প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৩ ১৪:০৯ পিএম
নায়ক ফারুকের মৃত্যুতে শোকাহত চিত্রনায়িকা রোজিনা। বিষণ্নতার ভার গলার স্বরে। রোজিনা বলেন, ‘ফারুক ভাই আমার কাছে স্মৃতির এক বিরাট সমুদ্র। অফুরন্ত সময় নিয়ে বললেও হয়তো সব কথা বলে শেষ করতে পারব না। তার সঙ্গে কাজ করে নায়ক দেখেছি, একজন ভাইকে দেখেছি, বন্ধুকে দেখেছি। তিনি সব কিছুর মধ্যেই নিজেকে অনন্য করে তুলতে পারতেন।’
প্রায় ২০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি ফারুকের সঙ্গে। তার মধ্যে ‘হাসু আমার হাসু’, ‘মান অভিমান’, ‘সুখের সংসার’, ‘সাহেব’, ‘শেষ পরিচয়’সহ অনেক সিনেমা।
ফারুকের সঙ্গে রোজিনার প্রথম সিনেমা ‘চোখের মণি’। সেই ছবির স্মৃতিচারণা করে রোজিনা বলেন, ‘সে ছবিতে শাবানাও ছিলেন। তখন আমি একদম নতুন। ছোট্ট একটা মেয়ে। মানিকগঞ্জে শুটিং করেছিলাম। কনকনে ঠান্ডা। শীতে কাঁপছিলাম। ফারুক ভাই এগিয়ে এসে তার পরনের চাদরটা আমাকে দিলেন। সবাইকে ধমকালেন, ‘বাচ্চা মেয়েটা শীতে কাঁপছে, কেউ দেখছ না কেন?’ তিনি আমাকে তুই তুই করে বলতেন। প্রথম সিনেমাতেই তাকে খুব আপন মনে হলো। আমাদের অনেক দুষ্টামি হতো। খাবার নিয়ে ঝগড়া করেছি। থাকার জায়গা নিয়ে ঝগড়া করতাম। আমাদের কেমিস্ট্রিটা জমে গিয়েছিল এভাবেই সিনেমায়। দর্শক আমাদের জুটি লুফে নিয়েছিল। যখন যে ছবি করেছি, সুপারহিট হয়েছে। অনেক গান আছে আমাদের রোমান্টিক।’
ফারুকের নেতৃত্বের গুণ ছিল মারাত্মকÑ এমন দাবি করে রোজিনা বলেন, ‘ফারুক ভাই আমাকে ব্ল্যাক ডায়মন্ড বলে ডাকতেন। আমার অভিনয়ের খুব প্রশংসা করতেন। ইন্ডাস্ট্রির অনেক মানুষের জন্য তিনি কাজ করেছেন। আমার জন্যও অনেক করেছেন। কোনটা রেখে কোনটা বলব। যখন বারিধারা নতুন হলো। সেখানে শিল্পীদের জন্য প্লট বরাদ্দ চলছিল। সেসব আমি জানতামও না। ফারুক ভাই আমাকে ফোন করে বললেন, ‘২৫ হাজার টাকা পাঠা। বারিধারায় প্লট কিনব তোর জন্য।’ আমি বললাম, ‘টাকা তো প্রযোজকদের কাছ থেকে নিতে হবে।’ তিনি সেটা শুনে নিজেই আমার প্রযোজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব টাকা জমা দিয়ে কাগজপত্র করলেন, আমার সিগনেচার নিয়ে জমা দিলেন। পরে দেখা গেল প্লট আমি সেখানে পাইনি। ফারুক ভাই খুব বিরক্ত হয়েছিলেন। তিনি ওই প্রকল্পের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে, তর্ক-বিতর্ক করে আমার জন্য উত্তরায় প্লটের ব্যবস্থা করেন। সেখানেই আমি এখন বাড়ি করে থাকছি। আমি তো কিছুই বুঝতাম না, জানতামও না। ফারুক ভাইয়ের জন্যই এটা হয়েছে। উনি এমনভাবে অনেক উপকার করেছেন অনেকের জন্য।’
‘শেষবার চার মাস আগে ভিডিও কলে উনাকে দেখেছিলাম। শেষ কথা হয়েছি গেল বছরের জুন মাসে। অনেক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অবশেষে চলে গেলেন। খুব খুশি হয়েছিলেন রাজবাড়ীতে আমি মসজিদ করেছি শুনে। ইচ্ছে ছিল মসজিদটা তিনি ঘুরে দেখবেন। নামাজ পড়বেন। ফারুক ভাইকে আমি মসজিদটা দেখাতে পারিনি। দোয়া করি ফারুক ভাইকে আল্লাহ জান্নাতবাসী করুন। তিনি চিরকাল আমার কাছে সেরা নায়ক, ভাই ও বন্ধু হয়ে থাকবেন’ যোগ করেন রোজিনা।