট্রেলার। সেগুলো খুব একটা আলোচনায় আসেনি।
এবার হতাশ করল সিনেমাটির প্রথম গান। বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) রাতে অন্তর্জালে উন্মুক্ত করা হয় ‘নিউ ডে ইজ কামিং’ শিরোনামের গান। এতে ইংরেজি ও বাংলার সমন্বয় করা হয়েছে। কণ্ঠ দিয়েছেন বিফল্ট ও কাব্য কৃতি। গান রচনা ও কম্পোজিশন করেছেন ব্র্যান্ডন ফ্রেঙ্কিল, রয় বাচবিন্দর ও কাব্য কৃতি। মিউজিক মাস্টারিংয়ে ছিলেন জেনিয়া লেন ও গ্র্যামিজয়ী রিকি কেজ।
গানটির প্রকাশিত দৈর্ঘ্য মাত্র এক মিনিট ৪৯ সেকেন্ড। ফলে বোঝা গেলো না, এটা গান নাকি গানের আভাস! তবে গানটি যে একদমই দর্শক-শ্রোতার মন ছুঁতে পারেনি সেটা স্পষ্ট। সেটা বোঝা যায় এর ভিউয়ের দিকে তাকালে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত গানটির ভিউ মাত্র ৭৯ হাজার। ৫৪ লাখ সাবস্ক্রাইবারের ইউটিউব চ্যানেল জাজ মাল্টিমিডিয়ায় আলোচিত সিনেমার প্রথম গানের এই ভিউ যেন সিনেমাটির ভাগ্যে করুণ সুর হয়ে বাজছে।
ইউটিউবে গানটির কমেন্ট বক্সেও আছে হতাশার নানা বাক্য। একজন লিখেছেন, ‘দিন দিন সিনেমাটি দেখার রুচি উঠে যাচ্ছে।’ অনেকে গানটিতে এবিএম সুমনের ইংরেজি বলা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। সুমনের সঙ্গে বিদেশি নারী শিল্পীর উপস্থিতির যৌক্তিকতা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
এত হাঁকডাক করে বানানো সিনেমাটির প্রচারেও কেমন যেন গা ছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের। কোনোরকম অভিনব কৌশল নেই। সংবাদ সম্মেলন হয়েছে একদমই চুপিসারে। গানও এসে গেল চুপচাপ। সেটি নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখে পড়েনি কোনো প্রচার।
গোয়েন্দা চরিত্র মাসুদ রানা সিরিজের প্রথম বই ‘ধ্বংসপাহাড়’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘এমআরনাইন’। এটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নির্মাতা আসিফ আকবর। প্রায় ৮৩ কোটি টাকা বাজেটে নির্মিত এই ছবিতে মাসুদ রানা হয়েছেন এবিএম সুমন। তার সঙ্গে আছেন ভারতের অভিনেত্রী সাক্ষী প্রধান। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে আরও অভিনয় করেছেন শহীদুল আলম সাচ্চু, আনিসুর রহমান মিলন, জেসিয়া ইসলাম ও টাইগার রবি। মার্কিন অভিনয়শিল্পী হিসেবে রয়েছেন মাইকেল জে হোয়াইট, নিকো ফস্টার, ম্যাট পাসমোর, ওলেগ প্রাডিউস, কেলি গ্রেসন প্রমুখ।
ঢালিউডের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত প্রজেক্ট ‘এমআর-৯’। যদিও সিনেমাটি ঘিরে দর্শকমহলে তেমন উন্মাদনা নেই। তবু জাজের কর্ণধার আব্দুল আজিজ জানালেন, এই ছবি থেক বিশ্বব্যাপী ৭০০ কোটি টাকা বক্স অফিস কালেকশনের প্রত্যাশা করছেন তারা। আর বাংলাদেশ থেকে তাদের টার্গেট ৫ কোটি টাকা নেট আয়ের। সেটার আভাস অবশ্য এখনও মেলেনি।
বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে এটি প্রযোজনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ফিল্ম পোস্ট, চেজিং বাটারফ্লাইস পিকচারস ও আল ব্রাভো ফিল্মস। আগামী ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে মুক্তি পাবে ছবিটি।