প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৩ ১৩:২৩ পিএম
শাহরুখ খান, ঐশ্বরিয়া রাই, মাধুরী দীক্ষিত। সময়ের সেরা তিন তারকা। তারা এক হয়েছিলেন, চমকে দিয়েছিলেন হিন্দি সিনেমার দর্শককে। নিজেরা পেয়েছেন তাদের ক্যারিয়ারের সেরা সফল ও প্রশংসিত সিনেমা। আর তাদের এক ফ্রেমে নিয়ে এসেছিলেন ভারতের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সঞ্জয় লীলা বানসালি। তিনি এই তিন মেগাস্টারকে নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন ‘দেবদাস’ সিনেমা।
বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বহুল চর্চিত উপন্যাস ‘দেবদাস’৷ সর্বাধিক ভাষায় নির্মিত কোনো বাংলা সাহিত্য বলা চলে এটিই। আর সব ভাষাতেই দেবদাসের প্রেমকাহিনী নিয়ে সিনেমা দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয় সঞ্জয় লীলার নির্মাণটিকেই।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বিগ বাজেট ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। বড় আয়ের তালিকাতেও জায়গা পাওয়া সিনেমা ‘দেবদাস’। ২০০২ সালের ১২ জুলাই ভারতে মুক্তির পরই রাতারাতি সুপারহিট তকমা পায় সিনেমাটি। দেখতে দেখতে শাহরুখ, মাধুরী ও ঐশ্বরিয়ার দেবদাস, চন্দ্রমুখী ও পার্বতী হওয়ার ২১ বছর হয়ে গেল।
দীর্ঘসময় পেরিয়ে আজও দর্শকের হৃদয়ে দেবদাস সিনেমার আবেদন ফুরায়নি। অনেক দর্শক এ সিনেমার ২১ বছর পূর্তিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্মৃতিচারণ করেছেন, নস্টালজিয়ায় ভেসেছেন।
তার আগেও বলিউডে বেশ কয়েকবার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে ‘দেবদাস’ নির্মিত হলেও নতুন আঙ্গিকে বানানো সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’কেও আপন করে নেন দর্শকরা। বক্স অফিসে হিটের পাশাপাশি সমালোচকরাও বেশ প্রশংসা করেছিলেন ছবিটির। এমনকি সেই সময় সিনেমাটি প্রিমিয়ারের জন্য কানেও গিয়েছিল।
শুধু অভিনয় নয়, ছবিতে আলাদাভাবে নজর কেড়েছিল এর অন্দরসজ্জা! দেবদাস, পার্বতীর বাড়ি হোক কিংবা চন্দ্রমুখীর কোঠা, প্রতিটি সেট তৈরিতে যত্নের ছাপ স্পষ্ট ছিল। এখন বানসালির সিনেমা মাত্রই যে ঝাঁ চকচকে সেট, তার শুরু কিন্তু এই ‘দেবদাস’ থেকেই। ২১ বছর আগে মুক্তি পাওয়া এই ছবির বাজেটই ছিল ৫০ কোটি রুপি। সেই সময় যা অত্যন্ত বড় বিষয় ছিল। এই ৫০ কোটি রুপির বেশির ভাগই ছবির সেট তৈরিতে খরচ হয়েছিল। ‘দেবদাস’ ছবির জন্য তিনটি বিশাল বড় ও দামি সেট নির্মাণ করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে সব থেকে বেশি দামি ছিল চন্দ্রমুখীর কোঠা। জানা যায়, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে চন্দ্রমুখীর কোঠা তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ১২ কোটি রুপি।
সেট ছাড়াও এই ছবির সব থেকে বেশি আকর্ষণীয় বিষয় ছিল অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পোশাক-পরিচ্ছদ। যার জন্য ডিজাইনার নীতা লুল্লা ও পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি প্রচুর পরিশ্রম করেছিলেন। বিশেষত চন্দ্রমুখীর লেহেঙ্গা ও পার্বতীর শাড়ির জন্য কলকাতার বাজার চষে বেরিয়েছিলেন দুজন মিলে। জানা যায়, তারা কলকাতা থেকে প্রায় ৬শটি শাড়ি মুম্বাই নিয়ে গিয়েছিলেন।
ধীরে ধীরে এই ছবির বাজেট এতই বাড়তে থাকে যে, এর জন্য বিপাকে পড়েন প্রযোজক ভরত শাহ। বাজেট ৫০ কোটি রুপির গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। যার ফলে প্রযোজককে জেলে যেতে হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ছবিতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সে সময় কয়েকদিনের জন্য ছবির কাজও বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রযোজক ছাড়া পেলে ফের নতুন করে সিনেমার কাজ শুরু হয়। আর সিনেমাটি মুক্তির পর তৈরি করে ইতিহাস। সে সময় সিনেমাটি আয় করেছিল ১৬৮ কোটি রুপি! ছবির গানগুলোও পেয়েছিল দারুণ জনপ্রিয়তা।