× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কী এমন আছে সুপারহিট ‘সীতা রামম’ সিনেমায়?

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৮:০৮ পিএম

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৯:০৪ পিএম

কী এমন আছে সুপারহিট ‘সীতা রামম’ সিনেমায়?

বলিউডের সিনেমা এখন হিট করাতে অভিনয়শিল্পী-নির্মাতা থেকে শুরু করে প্রযোজকদের গলদঘর্ম অবস্থা। অন্যদিকে ভারতের দক্ষিণী সিনেমার যেন জয়জয়কার চলছে। বিগ বাজেটের পাশাপাশি স্বল্প বাজেটের সিনেমাও করছে বাজিমাত। এই যেমন খুব বেশি প্রচার ছাড়াই গত ৫ আগস্ট মুক্তি পেয়েছিল দুলকার সালমান, মৃণাল ঠাকুর ও রশ্মিকা মানদানা অভিনীত ‘সীতা রামম’। ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া ৩০ কোটি বাজেটের তেলেগু সিনেমাটি এরই মধ্যে ১০০ কোটি রুপিরও বেশি আয় করেছে। 

গত ২ সেপ্টেম্বর সিনেমাটির হিন্দি সংস্করণ মুক্তি পায়। ‘সীতা রামম’ ছবির হিন্দি ডাব নিয়ে সাম্প্রতিক প্যান-ইন্ডিয়া অন্য রিলিজের মতো হইচই ছিল না। তখন প্রচারে ছিল একাধিক রেকর্ডধারী বলিউড সিনেমা ‘ব্রহ্মাস্ত্র’। এমন পরিস্থিতিতে অল্প কয়েকটি পর্দায় মুক্তি পায় কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই প্রেম কাহিনি।

বক্স অফিস রিপোর্ট অনুযায়ী, হিন্দি সংস্করণটি দুই সপ্তাহ শেষে প্রায় ৫ কোটি রুপি আয় করে। সীমিত প্রচার ও শো অনুযায়ী হিন্দি বলয়ে ‘সীতা রামম’ হিট বলে জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া ডাব সংস্করণের ক্ষেত্রে ছবির মূল নির্মাণ ব্যয়কে লাভ-ক্ষতির হিসাবের মধ্যে রাখা হয় না।

হনু রাঘবপুদি পরিচালিত মূল ‘সীতা রামম’ সিনেমায় এমন কী আছে যা দর্শককে এতটা মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখছে, এমন প্রশ্ন করছেন যারা সিনেমাটি এখনও দেখেননি। যদি এককথায় বলতে হয়, ছবির গল্প, দৃশ্যধারণ, গান, সংলাপ ও অভিনয় সবকিছুই দুর্দান্ত। ভারত-পাকিস্তান নিয়ে ভারতে অনেক সিনেমা নির্মিত হয়েছে। তবে ‘সীতা রামম’-এর প্রেক্ষাপট অন্য কারণে দর্শক অনেক দিন মনে রাখবে। 

১৬৩ মিনিটের রোমান্টিক সিনেমাটি ১৯৬৪ সালের প্রেক্ষাপটে নির্মিত। ছবিটি শুরু হয় লেফটেন্যান্ট রামের গল্প দিয়ে, কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসার সে। অনাথ রামের দুঃখ--সহকর্মীদের সবার পরিবার আছে, কিন্তু তার কেউ নেই। ছুটিতে যাওয়ার জায়গা নেই, কাউকে চিঠি লেখারও নেই। এক সাংবাদিকের মাধ্যমে রামের এই দুঃখের কথা চাউর হয়। ব্যস, আর যায় কোথায়। প্রতিদিন রামকে চিঠি লেখা শুরু করে হাজারো মানুষ। যার মধ্যে একজন সীতা মহালক্ষ্মী। নিজেকে রামের ‘স্ত্রী’ দাবি করে আবেগঘন প্রেমপত্র পাঠাতে থাকে সে। চিঠিতে নিজের পরিচয় নিয়ে কিছু ক্লু দিলেও রাম বুঝতে পারে না। শুধু বুঝতে পারে, সে সীতার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। বন্ধুকে নিয়ে সীতার খোঁজে বেরিয়ে পড়ে সে। তাদের দেখাও হয়, কিন্তু তারপর আবার বিচ্ছেদ। কেন আলাদা হয়ে যায় রাম ও সীতা? পরের গল্প ২০ বছর পরের। পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার নাতনি আফরিন হাজির হয় ভারতে। উদ্দেশ্য ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা রামের চিঠি সীতাকে পৌঁছে দিতে হবে। কিন্তু ২০ বছর পর সীতাকে আর পাবে কোথায়? ভারতীয় সেনাসদস্য রামের চিঠি পাকিস্তান গেল কীভাবে? আর কেন-ই বা সে চিঠি ২০ বছর আগলে রেখেছিলেন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা?

শুনতে থ্রিলার মনে হলেও ‘সীতা রামম’ আদ্যোপান্ত প্রেমের গল্প। প্রথমে ভারত, পরে বাংলাদেশের দর্শকের ছবিটি এত পছন্দ করার সম্ভবত মানুষের নস্টালজিয়া প্রীতি। ষাটের দশক, চেহারা না দেখে চিঠি লিখে প্রেম, দারুণ সব রোমান্টিক মুহূর্ত, গান আর সিনেমাটোগ্রাফি মিলিয়ে দর্শককে বুঁদ করে রেখেছে ছবিটি।

সিনেমাটি দেখে অনেকের মনে বলিউডের ‘ভীর জারা’ সিনেমার কথা মনে পড়েছিল। সত্যি বলতে, দুয়েকটি দৃশ্য ছাড়া আর কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না দুটি সিনেমার। 

মালালায়ম অভিনেতা দুলকার সালমানের অভিনয়জীবনে ‘সীতা রামম’ আজীবন ট্রেডমার্ক হয়ে থাকবে। সিনেমায় রাম চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় ছিল মনে রাখার মতো। ছবিতে সীতা চরিত্রের ম্রুনাল ঠাকুর ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন। আগে ‘সুপার থার্টি’, ‘জার্সি’র মতো হিন্দি সিনেমা করা এ অভিনেত্রীকে ‘সীতা রামম’-এ নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন দর্শক। এই মারাঠি অভিনেত্রীর এটাই প্রথম তেলেগু সিনেমা। সিনেমায় আছেন এই সময়ে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানাও। তবে পর্দায় সাধারণ গ্ল্যামারাস অবতারে হাজির হলেও এই ছবিতে তার ভিন্ন রূপ--পাকিস্তানি মুসলিম তরুণী আফরিনের চরিত্রে তিনিও ঠিকঠাক।

তবে সত্যি বলতে, এই সিনেমায় সবচেয়ে লাভবান হয়েছে নায়িকা ম্রুণাল ঠাকুর। টেলিভিশনের জনপ্রিয় এ তারকা সিনেমায় ততটা সুবিধা করতে পারেননি এতদিন। কিন্তু নতুন ছবির কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় তরতর করে বেড়েছে তার ভক্ত। এক মাসেরও কম সময়ে ৪৬ লাখ থেকে ইনস্টাগ্রামে অনুসরণকারী দাঁড়িয়েছে ৫৩ লাখ।


প্রবা/এসএস/এমজে
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা