প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৩ ১৩:৫৪ পিএম
আপডেট : ১৬ মে ২০২৩ ১৪:০৮ পিএম
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আরও একটি নক্ষত্রের পতন। না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন সবার প্রিয় ‘মিয়া ভাই’। সোমবার (১৫ মে) সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে।
কিংবদন্তি চিত্রনায়ক ফারুকের মৃত্যুতে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু শোক প্রকাশ করে বলেন, 'ফারুক ভাইয়ের সঙ্গে আমি অসংখ্য হিট সিনেমা করেছি। যেগুলো করতে যেয়ে তার সঙ্গে আমার বড় ভাই ছোট ভাইয়ের সম্পর্ক হয়ে যায়। তাকে নিয়ে বলতে গেলে অনেক কিছুই বলতে হবে। তার বিদায়বেলায় শুধু এটাই বলব। একজন নায়ক ফারুক আর আসবে না। তার সঙ্গে কাজ করার মতো আনন্দ দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে কারো সঙ্গে পাইনি। তিনি ছিলেন একজন হৃদয়ের মানুষ। তিনি হৃদয়ের ভাষা বুঝতেন। সিনেমায় অভিনয় করার জন্য তার কোনো চাহিদা ছিল না। আমার সঙ্গে যে কয়টি সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন, সবগুলো সিনেমা চুক্তি করার আগে একটি বিষয় তিনি চুক্তি করে নিতেন। সেটি হচ্ছে আমার বৌয়ের হাতের খুদের ভাত আর শুঁটকি ভর্তা শুটিং স্পটে তার চাই চাই। যার জন্য স্পটে ঢুকেই তিনি বড় গলায় আমাকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, 'ঝন্টু মালটা কি আসছে।' এরপর আমি বাটি নিয়ে তার কাছে যেতাম সে নিজের হাতে মন ভরে খাওয়া দাওয়া করত, তারপর শুটিং শুরু হতো। আমার বৌয়ের হাতের রান্না তার খুব পছন্দ ছিল। এখন আমার বৌও নেই, আর ফারুক ভাইও নেই। ফারুক ভাইয়ের আরেকটি গুণ ছিল। যেটি আমি কারো মধ্যে এখন পর্যন্ত দেখিনি। সেটি হলো তিনি কখনও পারিশ্রমিক নিয়ে ঝামেলা করতেন না। আমার বেশকিছু সিনেমার বাজেট নিয়ে সমস্যা হয়। যেগুলো ফারুক ভাই পারিশ্রমিক ছাড়াই করে দিয়েছিলেন। সেসব সিনেমার কাজ শেষ করে, শুধু এইটুকু বলতেন, 'কিরে টাকা পয়সা কিছুই দিবি না? ফ্রি ফ্রি করাই নিলি। হিট হইলে স্মরণ করিস।' তার মতো এমন অভিনেতা, ব্যক্তি মানুষ আমাদের দেশে আর আসবে না। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। আল্লাহ তাকে বেহশত নসিব করুন।
আমাদের সবারই একদিন পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু ফারুক ভাইদের মতো সাদা মনের মানুষদের চলে যাওয়াটা শুধুই সময়ের নিয়ম। তারা আছেন বাংলার আকাশে বাতাসে। তাদের ভুলে যাওয়া সম্ভব না। আর তাদের যদি নতুন প্রজন্ম ভুলেই বসে। তাহলে সেদিন ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশের সিনেমার জন্য তার অবদান চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।
সুজন সখী সিনেমা দিয়ে ফারুক হয়ে উঠেছিলেন দর্শকদের প্রাণের সুজন'