প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৩ ১২:১৫ পিএম
মাহফুজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়াশোনাকালীন পত্রিকায় লিখতেন। সেই সুবাদে ইমদাদুল হক মিলনের পরামর্শে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কোন কাননের ফুল’-এ অভিনয় করার মধ্য দিয়ে টিভি নাটকে নাম লেখান। এর পর হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে বাকের ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়া মতি চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। তার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
কাজ করেছেন বহু কালজয়ী নাটক-টেলিফিল্মে। বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবেও অভিনেতা মাহফুজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে ক্যারিয়ারের একটা সময় নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন সিনেমায়। মশলাদার, গল্প প্রধান, নানা ঘরানার সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। কিছু সিনেমায় তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। পেয়েছেন সেরা অভিনেতা হিসেবে দুই-দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। কিন্তু ব্যবসায়িক সাফল্যে কখনোই সেই অর্থে তিনি হিট নায়কের তকমাটি নামের পাশে যোগ করতে পারেননি।
মাহফুজ আহমেদ হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ দিয়ে সিনেমায় নাম লেখান। সে সিনেমায় গোলাম মুস্তাফা, আনোয়ারা, জাহিদ হাসান, মেহের আফরোজ শাওনদের সঙ্গে অভিনয় করে প্রশংসা পান তিনি। এর পর কাজ করেছেন হুমায়ূন আহমেদের ‘দুই দুয়ারী’, মহাম্মদ হান্নানের ‘ভালবাসি তোমাকে’, চাষী নজরুল ইসলামের ‘মেঘের পরে মেঘ’, নার্গিস আক্তারের ‘চার সতীনের ঘর’ ও তৌকীর আহমেদের ‘জয়যাত্রা’, শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘লাল সবুজ’ চলচ্চিত্রে। ‘লাল সবুজ’ সিনেমায় অভিনয় করে বেশ সুনাম অর্জন করেন তিনি। এ সিনেমা দিয়েই প্রথমবারের মতো সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তবে মাহফুজ অভিনীত কোনো সিনেমই বাণিজ্যিক সাফল্যের মুখ দেখেনি।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অভিনয় করেছিলেন ‘জিরো ডিগ্রি’ সিনেমায়। সেটি আলোচিত হয়েছিল। মাহফুজ পেয়েছিলেন দ্বিতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের দেখা। কিন্তু এ সিনেমাও হলে দর্শক টানেনি প্রত্যাশা অনুযায়ী। সিনেমাটির একজন প্রযোজকও ছিলেন মাহফুজ। এর পর নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন সিনেমা থেকে। বলা চলে অভিনয় থেকেই সরে গিয়েছিলেন তিনি। কারণ হিসেবে এক গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘শোবিজ থেকে সরে যেতে চেয়েছিলাম। তারকা জীবন চাইনি। সাধারণ জীবনযাপন করতে চাই বলেই অভিনয় থেকে দূরে ছিলাম। তারকা জীবনে প্রচুর চাপ নিতে হয়। আমি যা না, তা করতে হয় পর্দায়।’
সেই মাহফুজ আবারও সিনেমা দিয়ে পর্দায় ফিরতে চলেছেন কোরবানি ঈদে। চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত ‘প্রহেলিকা’ সিনেমায় তিনি প্রধান পুরুষ চরিত্র। এ চরিত্রের নাম মনা। প্রায় সাত বছর শোবিজ থেকে দূরে সরে থাকার পর অভিনয় এবং সিনেমায় ফিরে আসা মাহফুজ আহমেদ কি পারবেন ‘প্রহেলিকা’ দিয়ে ব্যবসায়িকভাবে হিট সিনেমার দেখা পেতে?
সিনেমাটি নিয়ে আশাবাদী মাহফুজ আহমেদ। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিনেতা সিনেমাটি নিয়ে বলেন, ‘আমার নিজের প্রতি একটু আশার বাণী আছে। একজন মানুষ এবং অভিনতা হিসেবে আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী। সেই আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে বলছি, আমাদের ‘প্রহেলিকা’ পুরো ছবিটা মোর দ্যান সুপারস্টার। এ কারণে বলতে পারি ছবি নিয়ে দুশ্চিন্তা করছি না।’
প্রেম, দ্রোহের প্রেক্ষাপটে নির্মিত প্রহেলিকা প্রসঙ্গে মাহফুজ আহমেদ বলেন, ‘ছবিটির গল্প আমরা বলব না। এমনকি গল্পের ধারণাটিও প্রকাশ করতে চাই না। তবে এটুকু বলি, যেকোনো মানুষ সারা জীবন মনের মানুষকে খুঁজে ফেরে। সেটা শেষ পর্যন্ত পায় কি না, এটা বড় একটা প্রশ্ন। ছবিটিতে সেই প্রশ্নের জবাব খোঁজার চেষ্টা করেছি আমরা।’
এ সিনেমায় মাহফুজ আহমেদের বিপরীতে দেখা যাবে শবনম বুবলীকে। এরই মধ্যে দুই তারকার কেমিস্ট্রি প্রশংসিত হয়েছে প্রকাশ হওয়া গানে। সিনেমাটি প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছে বেশ জোরেশোরেই। বাজারটাও ঈদের। এই উৎসবমুখর সময়টাতে দর্শক কিছুটা হলেও প্রেক্ষাগৃহে যান। সব মিলিয়ে আশা করা যায়, এ সিনেমা দর্শক টানবে। মাহফুজের ক্যারিয়ারে ব্যবসায়িক সাফল্যে হিট সিনেমার যে অপেক্ষা, তার অবসান ঘটবে। তবে এর জন্য মাহফুজকে প্রতিযোগিতা করতে হবে দুই যুগের পরীক্ষিত হিট নায়ক শাকিব খান ও হালের ক্রেজ আফরান নিশো, সিয়ামদের মতো নায়কদের সঙ্গে।