প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৩ ১২:৩৪ পিএম
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইনসে অস্ত্রগুদামের দায়িত্ব ছিল তৎকালীন এসপি শামসুল ইসলামের কাছে। যুদ্ধের একপর্যায়ে পাকিস্তানি আর্মিরা তার কাছে গুদামঘরের চাবি চেয়েছিল। কিন্তু তিনি তাদের কৌশলে সরিয়ে রেখে সব অস্ত্র চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ছড়িয়ে দেন। তার এই বীরত্বগাঁথা নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘দামপাড়া’।
গত ১৮ এপ্রিল সিনেমাটি প্রদর্শনের জন্য সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে গত ২ মে সেন্সর ছাড়পত্রের কপি হাতে পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নাট্যকার ও গবেষক আনন জামান। সিনেমাটির চিত্রনাট্য ও সংলাপও লিখেছেন আনন জামান। পরিচালনা করেছেন ‘শুদ্ধমান চৈতন’।
সেন্সরপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে আনন জামান বলেন, ‘সেন্সরপ্রাপ্তি অবশ্যই বিশাল আনন্দের বিষয়। এখন সিনেমা মুক্তির প্রক্রিয়া হিসেবে বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি আসছে কুরবানির ঈদে সিনেমাটি মুক্তি পাবে।’
‘দামাপাড় ‘ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ ও আশনা হাবিব ভাবনা।
সিনেমাটি প্রসঙ্গে চিত্রনাট্যকার আনন জামান বলেন, ‘সত্তরের নির্বাচনের পর বঙ্গবন্ধুর বিজয় অর্জনের পর সাকা চৌধুরীর পরিবার চট্টগ্রামে খুব হিন্দু নির্যাতন শুরু করলে, বঙ্গবন্ধু এসপি শামসুল ইসলামকে সিলেট থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। যখন যুদ্ধ শুরু হয় পাকিস্তানিদের লক্ষ্যই ছিল কী করে এসপি শামসুল ইসলামকে খুন করা যায়। শেষ পর্যন্ত তাকে অবর্ণনীয় নির্যাতনের মাধ্যমে খুনও করে পাকিস্তানিরা। কিন্তু তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায় না। স্বামীহারা স্ত্রীর বর্ণনায় গল্পটি বড় পর্দায় দেখতে পাব আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘চরিত্র নির্বাচনে ফেরদৌসকে আমরা বেছে নেই এ কারণে যে, তার যে পরিণত লুকটা এসেছে তা আমাদের প্রয়োজন ছিল। তা ছাড়া পর্যাপ্ত সময় তার হাতে থাকায় চরিত্রটির জন্য তাকে তৈরি করতেও সুবিধা হবে। তাকে সচরাচর যে রোমান্টিক হিরো হিসেবে দেখা যায়, তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে অন্য এক ফেরদৌস ধরা দেবেন এখানে। অন্যদিকে ভাবনাকে বরাবরই দেখে এসেছি নায়িকা হওয়ার চেয়ে অভিনয়শিল্পী হওয়ার প্রতি তার মনোযোগ ছিল। মূলত এ কারণেই তাকে চলচ্চিত্রটিতে নেওয়া হয়েছে।’
এতে অভিনয় প্রসঙ্গে ফেরদৌস বলেন, ‘এসপি শামসুল ইসলামের মতো এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে আমি ভীষণভাবে গর্বিত। আমি সিনেমাটির মুক্তির অপেক্ষায় আছি।’ ভাবনা বলেন, ‘কো-আর্টিস্ট হিসেবে ফেরদৌস ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করে ভীষণ ভালো লেগেছে। চৈতনও সিনেমাটি নির্মাণে অনেক শ্রম দিয়েছে। কাজ করে আমি তৃপ্ত।’