মৌসুম আহমেদ
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৩ ১১:২৯ এএম
সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা তিনি। কখনও সুইপার, কখনও লেগুনাচালক; আবার কখনও-বা পোস্টম্যানের চরিত্রে দেখা দিয়ে দর্শক মাতিয়েছেন। বৈচিত্র্যময় এসব চরিত্র তাকে সব শ্রেণির দর্শকের কাছে প্রিয় করে তুলেছে। তিনি মুশফিক আর ফারহান। সম্প্রতি ‘আক্ষেপ’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করেছেন। এখানে তাকে দেখা গেছে একজন তরুণ প্রতিবন্ধীর চরিত্রে। নাটকটি ঈদে আলাদা করে নজর কেড়েছে সবার। প্রশংসিত হয়েছেন ফারহান। সম্প্রতি আবারও কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এই অভিনেতা। তার কাজের ব্যস্ততা ও নানা জানা-অজানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিদিন বাংলাদেশ-এর সঙ্গে। লিখেছেন মৌসুম আহমেদ...
‘আক্ষেপ’ নাটকে প্রতিবন্ধী চরিত্রে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন। এ চরিত্রে নিজেকে তৈরি করার জার্নিটা কেমন ছিল?
গল্পটা আসলে একদিনে বলে শেষ করা যাবে না। শুধু এতটুকু মনে পড়ে ‘আক্ষেপ’ নাটকের গল্পটা অনেক আগে আমার সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন ডিরেক্টর বান্নাহ ভাই। গল্পে আমার চরিত্রটি ছিল একজন প্রতিবন্ধীর। ওই মুহূর্তে চরিত্রটি নিজের মাঝে ধারণ করার মতো কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তখন আমার শারীরিক যে গঠন ছিল, সেটা চরিত্রটির সঙ্গে বেমানান। তাই আমি বান্নাহ ভাইয়ের কাছে সময় চেয়ে নিয়েছিলাম। তার পর যখন নতুন করে কাজটি শুরু করি আমরা, তখন নিজেকে চরিত্রটির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। একজন প্রতিবন্ধীর শারীরিক ও মানসিক বিষয়গুলো নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। তার পরও কোথাও যেন কমতি মনে হচ্ছিল। ঠিক ওই মুহূর্তে আমার মাথায় একজনের নাম আসে। ছেলেটির নাম সাদ্দাম। প্রতিবন্ধী। থাকে নারায়ণগঞ্জে। ওর সঙ্গে আমার প্রায়ই কথা হতো, দেখা হতো। তখন আমার কেন জানি মনে হলো, আমি তো ওর চরিত্রটিই আমার মধ্যে ধারণ করতে পারি? তখন থেকেই আমি ওর অঙ্গভঙ্গিগুলো পিক করার ট্রাই করলাম। দর্শক আমাকে ফাইনালি সেই চরিত্রেই দেখতে পেয়েছে।
চরিত্রটিতে শুটিং করতে গিয়ে কোনো স্মরণীয় ঘটনা মনে আছে কি?
মনে রাখার মতো অনেকগুলো ঘটনাই ছিল। তার ভিড়ে একটা ঘটনা আমার আজীবন মনে থাকবে। একবার ভাবুন, যখন আমি প্রতিবন্ধীর চরিত্রটিতে অভিনয় করছিলাম তখন আমাকে হাত শক্ত করে বাঁকা করে, মুখ বাঁকা করে, পা একটু ফাঁক করে চলাফেরা করতে হয়েছে যেটা কি না একজন সাধারণ মানুষ বড়জোর ৫ মিনিট করতে পারবে। আমাকে সেই অঙ্গভঙ্গিগুলো টানা তিন-চার দিন করতে হয়েছে। তার ওপর ছিল রোজা, ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা। এমন পরিবেশ-আবহাওয়ায় সেই চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে আমার যে কষ্টটা করতে হয়েছে, আমি কোনোদিন তা ভুলব না। আবার এটাও মনে থাকবে, অনেক কষ্টের পর এই চরিত্রটি আমাকে আনন্দ দিয়েছে, তৃপ্তি দিয়েছে। ভালো চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারলে প্রশংসা মেলে, এটাই বাস্তব কথা।
এমন চরিত্রগুলোতে কাজ করা বেশ চ্যালেঞ্জের। সেই চ্যালেঞ্জ জয় করার উৎসাহটা কোথায় পান?
এটা ভালো কাজের প্রত্যাশা থেকেই চলে আসে। এক একটা গল্প ও চরিত্র এক একটা বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তৈরি হয়। সেই বিষয়গুলোর গুরুত্ব দিতে পারলে কাজটা সহজ হয়ে যায়। যেমন ‘আক্ষেপ’ নাটকটির ক্ষেত্রে বেশি গুরত্ব দিতে হয়েছে আমার লুকে। তা ছাড়া আমি জ্বীনের বাদশাহ সেজেছি, আবার কখনও বিকাশ কলসেন্টার এজেন্ট হয়েও অভিনয় করেছি। যখন যেখানে যেটা দরকার, সেখানে সে অনুযায়ী আমাকে কাজটা করতে হয়েছে। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের যে আগ্রহ, সেটা আমাকে উৎসাহিত করে। আর দর্শকের ভালোবাসার প্রত্যাশা।
আরজে থেকে অভিনেতা। অভিনয় শুরুর সময়টাতে যে ফারহান আর এখনকার ফারহানের মধ্যে কতটুকু পার্থক্য খুঁজে পান?
সত্যি বলতে পার্থক্যের কথা যদি বলতে যাই তবে বলব ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, পরিশ্রমের ইচ্ছেটা বেড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই আমি নিজেকে আবিষ্কার করছি। দিন যত যাচ্ছে নিজেকে তত সেরা করার চেষ্টা করছি। সামনে আরও চ্যালেঞ্জিং কাজ আসবে, সেগুলোও আমাকে করে যতে হবে। নিজেকে আরও পারফেক্ট করে তোলার চেষ্টা করতে হবে। আমার অভিনয়ের ক্যারিয়ারের বয়স মাত্র ৪ বছর। অনেক কিছুই এখনও শেখা বাকি।
প্রতিযোগিতায় পূর্ণ এই ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে আপনার সংগ্রামের গল্প জানতে চাই
এই গল্পটা বলে কোনোদিন শেষ করা যাবে না। এই সংগ্রাম অনেক পথ পাড়ি দেওয়ার। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে পথচলার। এটা বলব না যে আমি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি। আমি এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই চলার পথে সব সময় মাথায় একটা কথাই রাখি, ‘ইউ হ্যাভ টু ফাইট’।
ওটিটি ও বড় পর্দা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা কি আছে?
ভালো কাজ পেলে করব। এই তো। পরিকল্পনা করে কাজ হয় না আসলে। ভালো কাজ আসতে হয়। দেখা যাক, একটা ভালো কাজের সঙ্গে কবে দেখা হয়।
অভিনয়ে আপনার আদর্শ বা প্রেরণা কে?
আমার অনেক পছন্দের অভিনেতা আছেন। দেশের বাইরে নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকীর অভিনয় আমার ভীষণ ভালো লাগে। বলতে পারেন তিনি আমার অনুপ্রেরণা। আর দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট একজন বা দুজন নয়, অনেক প্রিয় অভিনেতা আছেন আমার। তাদের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হই, শিখি। বিশেষ করে মোশাররফ করিম ভাই, চঞ্চল ভাই, ফজলুর রহমান বাবু ভাইয়ের কাজ খুব ভালো লাগে। আরও অনেকেই আছেন সেই তালিকায়।
আপনার প্রিয় ব্যক্তিত্ব?
মা। মা আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব, জীবনের সবচেয়ে মধুর আশ্রয়।