প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৩ ১২:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৪ মে ২০২৩ ১২:৫৯ পিএম
মহাকাল নাট্যসম্প্রদায়ের প্রযোজনায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাপুড়ে’র আশ্রয়ে মানবপ্রেমের অমর উপাখ্যান ‘নীলাখ্যান’-এর ৭১তম মঞ্চায়ন আজ। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে আজ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। আনন জামান রচিত নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন ইউসুফ হাসান অর্ক।
এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন পলি বিশ্বাস, সম্রাট, রিপন রনি, সবুজ হোসেন, কোনাল আলী সাথী, শাহিনুর প্রিতী, নূর আক্তার মায়া, কানিজ ফাতেমা লিসা, আমিনুল আশরাফ, শিবলী সরকার, স্বপ্নিল, রাকীব হাসান, তারক দাস, মো. আহাদ, রাসেল আহমেদ, পারভীন সরকার, ইকবাল চৌধুরী, মনিরুল আলম কাজল, মো. শাহনেওয়াজ এবং মীর জাহিদ হাসান।
‘নীলাখ্যান’ নাটকের গল্পে তুলে ধরা হয়েছে বেদে সর্দার জহরের বিষ জয় সাধনায় মনসা কর্তৃক কাম নিষিদ্ধ বলে তার ভাষে-আভাসে প্রত্যাখ্যাত ভালোবাসার মানুষ বিন্তি রানী আত্মহত্যা করে আড়ালি বিলে রাশি রাশি শাদা শাপলার বনে। বেদে বহরে বেড়ে ওঠা সাপেকাটা মান্দাস ভাসা বালিকা চন্দনের চুলের আড়ে বিন্তির সুরভি পায় জহর। নারী নিষিদ্ধ বলে এ বালিকা বেড়ে উঠছিল বালকের বেশে। যাকে সন্তান করেছিল জ্ঞান। ঋতুমতি হয়ে ওঠার পর তার প্রতি প্রবল রতি অনুভব করে জহর। বেদে দলে তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বিচিত্রমুখী সংকট।
চন্দনের যুবা সাজে তাকে প্রেম নিবেদন করে মৌটুসী আর চন্দন ঠোঁটে মালতি ফুলের লাল ডলে ঝুমরোর সামনে দাঁড়ায়। বেদেদের উৎসবে চন্দনের নারীত্ব উন্মোচন হলে দলের অতিপ্রাকৃত বৃদ্ধ ঘণ্টাবুড়ো বেদে দল ও জহরকে তিনটি অনিবার্য ভবিতব্যের ঘোষণা দেয় ‘ভবিতব্যের তিন রূপ কহি যে ভাতের পাতিল নেবার জন্য জলে ডুবেছে বিন্তি তা অন্যরে দিকে চেয়ে পতিত হবি তুই। অথবা তোর আচরে বিন্তির অনুগামী হবে চন্দনে। আর যদি না হয় তা তবে আছে তৃতীয় জন তার হবে মৃত্যু। মৃত্যু অনিবার্য, তবে তা কার হবে তোর কার্যকরণ হবে থির। সামগ্রিক দৃশ্যকাব্যে ক্ষণে ক্ষণে তিনটি ভবিতব্য ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে ওঠে। যাকে পিতা মানে, তাকে পতি মেনে নিতে পারে না চন্দন। ঝুমরোর জন্য জহরের ঝাঁপিতে আছে দাঁত না-ভাঙা পোষা সাপ। শাওনের অখণ্ড চাঁদের সাঁজবেলায় আকাশজুড়ে যেন মনসার নীল মুখচ্ছবি ভেসে ওঠে। জহরের অন্তরে তখন বাজে চন্দন চেয়েছিল গাঢ় নীল রঙের ফতুয়া। সে ক্ষণে এক শ’তম সাপের দংশন নেবে জহর মন্ময় নীলের দোলাচলে সে চিত্রল ফণায় টোকা দিয়ে সাপটিকে ক্রোধমত্ত করে তোলে। একটি সাপের বিষ বুকে সয়ে জহর হত হয় কাম আর প্রেমের দংশনে। ‘নীলাখ্যান’ নাট্য জহরের পরাণ আর চৈতন্যের গোপন পাত্রের রতি আর আরতির নাট্য।