প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৩ ১২:০১ পিএম
ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর সিনেমা ঘিরে তৈরি হয় আগ্রহ। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবারের রোজার ঈদে মোট আটটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে। সংখ্যার বিচারে আশাব্যঞ্জক হলেও, কেমন সাফল্য পাচ্ছে সিনেমাগুলোÑ এমন প্রশ্ন অনেকের। তবে ঈদের দিন থেকে মোটামুটি সবগুলো সিনেমা নিরাশ করেনি। ঈদের দিন হাউসফুলের খবর নিশ্চিত না হওয়া গেলেও বেশির ভাগ হলই পঞ্চাশ ভাগের বেশি দর্শক পেয়েছে। তাতেই হল কর্তৃপক্ষ খুশি।
এবার হল সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে আছে শাকিব খানের ‘লিডারÑ আমিই বাংলাদেশ’। উৎসবের বাইরে দেশে টিকে থাকা হলের সংখ্যা ৬০ প্লাস হলেও, এই ঈদে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে একশ হলে! বিশেষ করে দেশের প্রায় সব ভালো ও বড় হল দখলে নিয়েছে ‘লিডার’। ফলে প্রথম দিন থেকেই ছবিটিকে ঘিরে হল মালিকদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
এ ছাড়াও মুক্তি পেয়েছে বাপ্পী চৌধুরীর ‘শত্রু’, অনন্ত জলিলের ‘কিল হিম’, বুবলীর ‘ লোকাল’, অপু বিশ্বাসের ‘ প্রেম-প্রীতির বন্ধন’, পূজার ‘জ্বীন’, রোশানের ‘পাপ’ ও ইয়াশের ‘আদম’।
ঈদের প্রথম দিনে মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে ভালো সাড়া মিলেছে ‘লিডার’, ‘জ্বীন’, ‘কিল হিম’, ‘ লোকাল’ ও ‘আদম’ ছবিটির পক্ষে। অন্যদিকে সিঙ্গেল স্ক্রিনে সাড়া মিলছে ‘লিডার’ ও ‘শত্রু’র।
রাজধানীর আজাদ, গীত, মধুমিতা, স্টার সিনেপ্লেক্স, লায়ন্স, শ্যামলী, সৈনিক ক্লাব, বগুড়ার মধুবন, নারায়ণগঞ্জের নিউ মেট্রো, সিনেস্কোপ ও গুলশান সিনেমা হল, কেরানীগঞ্জের নিউ গুলশান, জয়পুরহাটের নাজমাÑ এসব হলের সঙ্গে কথা বলে মিলেছে সন্তুষ্টির খবর।
এর মধ্যে দেশজুড়েই এগিয়ে আছে শাকিব খান-বুবলী জুটির ‘লিডারÑ আমিই বাংলাদেশ’ সিনেমাটি। এর পরই নাম চলে এসেছে বাপ্পী-মিতুর ‘শত্রু’র। বাকি সিনেমাগুলো মাল্টিপ্লেক্সে চলছে ভালোই।
এবারের রোজার ঈদে জাজ মাল্টিমিডিয়া তাদের দুটি সিনেমা মুক্তি দিয়েছে। একটির নাম জ্বীন, অন্যটি পাপ। সিনেমা দুটি মুক্তির আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে। তবে নির্মাতা ও অভিনেতা নাদের চৌধুরী পরিচালিত ভৌতিক সিনেমা ‘জ্বীন’ একটু বেশিই আলোচনায়। এর কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, সিনেমাটির প্রচার ও প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী ও অভিনেতা।
সিনেমাটির বেশকিছু শো ইতোমধ্যে হাউসফুল হয়েছে বলে দাবি নির্মাতা নাদের চৌধুরীর। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘জ্বীন একটি সত্য ঘটনার আধারে নির্মিত। অনেক প্রতীক্ষিত ও সবার আগ্রহের সিনেমা জ্বীন। সিনেমাটি মুক্তির আগেই দর্শক মহলে বেশ সাড়া ফেলে। যা মুক্তির পরেও অব্যাহত আছে। হলে হলে সিনেমাটি দেখার জন্য লাইন ধরে দর্শকদের আমরা অপেক্ষা করতে দেখি। তাই আশা করা যায়, আগামী সপ্তাহে ১৫টি থেকে সিনেমা হল আরও বৃদ্ধি পাবে।’
সাইকো থ্রিলার গল্পের সিনেমাটিতে একজন ফ্যাশন ফটোগ্রাফারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সজল। আর মোনালিসা চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা।
সজলের সঙ্গে এর আগে শিশুশিল্পী হিসেবে একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন পূজা। তবে এবারই প্রথম নায়িকা চরিত্রে সিনেমায় সজলের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন। সিনেমাটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত তারা।
জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত এ সিনেমায় সজল-পূজা ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন জিয়াউল রোশান, মুন, সুজাতা, বেবি, রফিক, নবী, হিরা প্রমুখ।
এদিকে ঈদে মুক্তি পাওয়া ৮টি ছবির মধ্যে ৬টিই চালাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স। প্রথম দিনের সিনেমাগুলোর টিকিট বিক্রিতে স্বস্তিবোধ করলেন মিডিয়া অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। দিলেন ব্যতিক্রম তথ্য। বলেন, ‘‘আমাদের এখানে ‘জ্বীন’ সিনেমার প্রতিটি শো সব শাখায় প্রায় হাউসফুল। এ ছাড়া ‘লিডার’ আর ‘কিল হিম’র অবস্থা বেশ ভালো। ‘আদম’ ও ‘ লোকাল’ সিনেমা দুটিও প্রথম তিন দিন খারাপ যায়নি। আগামী দু-একদিনের মধ্যে দর্শক চাপ আরও বাড়বে বলে আমরা অনুভব করছি। কারণ, সবগুলো ছবিরই অগ্রিম টিকিট সংগ্রহের আগ্রহ পাচ্ছি দর্শকদের কাছ থেকে।”
সর্বশেষ তথ্যমতে, ঈদের তৃতীয় দিনে এসে দর্শকের চাপে রাজধানীর ব্লকবাস্টারে লিডারের শো ৩টি থেকে বেড়ে হয়েছে ৫টি। তবে সারা দেশের সিঙ্গেল স্ক্রিনে শাকিবের পাশাপাশি ভালোই ফাইট দিচ্ছে বাপ্পীর ‘শত্রু’ সিনেমাটি। অন্যদিকে মাল্টিপ্লেক্সে অনন্তর ‘কিল হিম’ নিয়ে অনেক প্রত্যাশা থাকলেও পূজার ‘জ্বীন’-এর প্রভাব বেশ লক্ষণীয়। বিপরীতে অপুর ‘ প্রেম-প্রীতির বন্ধন’ আর বুবলীর ‘ লোকাল’ নিয়ে উল্লেখযোগ্য আওয়াজ মেলেনি প্রথম সপ্তাহের প্রথম দিনে। মূল কারণ, হল সংকট। ১০টি হলে প্রদর্শনী হচ্ছে সিনেমাটির। ফলে বেশির ভাগ সিনেমা সংশ্লিষ্টরা অপেক্ষায় আছেন দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে।
এবার বন্ধ থাকা প্রায় শতাধিক সিনেমা হল নতুনভাবে খোলা হয়েছে শুধু ঈদের সিনেমাকে কেন্দ্র করে। এটি সিনে সংশ্লিষ্টদের কাছে বেশ স্বস্তির বার্তা। এর মধ্যে ঈদের দিন থেকে শাকিব খান-বুবলীর ‘লিডার : আমিই বাংলাদেশ’ দিয়ে খুলেছে শহরের খানপুর এলাকার নিউ মেট্রো সিনেমা হল। সজল-পূজার ‘জ্বীন’ দিয়ে খুলেছে শহরের ডিআইটি এলাকার সিনেস্কোপ এবং বাপ্পি-মিতুর ‘শত্রু’ দিয়ে প্রাণ ফিরেছে গুলশান সিনেমা হলের।
তবে বিষয়টিকে একটু ভিন্নভাবে দেখছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিন। তিনি জানান, ‘ঈদ এলেই ডিস্ট্রিবিউটররা বলেন, এই হল, ওই হল চালু করেন। মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমি যখন চলচ্চিত্র পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, তখন ১ হাজার ৪০০ সিনেমা হল ছিল বাংলাদেশে। সর্বোচ্চ সিনেমা মুক্তি পায় ১৩টি। সুপার ফ্লপ ছবিটা ৬০-৭০টি হলে রিলিজ হয়। ওই সময় তো এখন আর নেই। এবার যেটা হচ্ছে, অসম প্রতিযোগিতা। ধীরে-সুস্থে ছবি এলে ভালো হতো। পরিস্থিতি খুব সুখকর নয়।’