প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৩ ১৩:০৬ পিএম
একদল অপেশাদার অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে গাজীপুরের হারবাইদসংলগ্ন প্রায় পঁচিশ-ত্রিশ কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লোকেশনে ধারণ করা চলচ্চিত্র ‘আম-কাঁঠালের ছুটি’। সিনেমাটি রাশিয়ার চেবাক্সারিতে অনুষ্ঠেয় চেবাক্সারি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ষোড়শ আসরে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। আগামী ২৬ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত চলবে উৎসবটি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নৃ-তত্ত্ব ও আঞ্চলিক স্বকীয়তার প্রতিনিধিত্ব করা চলচ্চিত্র নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে এই উৎসব। এতে উপস্থিত থাকার জন্য রাশিয়ান ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে আম-কাঁঠালের ছুটি সিনেমার নির্মাতাকে।
ষোড়শ চেবাক্সারি আন্তর্জাতিক ফিল্মে যোগ দিতে আজ সকালে মস্কোর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন আম-কাঁঠালের ছুটির নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান।
শরীফ উদ্দিন সবুজের ছোটগল্প অবলম্বনে শিশুতোষ ঘরানার আম-কাঁঠালের ছুটি চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। গত শতাব্দীর সত্তর-আশি কিংবা মধ্য নব্বইয়ের দশকে যারা শৈশব-কৈশোর পার করেছেন, তারা তাদের সেই বয়সের যাপিত জীবনকে নস্টালজিক আবহে তৈরি এই চলচ্চিত্রে দেখতে পাবেন বলে মনে করেন নির্মাতা। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া কিংবা হারাতে বসা প্রাকৃতিক পরিবেশ আর আমাদের নিজস্ব লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হবে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোররা। চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক সংস্করণের নামকরণ করা হয়েছে সামার হলিডে।
কারও সঙ্গে মিশতে না পারা আট বছর বয়সি একটি শহুরে ছেলে গ্রীষ্মের ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে এসে কীভাবে নতুন এক জগৎ আবিষ্কার করে, খুঁজে পায় বন্ধুত্ব আর রোমাঞ্চের স্বাদ, তারই আখ্যান এই পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
এই চলচ্চিত্রের সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন নির্মাতা নিজেই, সঙ্গে ছিলেন ম্যাক সাব্বির। প্রযোজনা, পরিচালনা ও চিত্রনাট্য রচনার পাশাপাশি সাউন্ড ডিজাইনও করেছেন মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছে লিয়ন, জুবায়ের, আরিফ, হালিমা ও তানজিল। আরও ছিলেন ফাতেমা, কামরুজ্জামান কামরুল, আব্দুল হামিদ প্রমুখ। চলচ্চিত্রটির প্রধান সহকারী পরিচালক যুবরাজ শামীম। তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে গত বছর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত জগজা নেটপ্যাক এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আম-কাঁঠালের ছুটি সিনেমার আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, এশিয়ান পারস্পেক্টিভ বিভাগে ছবিটির আরও একটি প্রদর্শনী হয় সেখানে। উৎসব কমিটি এবং উপস্থিত দর্শকও ছবিটির প্রশংসা করে।