সাক্ষাৎকার
মৌসুম আহমেদ
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৩ ১৩:২১ পিএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৩ ১৩:১৪ পিএম
নাসির উদ্দিন খান। অভিনয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। তবে নামের রোশনাইটা ছড়াল সম্প্রতি। অল্প কিছু কাজ করেই প্রমাণ দিয়েছেন তিনি একজন জাত অভিনেতা। কখনও তিনি মহানগরের কায়সার, কখনও তিনি সিন্ডিকেটের অ্যালেন স্বপন। তিনি দেখা দিয়েছেন চোর, ডোম কিংবা মাফিয়ার চরিত্রে। সম্প্রতি ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ সিরিজে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি তার এই অভিনয়ের পথচলা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে। লিখেছেন মৌসুম আহমেদ-
‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ দিয়ে আলোচনার তুঙ্গে। অনুভূতি কেমন?
এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। বলতে হচ্ছে তাই বললাম। কিন্তু আমি ভেতর থেকে যে শান্তি অনুভব করছি, সেটা বোঝানো সম্ভব নয়। যতটা চেয়েছি তার থেকেও অনেক বেশি পেয়েছি। সত্যি বলতে এই অনুভূতিটা স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর।
‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ সিরিজে অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের কণ্ঠে তৈ তৈ গান দিয়ে বাজিমাত করেছেন। কেমন ছিল সে গানের পেছনের গল্পটা।
গানের পেছনের গল্পটা বেশ কাকতালীয় ছিল। তৈ তৈ শব্দটি আসলে সংলাপে ছিল। গায়ক ও সংগীত পরিচালক খৈয়াম সানু সন্ধি যখন এই ওয়েব সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কাজ করছিল, তখনই সন্ধির মাথায় তৈ তৈ শব্দটি ঘুরছিল। তখন তিনি ডিরেক্টরকে বললেন যে এই তৈ তৈ নিয়েই কোনো গান করা যায় কি না। তখন শিহাব ভাইও রাজি হয়ে গেলেন। গানের কিছু অংশ আমার গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সন্ধি ভাইয়ের সিদ্ধান্তে আমিই পুরো গানটি করি। গানটিতে ফাইনালি কণ্ঠ দেওয়ার আগে আমি ঘণ্টা দুয়েক রিহার্সাল করেছিলাম। এভাবেই তৈ তৈ গানটি গাওয়ার সৌভাগ্য হয় আমার।
মিথিলার সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা?
মিথিলা খুব ভালো একজন সহশিল্পী। সে অনেক বেশি সাপোর্ট দিয়েছে। না হলে হয়তো এমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কেমিস্ট্রি দেখানো সম্ভব হতো না। যদিও মিথিলার সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। শিহাব ভাইসহ পুরো টিমের সহযোগিতাই আসলে আমার কাজগুলো অনেক সহজ করে দিয়েছে।
একজন নাসির উদ্দিন খান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে আপনার সংগ্রামের গল্প জানতে চাই?
সংগ্রামের এই গল্পটা বেশ দীর্ঘ। একদিনে বলে শেষ করা যাবে না। আমি ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নিয়মিত থিয়েটার করেছি। এরপর ২০১৬ সালে ঢাকায় আসি। ইচ্ছা একটা ছিল- সেটা পর্দায় কাজ করা। যদিও আমি এর আগেও পর্দায় কাজ করেছি চিটাগং থাকতে। ২০১০ সালের পর প্রায় ৫-৬টা শর্টফিল্ম করেছি, ৩টা টিভি নাটক করেছি। একটা সিনেমা করেছি। এগুলোকে পুঁজি করেই মূলত আমি ঢাকায় আসি। অন্যদিকে আমি ২০০১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬-৭টা চাকরি করেছি। সত্যি বলতে চাকরিতে আমার কোনোভাবেই মন বসছিল না। সংসারেও বেশ টানাপড়েন চলছিল। কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আর আমি আমার প্যাসন থেকে সরেও আসতে পারছিলাম না। অবশেষে একটা রিস্ক নিয়েই অভিনয়ে মনোনিবেশ করলাম। তার পর সেই ২০১৬ সাল থেকেই কাজ করে করে আজকের পর্দায় অ্যালেন স্বপন হতে পেরেছি। তবে আমি এখনও স্ট্রাগল করছি। সামনে আরও ভালো কিছু করার অপেক্ষায়। এই যুদ্ধটা চলতেই থাকবে।
সব সময় কি একই ঘরানার চরিত্রে অভিনয় করবেন?
আমি কখনই একই ঘরানার চরিত্রে অভিনয় করতে চাইনি। আমি চেয়েছি মানুষ আমাকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখুক। শুধু নেগেটিভ চরিত্রেই মানুষ আমাকে দেখুক তা আমি চাই না। আমি সব চরিত্রেই কাজ করে যেতে চাই।
কাছের মানুষের কাছ থেকে কতটুকু ভালোবাসা ও সাপোর্ট পাচ্ছেন?
ফুল সাপোর্টই পাচ্ছি এখনও। পরিবার ও বন্ধুবান্ধব থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি তা বলে বোঝাতে পারব না। আমরা ৬ ভাইবোন, আমার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে সবার কাছ থেকেই আমি পুরো সাপোর্ট ও ভালোবাসা আগেও পেয়েছি, এখনও পাচ্ছি। সত্যি বলতে কখনও কাছের মানুষের কাছ থেকে সাপোর্ট না পেলে কেউ কখনও কিছু করতে পারে না। না ব্যবসা, না চাকরি- না কোনো কিছু। সে ক্ষেত্রে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। কাছের মানুষ, পরিবার ও সবার ভালোবাসা নিয়ে আমি আরও বহুদূর যেতে চাই। আরও ভালো ভালো কাজ করতে চাই।
ব্যক্তিগত জীবন ও অভিনয়ের ক্ষেত্রে কাকে আদর্শ মানেন?
আমার যাবতীয় আদর্শ, মডেল কিংবা মেন্টর যদি বলি, তিনি আমার বড় ভাই, আমানউল্লাহ খান। আমার ব্যক্তিগত জীবনে তিনিই আমার আদর্শ। আর অভিনয়ের ক্ষেত্রে অনেকেই আমার আদর্শ আছেন। এই যেমন ধরেন দেশের মধ্যে গোলাম মোস্তফা, সুবর্ণা মোস্তফা, হুমায়ুন ফরীদি, এটিএম শামসুজ্জামান, চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিমসহ অনেকেই। দেশের বাইরে উত্তম কুমার, অমিতাভ বচ্চনসহ অনেকের অভিনয় মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করি। তবে অভিনয়ের দিক থেকে আমি কখনই কাউকে পুরোপুরি অনুসরণ করিনি। তারা শুধুই আমার আদর্শ মাত্র।
ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
এই পর্যন্ত আমি যে এই জায়গায় এসেছি, আমি কখনই ভাবিনি যে আমি নিজেকে ভবিষ্যতে কোথায় দেখতে চাই বা কতটুকু সফল হতে চাই। সেটা আমার পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ছিল না কিংবা কর্মক্ষেত্রেও ছিল না। আমি শুধু চেয়েছি পরিবার নিয়ে একটু সচ্ছলভাবে বেঁচে থাকতে। আবার দেখা গেল আমি অনেক উপরে চলে গেলাম, কিন্তু আমার কাজ মানুষ পছন্দ করল না। সেটাও আমি চাই না। আমার কখনই কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল না। আমি শুধু সুস্থ থেকে, সবার ভালোবাসা আর দোয়ায় কাজ করে যেতে চাই।
সামনে আর কী কী কাজ আসছে?
খুব সম্প্রতি চয়নিকা চৌধুরীর প্রহেলিকায় আমাকে দেখা যাবে। আরও একটি কাজ করেছি আমি। সেটি হলো নরিন্দান মিঠুর ‘পাতাল ঘর’। এটার কাজ শেষ। শুনলাম এটি বেশকিছু ফেস্টিভ্যালেও যাচ্ছে। তবে সেটা কবে আমাদের দেশে মুক্তি পাবে জানি না। পাশাপাশি আরও একটা কাজ চলছে, ইকবাল হোসাইন চৌধুরীর পরিচালনায় একটা ছবি। যেটার আপডেট পরে জানাব।