বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:৪৬ পিএম
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৩:৩৪ পিএম
ঢাকাই সিনেমার চিরসবুজ নায়ক জাফর ইকবাল। অনেকে তাঁকে স্টাইলিশ নায়ক হিসেবেও ডাকেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে তরুণ প্রজন্মের সামনে তিনি আইকন হয়ে হাজির হয়েছিলেন। স্টাইল ও ফ্যাশনে তিনি জন্ম দিয়েছিলেন নতুন এক ধারার। অভিনয়-নৈপুণ্যে জয় করে নিয়েছিলেন কোটি দর্শকের মুগ্ধতা। ব্যক্তিত্ব, পোশাক, স্টাইল সব মিলিয়ে তিনি যেন ছিলেন এক গল্পের রাজকুমার।
অকালপ্রয়াত সেই নায়কের আজ জন্মদিন। ১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে জন্ম হয় জাফর ইকবালের। বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ দেশের বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী। বড় ভাই আনোয়ার পারভেজও নন্দিত শিল্পী। পারিবারিক আবহের কারণেই জাফর ইকবাল প্রথমে গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান।
১৯৬৬ সালে ব্যান্ড গড়ে তুলে গায়ক হিসেবে গাইতে থাকেন বিভিন্ন প্রোগ্রামে। ‘পীচ ঢালা পথ’ সিনেমাতেও তিনি গান করেন। ‘বদনাম’ ছবিতে তার কণ্ঠে ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’ আজও শ্রোতাদের অন্তরে দাগ কেটে যায়।

ঘটনাচক্রে জড়িয়ে যান সিনেমার অভিনয়ে। স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যে কজন বড়পর্দার অভিনেতা এসেছিলেন, নায়ক হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম জাফর ইকবাল। তিনি তাঁর সময়ের তুলনায় এগিয়ে ছিলেন। ফ্যাশনে, শরীরী ভাষায়। মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি কবরীর বিপরীতে ‘আপন পর’ ছবিতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাতে অংশ নেন জাফর ইকবাল।
পরবর্তীতে ‘সূর্যসংগ্রাম’ ও এর সিকুয়াল ‘সূর্যস্বাধীন’ চলচ্চিত্রে ববিতার বিপরীতে অভিনয় করেন। ১৯৭৫ সালে ‘মাস্তান’ চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান তিনি।
ক্যারিয়ারে জাফর ইকবাল ১৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতার সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকনন্দিত। ববিতার বিপরীতে ৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

জাফর ইকবাল অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে—ভাই বন্ধু, চোরের বউ, অবদান, সাধারণ মেয়ে, একই অঙ্গে এত রূপ, ফকির মজনু শাহ, দিনের পর দিন, অংশীদার, মেঘ বিজলী বাদল, সাত রাজার ধন, আশীর্বাদ, অপমান, এক মুঠো ভাত, নয়নের আলো, ওগো বিদেশিনী, নবাব, প্রতিরোধ ইত্যাদি।
১৯৯২ সালের ১৮ জানুয়ারি মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন জাফর ইকবাল।
প্রবা/এলএ/জেআই