বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২২ ১২:২৬ পিএম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২২ ১৩:১০ পিএম
আজ থেকে ঠিক ৬০ বছর আগের কথা। এই দিন বিটলসের প্রথম এলবাম ‘লাভ মি ডু’ এবং জেমস বন্ডের চলচ্চিত্র ‘ডক্টর নো’ মুক্তি পেয়েছিল। বিবিসিতে মার্ক এলিসন লিখেছেন, এটি এমন একটি মুহূর্ত যা গোটা ব্রিটেনকে নতুন করে চিনতে শিখিয়েছে।
ফিলিপ লারকিন তার ১৯৬৭ সালের কবিতা অ্যানাস মিরাবিলিসে লিখেছেন, ষাট দশকের শুরুতে ব্রিটিশ সমাজ কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল। এই সময় পরিবর্তনের স্রোতে দুলতে থাকা লন্ডনে ঘটেছিল মুক্ত সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা। তা পরবর্তীতে গোটাবিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদক পিরি হ্যালাস পরিবর্তনকে প্রাণবন্তভাবে তার লেখনীতে বন্দি করেছেন। তিনি বলেন, যৌবনের আধিপত্যের এক দশকে, লন্ডন প্রস্ফুটিত হয়েছে। শহরে প্রাণোচ্ছল নারী এবং বিটলসের সঙ্গে একাকার হয়েছে। সঙ্গে মিনি কার এবং টেলি তারকাদের সঙ্গে গুঞ্জন, উত্তেজনার অর্ধ ডজন ঢেউ শিরায় স্পন্দিত হয়।
তিনি এপ্রিল, ১৯৬৬ সালে লিখেছিলেন, ‘লন্ডন শুধু নিজের কাছে সুসংবাদ রাখছে না। লন্ডন তার নাটক, তার চলচ্চিত্র, তার শৈলী এবং তার মানুষ সারা বিশ্বে রপ্তানি করছে।’
এই অত্যাধুনিক সাংস্কৃতিক রপ্তানির মধ্যে প্রধান ছিল দ্য বিটলসের গান এবং জেমস বন্ডের চলচ্চিত্র। দুটি দুর্দান্ত পপ সাংস্কৃতিক বিপ্লব বিশ্ব দর্শকের কাছে ব্রিটেন এবং ব্রিটিশ সংস্কৃতির আভিজাত্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে।
বিটলস ব্যান্ড ও জেমস বন্ডের যাত্রা অবিশ্বাস্যভাবে একই দিনে হয়েছিল। ১৯৬২ সালের ৫ অক্টোবর৷ সেদিন বিটলসের একক ‘লাভ মি ডু’ আসে বাজারে এবং জেমস বন্ড সিরিজের ‘ডক্টর নো’ ছবির প্রথম প্রিমিয়ার। এই দিনের পেছনের গল্পকারেরা সম্ভবত সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে গেছেন সময়ের অলক্ষে, তবে আজ আমরা যে বিশ্বে বাস করি তারা এই দিনের পরবর্তী ঢেউ এখনও উপভোগ করছে।
ব্রিটেনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের বছরগুলোতে রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি, ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট বেদনাদায়কভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে রাজনৈতিক বা সামরিক দিক থেকে যুক্তরাজ্য আর পরাশক্তি নয়। যা নিয়ে ব্রিটিশরা দীর্ঘদিন ধরে গর্ব করে আসছিল। সেই মুহূর্তে ব্রিটিশদের জীবনে এমন একটি নতুন অধ্যায় এবং নিজেকে বোঝার একটি নতুন উপায় প্রয়োজন ছিল।
এই মর্মে জন হিগস লিখেছেন, ‘আগের কয়েক শতাব্দীতে, আমরা জানতাম যে আমরা কী। একটি বিশ্ব সাম্রাজ্য রয়েছে আমাদের। আমরা নিজেদের যে গল্প বলেছিলাম তা হলো বিশ্বের ওপর রাজত্ব। যেখানে সূর্য কখনই অস্ত যায় না। কিন্তু আমাদের আত্মপরিচয়ের অনুভূতি চলে গিয়েছিল। আমাদের প্রয়োজন ছিল একটি নতুন পরিচয়। ঠিক তখনই জেমস বন্ড এবং দ্য বিটলস ও আধুনিকতা এসেছে। তারা আমাদের উদাহরণ দিয়েছে আমরা কী হতে চাই।’
প্রবা/এমএএম/এলএ/ এসআর