সাক্ষাৎকার
মহিউদ্দিন মাহি
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৩ ১৩:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩ ১৩:৪৩ পিএম
কলকাতার অভিনেত্রী দর্শনা বণিক। ‘লিপস্টিক’ শিরোনামে বাংলাদেশি একটি সিনেমায় অভিনয় করার কথা ছিল তার। এরপর সিনেমাটির নায়িকা পরিবর্তন করেন নির্মাতা কামরুজ্জামান রোমান। নেওয়া হয় দেশীয় অভিনেত্রী পূজা চেরীকে। এরপরই দর্শনা মুখ খোলেন। তাকে বাদ দেওয়ার কারণ জানিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
কেমন আছেন?
এই তো ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বেশ ভালো আছি।
কাজের ব্যস্ততা কেমন?
কাজের ব্যস্ততা ভালো। সামনে বেশকিছু প্রজেক্ট আছে, যেগুলোর শুটিং শুরু হয়েছে। নতুন কিছু কাজের কথা চলছে। এ ছাড়া শুটিং না থাকলেও বিভিন্ন ইভেন্ট থাকে। সেসব ইভেন্টে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করি। অবসর সময়টুকু পরিবারের জন্য রাখি। তারাই তো আমার বেঁচে থাকার শক্তি।
সম্প্রতি বাংলাদেশের লিপস্টিক সিনেমা থেকে আপনার সরে যাওয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, এই সিনেমায় কাজের অফার কীভাবে পান?
সিনেমাটিতে কাজের অফার আমার কাছে এসছিল বেশ কিছুদিন আগে। বাংলাদেশ থেকে আমাকে কল দিয়ে তাদের প্রোডাকশনের পক্ষ থেকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। আমি গল্প শুনে কাজটি করতে রাজি হই। এরপর গল্পকার আমার সঙ্গে কথা বলতে কলকাতায় আসেন। গল্প শোনান। সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। আমার অভিনয়ের বিষয়ে চুক্তির প্রস্তুতিও নেন তারা। এরপর আর তাদের কোনো খবর ছিল না। হঠাৎ খবরে দেখলাম আমার চরিত্রে বাংলাদেশের এক অভিনেত্রীকে নেওয়া হয়েছে।
সিনেমাটি থেকে বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে আপনাকে কী জানানো হয়েছিল?
না, কিছুই জানানো হয়নি। তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করেই অন্য অভিনেত্রীকে নিয়েছেন। বিষয়টি আমার কাছে খুব একটি ভালো লাগেনি। কারণ তারা আমাকে না নেওয়ার কারণ জানিয়ে সুন্দরভাবে বিষয়টি শেষ করে দিতে পারত। তারা আমার সময় নষ্ট করেছে। এই সিনেমার গল্পকার আবদুল্লাহ জহির বাবু গণমাধ্যমে বলেন, ভিসা জটিলতার কারণে তারা আমার পরিবর্তে অন্য অভিনেত্রী নিয়েছেন। যেখানে কোনো কিছুর চুক্তিই হয়নি, সেখানে ভিসার সমস্যা কোথা থেকে আসবে। তারা আসলে প্রফেশনাল নয়। তাদের বোঝা উচিত ছিল তাদের সময়ের মূল্য না থাকলেও আমার সময়ের মূল্য আছে। এটি শ্রেফ দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
আপনি সিনেমার গল্পকারের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ এনেছেন, যা কলকাতার একটি দৈনিক প্রকাশ করেছে, এ বিষয়ে আসলে কী ঘটেছিল?
আমার সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা শেষে কলকাতায় এসে তাদের সিনেমাটির চুক্তি সই করানোর কথা ছিল। তারা কবে আসবেন তা জানার জন্য আমি জহির বাবুকে এসএমএস দেই। তার পরই উল্টোপাল্টা প্রস্তাব আসে। সেগুলো আমি পাত্তা দিইনি এবং বুঝিয়ে দিই যে এ ধরনের প্রস্তাবে আমি অস্বস্তি বোধ করছি। তারপর আর কোনো রকম যোগাযোগই করা হয়নি আমার সঙ্গে। এরপরই হঠাৎ জানতে পারছি যে, আমায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে চরিত্রটি থেকে। ভিসাসংক্রান্ত ব্যাপার এটি নিশ্চয়ই নয়। না হলে তো আমি জানতে পারতাম। এখন চারদিকে খবর দেখতে পাচ্ছি। আমার প্রশ্ন একটাই, ওরা যে ধরনের মেসেজ আমায় করেছিলেন, তার বদলে তেমন কোনো উত্তর পাননি বলেই কি ছবিটা থেকে আমায় বাদ দেওয়া হলো? এ কথাগুলো আমি আমার দেশের গণমাধ্যমকেও জানিয়েছি।
কী ধরনের অনৈতিক প্রস্তাব আপনাকে দেওয়া হয়েছে?
সাইনিং করার আগে আব্দুল্লাহ জহির বাবু আমাকে বলেন, প্রযোজক নাকি চান সাইনিং হওয়ার পর আমাকে নিয়ে কোনো রিসোর্টে যাবেন। তার এমন এসএমএস দেখে আমি রেগে যাই। পরে তিনি আমাকে বলেন, এগুলা নাকি মজা করছিলেন। আমি তাকে এ ধরনের মজা করতে নিষেধ করি। আমি হতাশ হয়েছি এ কুপ্রস্তাবে। এরপর তাকে আমি বলি, কাকে মজা বলে সেটি আমি বুঝি। এ ধরনের মজা আমার সঙ্গে করবেন না। তারপর আর বাবু আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

দুই দেশের সিনেমাটিক সম্পর্ক অনেক ভালো, কিন্তু এ ধরনের আচরণে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
আসলে সিনেমা ও আর্টিস্টদের কোনো দেশ হয় না। তাদের সব ধরনের ভাষা ও গল্পের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হয়। তবে আমাদের শহরের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক বেশ ভালো। এখানকার অনেক শিল্পী সেখানে গিয়ে কাজ করেন। তারাও আমাদের এখানে আসেন। সবকিছুই কিন্তু কাজের সম্পর্ক। এরপর কাজ থেকে ভালোবাসার সম্পর্কে পরিণত হয়। যার জন্য সময় লাগে। কিন্তু আমার এই অভিজ্ঞতাটি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে কষ্ট দিয়েছে। এরপর কেউ কাজের কথা বললে তাদের সম্পর্কে ভালো করে ধারণা নিয়ে তার পরই কথা বলব। এক কথায় এটি একটি বাজে অভিজ্ঞতা।
শাকিব খানের সঙ্গে আপনার একটি কাজ হয়েছে৷ এতে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
এই সিনেমায় আমার অংশের শুটিং শেষ। বাকি কাজের খবর আপাতত আমি এখন কিছু জানি না। তবে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো।
সামনে বাংলাদেশে কাজ করার ইচ্ছে আছে?
অবশ্যই আছে। আমি একজন অভিনয়শিল্পী। আমার কাজ অভিনয় করা। সেটি শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের যেকোনো দেশেই করার জন্য আমি প্রস্তুত। তবে কাজের পরিবেশ ভালো হতে হবে।
বাংলাদেশে কাদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে আছে?
আমার তো অনেকের সঙ্গেই কাজ করার ইচ্ছে আছে। বেশ লম্বা একটি লিস্ট। যেমন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী ও নিশো ভাইয়ের সঙ্গে আমার অভিনয় করার খুব ইচ্ছে। যদি সুযোগ হয় কখনও তাদের সঙ্গে কাজ করার আমি খুবই আনন্দিত হব।