প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৩ ১৩:২৩ পিএম
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৩ ১৪:৫০ পিএম
ব্যান্ডসংগীতের সম্রাট আজম খান। যার হাত ধরে বাংলাদেশে পপসংগীতের যাত্রা এবং এ সংগীত সাধারণের মাঝে জনপ্রিয় হয়। ভালোবেসে সবাই তাকে গুরু বলে ডাকত। ২০১১ সালের ৫ জুন দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ রোগভোগ শেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না-ফেরার দেশে চলে যান আজম খান। আজ পপগুরু আজম খানকে হারানোর ১২ বছর।
১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরের ১০ নম্বর সরকারি কোয়ার্টারে জন্মগ্রহণ করেন আজম খান। তার বাবা আফতাবউদ্দিন আহমেদ ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী এবং মা জোবেদা খাতুন সংগীতশিল্পী। আজিমপুরে জন্ম হলেও ছয় বছর বয়স থেকে তিনি পরিবারের সঙ্গে কমলাপুর থাকতেন। তাঁর কর্মজীবন শুরু ষাটের দশকের গোড়ায়। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় আজম খান পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ৭১-এ যুদ্ধ শুরু হলে হেঁটে আগরতলা চলে যান। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ২১ বছর। সেকশন কমান্ডার হিসেবে আজম খান ঢাকা ও এর আশপাশে বেশ কয়েকটি গেরিলা আক্রমণেও অংশ নেন।
মুক্তিযুদ্ধের পর ‘উচ্চারণ’ নামে একটি ব্যান্ডদলের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেন আজম খান। বন্ধু নিলু ও মনসুরকে গিটারে, সাদেককে ড্রামে এবং নিজেকে প্রধান ভোকাল করে শুরু করেন সংগীতজীবন। ওই সময় বিটিভিতে আজম খানের গাওয়া ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ এবং ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ গান দুটি প্রচার হয়। দুটিই বেশ প্রশংসা পায়।
১৯৭৫ সালে দেশাত্মবোধক ব্যান্ড গান ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’ দিয়ে হইচই ফেলে দেন আজম খান। সেখানেই থেমে যাননি। শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন একের পর এক জনপ্রিয় গান। ১৯৮২ সালে ‘এক যুগ’ নামে আজম খানের প্রথম অডিও ক্যাসেট বের হয়। এরপর একে একে ১৭টি অডিও ক্যাসেট ও সিডি প্রকাশ করেন তিনি।
তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছেÑ ‘আমি যারে চাইরে’, ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘অ্যাকসিডেন্ট’, ‘অনামিকা’, ‘অভিমানী’, ‘আসি আসি বলে’, ‘হাইকোর্টের মাজারে’, ‘পাপড়ি’, ‘বাধা দিও না’, ‘যে মেয়ে চোখে দেখে না’ ইত্যাদি। সংগীতে বিশেষ অবদান রাখায় আজম খানকে ২০১৯ সালে মরণোত্তর একুশে পদক দেয় বাংলাদেশ সরকার।
গানের পাশাপাশি অভিনয়েও দেখা গেছে তাকে। ১৯৮৬ সালে ‘কালা বাউল’ নামে হিরামনের একটি নাটকে কালা বাউলের চরিত্রে এবং ২০০৩ সালে শাহীন-সুমন পরিচালিত ‘গডফাদার’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়া ২০০৩ সালে ক্রাউন এনার্জি ড্রিংকসের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মডেল হন। এর পরও বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে দেখা যায় তাকে। সর্বশেষ ২০১০ সালে কোবরা ড্রিংকসের বিজ্ঞাপন করেন।
গান, মডেলিং ও অভিনয়ের বাইরে তিনি ক্রিকেট মাঠেও দাপট দেখিয়েছেন। ১৯৯১-২০০০ সালে তিনি গোপীবাগ ফ্রেন্ডস ক্লাবের পক্ষ হয়ে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলতেন।