× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার গায়ক নোবেল রিমান্ডে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৩ ২২:০০ পিএম

আপডেট : ২০ মে ২০২৩ ২২:১০ পিএম

মাইনুল আহসান নোবেল। সংগৃহীত ছবি

মাইনুল আহসান নোবেল। সংগৃহীত ছবি

প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

শনিবার (২০ মে) বিকালে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবীর তাকে রিমান্ডে পাঠান।

সংশ্লিষ্ট আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা শাহ আলম সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, তাকে তিন দিন রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরির্দশক হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে নোবেলের আইনজীবী করেন জামিনের আবেদন।  শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।

টাকা নিয়ে গান না গাওয়ার অভিযোগে গত মঙ্গলবার নোবেলের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করেন সাফায়েত ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। মামলায় নোবেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এই মামলায় শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারপর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

নোবেলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, নোবেল একটা অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু যান নাই। যার ফলে তারা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের কাছে এমন তথ্য আছে, তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে টাকা নেন, কিন্তু যান না। 

নোবেলকে যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তাতে বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৮ এপ্রিল শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ব্যাচ ২০১৬-এর প্রথম পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নোবেলের গান গাওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে তার সঙ্গে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। বিভিন্ন সময়ে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা নেন নোবেল। কিন্তু তিনি অনুষ্ঠানে যাননি।

গত ১৭ মে আদালত এই মামলার এজাহার গ্রহণ করে আগামী ৯ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নোবেলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। 

এর আগে নিজ কার্যালয়ে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, নোবেল একজন প্রতিষ্ঠিত গায়ক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ হাইস্কুলে সাবেক শিক্ষার্থীদের আয়োজনে গান গাওয়ার চুক্তি করে। তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেয়। নিজেও যাওয়ার কথা জানিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। কিন্তু অনুষ্ঠানে যায়নি। টাকা চাওয়ার পরে তাও ফেরত দেয়নি। এই ঘটনার পরে মামলা হয় কিন্তু সে মামলার পরেও পুলিশ কিংবা আদালতেও আত্মসমর্পণ করেনি। এছাড়া সে বিভিন্ন স্থানে স্টেজ প্রোগ্রামে গিয়ে ভাঙচুর ও মাতলামি করার অভিযোগ রয়েছে। তার এই সকল অপকর্মের বিষয়ে আমরা একাধিকবার বুঝিয়েছি। কিন্তু সে নিয়মিত মাদক সেবন করছে। স্ত্রীকে মারধর করছে। মাদকাসক্ত থাকার কারণে সে কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা দিয়েও যেতে পারে না।

এক প্রশ্নের জবাবে হারুন আরও বলেন, তার এই সকল কার্যক্রমের কারণে তার বাবা তাকে ত্যাজ্যপুত্র করেছে। উত্তরাঞ্চলে একটি অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে মাতলামি করেছে। মঞ্চ ভাঙচুর করেছে। স্ত্রীকে মারধর করেছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ রয়েছে।

নোবেলের জীবনে অধঃপতন নেমে এসেছে উল্লেখ করে ডিবিপ্রধান বলেন, নোবেলের প্রতিদিন মদপান করতে হয় এবং প্রতিদিন ৩-৪টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে তাকে ঘুমাতে হয়। তিনি আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন, অন্য শিল্পীদের কাছ থেকে মদ্যপান, গাঁজা ও ইয়াবা সেবন শিখেছেন। আমরা তার কথায় বুঝতে পারি, তিনি এসব কারণে সারা দিন ঘুমান এবং ঘুমের কারণে টাকা নিয়ে প্রোগ্রাম করতে যেতে পারেন না। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণে প্রোগ্রামের তারিখ দিলেও তিনি যেতে পারেন না।

নোবেল প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মদ্যপান করেন, তার স্ত্রীর এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে হারুন বলেন, এ বিষয়ে তার স্ত্রী বলতে পারবেন বিস্তারিত। তবে এসব অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখছি। তাকে রিমান্ডে এনে আমরা এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করব।  

শনিবার দুপুরের দিকে ডিবি কার্যালয়ে হাজির হয়ে নোবেলের সাবেক স্ত্রী মেহরুবা সালসাবিল মাহমুদ বলেন, নোবেল মাদকসেবন করে বাসায় এসে আমাকে নির্যাতন করত। একদিন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশ ডাকি। তারা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নোবেল সেই পুলিশ সদস্যদের সামনে স্বীকার করে মাদক সেবনের কারণে আমাকে মারধর করেছে। এরপর আমি গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। যদিও পরে আইনগত ব্যবস্থা নিইনি। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলায় আমাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে হুমকিও দেওয়া হয়েচে।

সালসাবিল মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, গায়ক নোবেলের মাদকাসক্তির পেছনে কয়েকজন শিল্পী ও ইন্টারন্যাশনাল রুটে চলাচল করা বিমানের এয়ার হোস্টেজ জড়িত। তারাই নোবেলকে মাদক সাপ্লাই দেয়। এমন কি তাদের এই সকল বিষয় নিয়ে আমি কথা বলায় আমাকে বিভিন্ন নাম্বার থেকে হুমকি দেওয়া হতো।

তবে তিনি জড়িত কারো নাম প্রকাশ করেননি।

উচ্ছৃঙ্খল জীবনের যত কাহিনী

ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি বাংলার ‘সারেগামাপা’ শো’র মাধ্যমে পরিচিতি পান নোবেল। তার দরাজ কণ্ঠের গায়কী মুগ্ধ করে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের। কিন্তু সেই মুগ্ধতা ধরে রাখতে পারেননি। বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করে এবং উদ্ভট সব কাণ্ড ঘটিয়ে কেবল নিন্দাই কুড়িয়েছেন তিনি। 

গত ২৭ এপ্রিল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মদপান করে গান গাইতে মঞ্চে ওঠেন নোবেল। সেখানে একটি গানের পর অসংলগ্ন আচরণ, মাইক্রোফোনের স্ট্যান্ড ভেঙে ফেলেন। এসময় বিক্ষুদ্ধ দর্শক জুতা ও পানির বোতল ছুড়ে মারলে মঞ্চ ত্যাগ করতে বাধ্য হন নোবেল। বিষয়টি সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। 

এমন ঘটনার পরপরই নোবেলকে নিয়ে মুখ খোলেন তার স্ত্রী সালসাবিল মাহমুদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ টাকার মাদক লাগে নোবেলের। এরপর নোবেলকে ডিভোর্স দেন তিনি। নোবেলকে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগও দিয়েছেন সালসাবিল। কিন্তু নোবেল মাদক ছাড়বেন না বলে স্রেফ জানিয়ে দেন। এরপরই তাকে ডিভোর্স দেন সালসাবিল।

গত বছরের আগস্ট মাসে নিজ ফেসবুক পেইজে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় সংগীত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যও করেন নোবেল। এ নিয়ে সর্বস্তরে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। তাকে পাঠানো হয় আইনি নোটিশ। এরপর পেইজ থেকে স্ট্যাটাস দুটি অপসারণ ও নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে তখন পাড় পেয়ে যান।  

এর আগে ২০২১ সালে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক ইথুন বাবুকে নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর স্ট্যাস্টাস দেন তিনি। পরে পরিচালক ইথুন বাবু নোবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর তাকে নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে এক সাংবাদিককে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার হুমকিও দেন নোবেল। পরবর্তীতে ওই সাংবাদিক থানায় জিডি করেন। তরুণ এই সংগীতশিল্পী ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট দিয়ে এবং নানা কর্মকাণ্ডে সমালোচিত হলেও বরাবরই ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা