বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:৫৩ পিএম
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:২১ পিএম
একটা সময় মনে হচ্ছিল এদেশে হলে সিনেমার ব্যবসার দিন হয়তো ফুরিয়েছে। নানা আমেজ ও ঘরানার সিনেমা বানিয়েও দর্শক ফেরানো যাচ্ছিল না। স্বভাবতই সবাই সিনেমার সুদিন দেখছিলেন ওটিটিতে। তবে সেই শঙ্কা কাটিয়ে আবারও বড়পর্দার সিনেমায় বইছে সুবাতাস। দর্শক পেয়ে আলোচনায় এসেছে বেশ কিছু ছবি। আলোচনার টেবিলে সমীহ পাচ্ছেন ক’জন নির্মাতাও। যেখানে সবার চেয়ে এগিয়ে রায়হান রাফি ও মেজবাউর রহমান সুমন। গেল ১০ বছরে অনেক নির্মাতাই আলো ছড়িয়েছেন সিনেমায়। তবে কেউ-ই নিয়মিত হতে পারেননি। দীপঙ্কর দীপন ও অমিতাভ রেজার নামটি এ তালিকায় সবার ওপরে থাকবে। দুজনেই সুপারহিট দুটি সিনেমা উপহার দিয়ে বেশ লম্বা সময় আড়ালে চলে যান।
সেই আড়াল ভেঙে দীপন সম্প্রতি ফিরেছেন ‘অপারেশন সুন্দরবন’ নিয়ে। তবে ‘আয়নাবাজি’ ছবির পরিচালক অমিতাভকে আর নতুন সিনেমায় দেখা যায়নি। নিয়মিত না হওয়ার জন্য এসএ হক অলিক, গিয়াসউদ্দিন সেলিম ও শিহাব শাহীন ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে আশা জাগিয়েও ইন্ডাস্ট্রির গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারেননি। তিনজনই বিরতি কাটিয়ে বড়পর্দায় ফিরেছেন। তবে কেউ-ই আর তাদের পরিচালক হিসেবে শুরুর দিকের যে সাফল্য সেটা পাননি রুপালি পর্দায়। অবশ্য গিয়াসউদ্দিন সেলিম ও শিহাব শাহীন ওটিটি প্লাটফর্মে প্রশংসা পেয়েছেন সম্প্রতি।
এদিকে শাকিব খান ও পূজা চেরীকে নিয়ে অলিকের ‘গলুই’ সিনেমা গেল রোজার ঈদে মোটামুটি দর্শক পেয়েছে। সেজন্যই অলিককে কেন্দ্র করে আশাবাদী অনেকে। তাদের দাবি, সিনেমায় সফল নির্মাতা এসএ হক অলিকের নিয়মিত থাকা উচিত।
ঝলক দেখিয়ে অনিয়মিত হয়ে আড়ালে চলে যাওয়া পরিচালকদের তালিকা অনেক বড়। সেখানে রাখা যেতে পারে মোস্তফা কামাল রাজ, বুলবুল বিশ্বাস, হিমেল আশরাফের মতো নামগুলো। যারা সিনেমা করতে এসে চমক দেখিয়েছেন নির্মাণের মুন্সিয়ানায়, পেয়েছেন আলোচনা-প্রশংসাও। কিন্তু নিয়মিত হতে পারেননি। তাদের মেধার ধারাবাহিক বিকাশ জরুরি ছিল ভুগতে থাকা ঢালিউডের জন্য।
যদি পরিচালকদের নিয়মিত থাকা নিয়ে কথা হয় তবে সবার চেয়ে এগিয়ে রায়হান রাফি। তাকে ভাবা হচ্ছে ঢালিউডে এ সময়ের হিট মেশিন। নিয়মিত ছবি নির্মাণ করে ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়ে প্রযোজকদের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। চলতি বছরের কোরবানি ঈদে মুক্তি পায় তার ‘পরাণ’ ছবি। এ সিনেমা দর্শক টেনেছে হলে। বলা যায়, ‘পরাণ’ সিনেমা দিয়ে রীতিমতো বাজিমাত করেছেন রাফি। গল্প বাছাই, সংলাপ ও চিত্রনাট্যের টানটান বুনন, চরিত্র বিন্যাসে যত্নের ছাপ এবং সর্বোপরি নির্মাণের মুন্সিয়ানায় এ সিনেমা দিয়ে বাংলার দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। শুধু দেশেই নয়, ‘পরাণ’ দর্শক পাচ্ছে বিদেশেও। আমেরিকার ৭০টি হলে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। শরিফুল রাজ, বিদ্যা সিনহা মিম ও ইয়াশ রোহানের ত্রিভুজ রসায়ন মন ভরাচ্ছে বাংলাদেশি সিনেমাপ্রেমীদের। ইন্ডাস্ট্রি তাই এখন রায়হান রাফির নির্মাণে মজেছে। ‘পোড়ামন টু’ দিয়ে সিনেমার পরিচালক হিসেবে রাজকীয় যাত্রার পর রাফি ‘দহন’ দিয়েও দর্শকের মন ছুঁয়েছেন। এই নির্মাতার ‘নূর’, ‘দামাল’ ছবি দুটিও আলোচনায় রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ দুটি সিনেমা দিয়েও বাজিমাত করবেন রাফি। বিশেষ করে স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিম নিয়ে তার ‘দামাল’ সিনেমা এরই মধ্যে সবার মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। ‘পরাণ’ দিয়ে হলে দর্শকের জোয়ারের মধ্যেই মুক্তি পেল আরেক সিনেমা ‘হাওয়া’। এটি কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে এখনও হাউজফুল দর্শক টানছে দেশের সিনেপ্লেক্সগুলোসহ নানা হলে। উত্তর আমেরিকাতেও বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে এ সিনেমা। আর এ ছবি দিয়ে আলোচনায় এসেছেন মেজবাউর রহমান সুমন। ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা দিয়েই ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছেন তিনি, যা সাম্প্রতিক ইন্ডাস্ট্রিতে সোনার হরিণের চেয়েও বেশি দামি। ছবির গল্প ও কলাকুশলীদের সাবলীল অভিনয় এবং জনপ্রিয় গান ছাপিয়ে সবার আগ্রহে এখন সুমন। অনেক প্রযোজকই এই নির্মাতাকে নিয়ে আশাবাদী। তারা স্বপ্ন দেখছেন, সিনেমায় নিয়মিত হলে ভালো করবেন সুমন। দর্শকের প্রত্যাশা অনুযায়ী সিনেমা বানাতে বেশ যোগ্য তিনি।
‘বিউটি সার্কাস’ দিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে গেল সপ্তাহেই নাম লেখালেন মাহমুদ দিদার। নাটকে বেশ জনপ্রিয় এই নির্মাতা সিনেমায় নিয়মিত হবেন কি না সেটা সময় বলবে। তিনি নিয়মিত হলে ইন্ডাস্ট্রি লাভবান হবেন বলে মনে করছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা।
এ ছাড়া চলতি বছরেই মুক্তি পাওয়া ‘শান’ ছবি দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন এম রাহিম। পাশাপাশি প্রথম সিনেমা ‘বীরত্ব’ দিয়ে ভালোই আলোচনা পাচ্ছেন সাইদুল ইসলাম রানা। ভিন্ন আঙ্গিকের একটি গল্প নিয়ে তারকাবহুল সিনেমাটি বানিয়েছেন তিনি। মারকাটারি ব্যবসার খবর না এলেও সিনেমাটি বেশ দর্শক টানছে হলে। তবে সিনেমায় তারা নিয়মিত হবেন কি না তার ওপরই নির্ভর করছে তাদের ভবিষ্যৎ এবং তাদের ঘিরে চলচ্চিত্রের প্রত্যাশা।
এদিকে মুক্তি না পেলেও ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ দিয়ে আবু রায়হান জুয়েল, ‘লিডার : আমি বাংলাদেশ’ ছবি দিয়ে আলোচনায় আছেন তপু খান। ধারণা করা হচ্ছে এই দুটি ছবি অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা দুই তরুণ নির্মাতা ঢালিউডে নিয়মিত হলে ভালো করবেন।
পাশাপাশি বড়পর্দার বাইরে ওটিটিতে নির্মাণ দিয়ে আলোচিত হয়েছেন আশফাক নিপুণ, শাওকীরা। আশফাক নিপুণের ‘মহানগর’ ওয়েব সিরিজটি হইচই থেকে মুক্তি পায়। দুই বাংলাতেই তুমুল প্রশংসা পেয়েছে এটি। শাওকীর দুটি ওয়েব সিরিজ ‘তাকদীর’ ও ‘কারগার’ হইচই থেকে মুক্তি পায়। দুটিই তুমুল প্রশংসা পেয়েছে। আশফাক নিপুণ ও শাওকীর মতো মেধাবী পরিচালক বড়পর্দার নির্মাণে এলে সিনেমার ব্যবসায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
প্রবা/এলএ/এমজে