প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৩ ১৩:১১ পিএম
অস্কারজয়ী অভিনেত্রী
জেনিফার লরেন্স। তবে প্রযোজক হিসেবেও সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করেছেন তিনি। কিছুদিন আগে
একটি সিনেমা প্রযোজনা করে হয়েছিলেন খবরের শিরোনাম। আবারও তিনি প্রযোজনার জন্যই উঠে
এসেছেন খবরের পাতায়। তবে এবার তিনি প্রযোজনা করেছেন একটি তথ্যচিত্র। ৭৬তম কান চলচ্চিত্র
উৎসবে অনেকটা গোপনেই হয়ে গেল এর প্রদর্শনী।
আফগানিস্তানের
প্রেক্ষাপটে নির্মিত তথ্যচিত্রটির নাম ‘ব্রেড অ্যান্ড রোজেস’। গত ২১ মে এ তথ্যচিত্রের
প্রদর্শনীর জন্য কানের লালগালিচায় দেখা গেল জেনিফারকে। সেখানে লাল পোশাকে তাকে মোহনীয়
রূপে দেখা গেল।
ডকুমেন্টারির
ঘটনা কোনো এক গাড়ির ভেতর। এক আফগান তরুণী এক তালেবান যোদ্ধাকে বলছিলেন, ‘আপনারা শুধু
নারীদের নির্যাতন করেন’। সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠে তালেবান যোদ্ধার হুঙ্কারÑ ‘তোমাকে
কথা বলতে বারণ করেছি। নাহলে এখানেই মেরে ফেলব!’ এরপর গলা আরও উঁচিয়ে ওই নারী বলে ওঠেন,
‘আমাকে মেরেই ফেলুন! আপনারা স্কুল আর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছেন, এর চেয়ে মরে
যাওয়াই ভালো!’
তাদের এই বাদানুবাদ
ধরা পড়েছে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায়, গোপনে। আর সেই ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করা যে সহজ ছিল
না, ফোনের কাঁপাকাঁপিতেও তা স্পষ্ট। আফগানিস্তানে তালেবানের কঠোর শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
করতে গিয়ে ওই নারী গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এরপর তাকে রাখা হয়েছিল কাবুলের একটি সেলে।
বিবিসি লিখেছে,
অস্ত্রধারী তালেবান যোদ্ধার সঙ্গে ওই তরুণীর বাকযুদ্ধের সেই ক্ষণ যে কাউকে নাড়িয়ে দেবে,
যেটা মূলত ‘ব্রেড অ্যান্ড রোজেস’ ডকুমেন্টারির একটি দৃশ্য। অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার
লরেন্স এর প্রযোজনা করেছেন।
২০২১ সালে তালেবান
আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পরের সপ্তাহগুলোতে তিন নারীর প্রাত্যহিক জীবনের চিত্র ফুটে
উঠেছে এই ডকুমেন্টারিতে। ‘ব্রেড অ্যান্ড রোজেস’-এর একটি দৃশ্যে সাহসী আফগান সেই নারীর
সঙ্গে তালেবান যোদ্ধার বাদানুবাদের মুহূর্তটি কেন তাৎপর্যপূর্ণ, বিবিসিকে সেই কথা জানিয়েছেন
জেনিফার লরেন্স।
তিনি বলেন, ‘তালেবানকে
এই নারীদের উপেক্ষা করা দেখে আমার হৃৎকম্পন বেড়ে যাচ্ছিল। নারীরা লড়াই করছে, আপনারা
গল্পের এই দিকটা দেখতে পাচ্ছেন না, এটাই আমাদের চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
বিবিসিকে লরেন্স
বলেন, ‘আফগান নারীদের হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার ভাবনটা খুবই দুঃসহ। নিজ দেশে তাদের
নিজেদের কোনো স্বাধীনতা নেই। তাদের জীবনের গল্প তাদের নিজেদের মতো করে ডকুমেন্টারিতে
তুলে আনতে সুযোগ দেওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
এই ডকুমেন্টারি
তৈরি করেছে প্রযোজনা কোম্পানি ‘এক্সলিন্টে ক্যাডাভার’। ২০১৮ সালে লরেন্স ও তার বন্ধু
জাস্টিন সিয়ারোচি এটি প্রতিষ্ঠা করেন।