প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৩ ১৪:৩৪ পিএম
বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামান। মঞ্চ থেকে শুরু। এরপর তিনি অভিনয়ের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন টিভি ও সিনেমাতেও। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করে যাচ্ছেন বয়সকে জয় করে। দেখতে দেখতে ৮০-কে পেছনে ফেলে ৮১ বছরে পা রাখলেন এই বর্ষিয়ান অভিনেত্রী। জন্মদিনে বিশেষ এ দিনে অভিনেত্রী পেলেন বিশেষ উপহার।
যাকে দিলারা জামান বিশেষ ‘সারপ্রাইজ’ বলে আখ্যা দিলেন।
দিলারা জামান বলেন, ‘এবার জন্মদিনে বিশেষ সারপ্রাইজ পেয়েছি। সেটি এসেছে আমার মেয়েদের পক্ষ থেকে। আমার দুই মেয়ে দেশের বাইরে থাকে। দুই মেয়েকে এক সঙ্গে দেখি না, বহু বছর। কিন্তু এবার দুই মেয়ে আমার জন্মদিন ও ঈদ কাটানোর জন্য দেশে এসেছে। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাতে বড় মেয়ে বাসায় ঘরোয়া আয়োজনে জন্মদিনের কেক কাটে। নাতি-নাতনিরা সবাই ছিল। সবাই মিলে খুব আনন্দ করেছি। এবার মেয়েরা আমার সঙ্গে ঈদ করবে। পরিকল্পনা আছে ঈদের পর ওদের নিয়ে ঘুরতে যাব। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে কোনো অপ্রাপ্তি কি আছে? জানতে চাইলে বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী বলেন, ‘না না, কোনো অপ্রাপ্তি নেই। এই অভিনয় দিয়েই দেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আর আমিও অভিনয়কে খুব ভালোবাসি। আমার ভেতরেও অভিনয়ের ক্ষুধাটা আছে। তাই তো এখনও অভিনয়টা করে যাচ্ছি।’
দিলারা জামান ১৯৪৩ সালের ১৯ জুন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তার পরিবার যশোর জেলায় চলে আসেন। তিনি ঢাকার বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ইডেন মহিলা কলেজে পড়াশুনা করেন। অভিনেত্রী দিলার জামান বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ফখরুজ্জামান চৌধুরীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
১৯৬৬ সালে ত্রিধরা নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিনয় যাত্রা শুরু। নাটকের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। ১৯৯০ এর দশকে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র চাকা (১৯৯৩) এবং আগুনের পরশমণি (১৯৯৪) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
তিনি ব্যাচেলর (২০০৪), মেড ইন বাংলাদেশ (২০০৭), চন্দ্রগ্রহণ (২০০৮), প্রিয়তমেষু (২০০৯), ও মনপুরা (২০০৯) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৮ সালের চন্দ্রগ্রহণ চলচ্চিত্রে ময়রা মাসী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৯৩ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন।