মৌসুম আহমেদ
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৩ ১৩:৫৪ পিএম
চলতি সময়ের পরিচিত মুখ অভিনেতা আজম খান। পেশায় একজন ব্যাংকার হলেও ভালোবাসার জায়গা থেকে অভিনয় করে যাচ্ছেন। আট বছরের ক্যারিয়ারে তিনি পেয়েছেন দারুণ দর্শকপ্রিয়তা। অভিনয়ের প্রতিটি জায়গাতেই রয়েছে তার বিচরণ। এই সময়ে প্রায় তিন শতাধিক কাজ করেছেন নাটক, টেলিছবি ও সিনেমা মিলিয়ে। মডেল হিসেবে কাজ করেছেন অসংখ্য বিজ্ঞাপন ও মিউজিক ভিডিওতে। প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। লিখেছেন মৌসুম আহমেদ
শোবিজে আপনার যাত্রা কীভাবে?
২০১৫ সালে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম দেশের শক্তিমান ও গুণী অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিমের সঙ্গে। সেদিন আমি আমার মাকে হারিয়েছিলাম। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ মাকে দেখে এসে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। এমনই এক ঘটনাবহুল যাত্রায় শোবিজে পা রাখা। লাইট, ক্যামেরা আর অ্যাকশনে মুখরিত বর্ণিল সময় কাটছে এখানে। আমি মনে করি, প্রতিনিয়ত এগিয়েছি আমি শোবিজে। ২০১৮ সালে সিনেমায় অভিনয় করি। শখের বশে এলেও শোবিজ এখন আমার কাছে দ্বিতীয় পেশায় পরিণত হয়েছে।
নাটক ও সিনেমা কোন মাধ্যমে কাজ করতে বেশি ভালো লাগে আপনার?
আমি আসলে নাটকের মানুষ। নাটকের বাবা পরিচয়টা আমার কাছে অনেক প্রিয়। ব্যক্তিজীবনে বাবা হয়েছি আমি ২০০৪ সালে। শোবিজে এসে আবার বাবার পরিচয়টায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সবাই বাবার মতো ভালোবাসে। আমি উপভোগ করি।
এবার ঈদে আপনার ব্যস্ততা কেমন ছিল?
এবারের ঈদে অনেক কাজ করেছি আমি। বেশ কয়েকজন গুণী নির্মাতার পরিচালনায় হাজির হব বৈচিত্র্যময় চরিত্র নিয়ে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের পাশাপাশি ইউটিউবেও দেখা যাবে নাটকগুলো। কিছু টেলিছবিও থাকবে। অনেক শ্রম আর পরিকল্পনা নিয়ে ঈদের বিশেষ কাজগুলো নির্মিত হয়েছে। দর্শকের কাছে এগুলো ভালো লাগলে আমাদেরও ভালো লাগবে।
অনেক সিনেমার ভিড়ে ঈদে তো এবার আপনার সিনেমাও আসছে। বাড়তি চাপ অনুভব করছেন?
না। বরং আনন্দ হচ্ছে। ঈদের সিনেমাগুলো নিয়ে দর্শক থেকে শুরু করে সবারই একটা বাড়তি আগ্রহ থাকে। আমি চাপে বিশ্বাসী নই। আমি চাই সব সিনেমা ভালো যাক। আমার অভিনীত ‘লাল শাড়ি’ সিনেমাটি সবার প্রিয় হোক। অপু বিশ্বাস প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্রের প্রথম ছবি এটি, সরকারি অনুদানে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালনা করেছেন। এতে অপুর সঙ্গে নায়ক হিসেবে আছেন সাইমন। আরও গুণী শিল্পীরা বাংলাদেশের তাতশিল্পের বঞ্চনা, ত্যাগ আর সংগ্রামের গল্পের এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এখানে আমার চরিত্রটিও দর্শকের ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।
করপোরেট ও শোবিজের ব্যস্ততায় ক্লান্তি আসে না?
আমি মানিয়ে নিয়েছি। নতুন নতুন চরিত্রে নতুন নতুন লুক নিয়ে ক্যামেরার সামনে যখন দাঁড়াই তখন একটা উদ্যম খুঁজে পাই। বিশেষ করে ঈদে অনেক চাপ নিয়ে কাজ করতে হয়। রাত জেগে শুটিং করতে হয়। তবুও ভালো একটি কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার আগ্রহ আমার ক্লান্তি মুছে দেয়। শক্তি জোগায়।
শৈশব-কৈশোরের ঈদের স্মৃতি কি মনে পড়ে?
শৈশব ও কৈশোরের ঈদের স্মৃতিগুলো জীবনের সেরা সব মুহূর্ত হয়ে আছে। আমার শৈশবের ঈদ ছিল বাবার সঙ্গে সকালে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া। বড় হওয়ার পর যখন স্টুডেন্ট ছিলাম তখন আমার কাছে ঈদ মানে ছিল বন্ধুদের নিয়ে আনলিমিটেড ঘোরাঘুরি আর আড্ডা দেওয়া। এরপর যখন কর্মজীবনের ঈদ এলো তখন শুরু হলো আমার ছকে বাধা করপোরেট জীবন। ঈদের সীমিত ছুটিতে পরিবার, বন্ধু আর সহকর্মীদের সঙ্গে সময় ভাগ করে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি।