প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৪৮ পিএম
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৪৯ পিএম
দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদ। একজন পরিপূর্ণ অভিনেত্রীর সব গুণাবলি নিয়ে নিজেকে শোবিজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। তার সাবলীল অভিনয় মন ছুঁয়ে যায়। দর্শক হৃদয়কে তৃপ্ত করে। সব সময়ই নওশাবা চেষ্টা করেছেন স্রোতে গা না ভাসিয়ে ব্যতিক্রমী গল্প ও চরিত্রে কাজ করতে। মঞ্চ, টিভি, ওটিটি ও সিনেমা সবখানেই নিজের অভিনয়ের মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন অভিনয়ের সুবাসে।
বিশেষ করে সিনেমায় গল্পনির্ভর কিছু চরিত্রে কাজ করে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। প্রশংসা পেয়েছেন দর্শক ও চলচ্চিত্রের মানুষের কাছে। বেছে বেছে কাজ করে যাচ্ছেন নানা মাধ্যমে। নওশাবা বলেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে আমার কাজ করার যে প্রক্রিয়া, সেটি অনেকাংশেই সঠিক জায়গায় নেই দেখছি। এটা কষ্ট দেয়। এ জন্য সব কাজ করা হয় না যেসব প্রস্তাব আসে। আমি কাজ কম করতে রাজি। কিন্তু সেটা মানের হোক, ভালো হোক। আবার অনেকে একই রকম গল্প ও চরিত্রের প্রস্তাব নিয়ে আসে। এ দেশে যন্ত্রণা হলো কেউ হয়তো খল চরিত্রে ভালো করেছে। ব্যাস, তাকে শুধু খল চরিত্রের প্রস্তাবই দেওয়া হবে। এ জন্য আপাতত অপেক্ষা করছি ভালো কাজের জন্য।’
এর মধ্যে দিলেন নতুন খবর। সিনেমায় নতুন চরিত্রে নিজেকে আনতে চলেছেন নওশাবা। এবার প্রথমবারের মতো তাকে নারীকেন্দ্রিক সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা যাবে। এমন চরিত্রে এর আগে অভিনয় করেননি তিনি, এমনটাই জানালেন।
বছরের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা। নাম ‘মেঘনা কন্যা’। সিনেমাটি দিয়ে প্রথমবারের মতো পরিচালনায় নাম লিখিয়েছেন নির্মাতা ফুয়াদ চৌধুরী। সিনেমার শুটিং ইতোমধ্যেই শেষের দিকে। আর মাত্র তিন দিন শুট করার পরই প্যাকআপ করবেন নির্মাতা। এডিটিং ও ডাবিংয়ের কাজও শুরু হয়ে গেছে।

‘মেঘনা কন্যা’ সিনেমাটি নারী চরিত্রকে প্রাধান্য দিয়ে লেখা হয়েছে। যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। তার সঙ্গে এতে আরও অভিনয় করেছেন সেমন্তি সৌমি। সিনেমায় নওশাবাকে হাসি নামের একটি চরিত্রে দেখা যাবে। সেমন্তিকে দেখা যাবে প্রজ্ঞা চরিত্রে। একজন গ্রামের মেয়ে আরেকজন শহরের মেয়ে। কিন্তু দুজনের স্বপ্ন বলতে গেলে একরকমই। দুজনই নৃত্য নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। হতে চান একদিন বড় ধরনের নৃত্য শিল্পী। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নানা রকমের সামাজিক বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাদের। এমনই একটি গল্প এখানে উঠে আসবে। যেখানে ভিন্ন দুটি অবস্থান থেকে দেখানো হবে নারীর স্বপ্ন পূরণের গল্প, নারীর শেকল ভাঙার গল্প।
‘মেঘনা কন্যা’ সিনেমায় নিজের চরিত্র নিয়ে কাজী নওশাবা আহমেদ বলেন, ‘এমন একটি গল্পে আমি আগে কখনও অভিনয় করিনি। পাশাপাশি নারীকেন্দ্রিক গল্পের সিনেমাতেও প্রথম কাজ করা হলো। নারীদের গল্প নিয়ে খুব একটা কাজ আমাদের এখানে হয় না। আমি সৌভাগ্যবান, একটি ভালো গল্পের সিনেমায় সুযোগ পেলাম। এখন নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পেরেছি, সেটি দর্শক বলতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘চলচ্চিত্রটিতে আমার নাম হাসু। যার জন্ম ও বেড়ে ওঠা মেঘনা নদীর তীরে। নদীর ঠিক মাঝখানে ছোট্ট একটা দ্বীপের মতো গ্রাম উলানিয়ায় বাস করে সে। তার বাবা গায়ক আর সে নৃত্য করে। বাবার গানের তালে হাসুর নাচতে ভালো লাগে। এভাবে হাসুর মনের মধ্যে একদিন বড় নৃত্যশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন বাসা বাঁধে। সেই স্বপ্ন নিয়ে সে বেড়ে ওঠে, লড়াই করে। সমস্যা হলো গ্রামের মানুষ তার স্বপ্নের পক্ষে নেই। তার বাবার গান গাওয়াও পছন্দ করে না তারা। বাবা ও মেয়ের নামে অনেক অপবাদ ও ধিক্কার আসতে থাকে। সেটি জয় করে হাসুর এগিয়ে যাওয়ার গল্পটা সিনেমায় এসে দেখার আমন্ত্রণ জানাই।’
সিনেমায় নওশাবার বিপরীতে কে অভিনয় করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মজার বিষয় হলো এই সিনেমায় আমার বিপরীতে কেউ নেই। বলতে গেলে নায়কবিহীন এক নায়িকার চরিত্র হচ্ছে হাসু। এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমি এবং আমাদের ‘মেঘনা কন্যা’ টিম বেশ আশাবাদী। আর নির্মাতা ফুয়াদ চৌধুরী ভাইয়ের বিষয়ে বলার কিছু নেই। অসম্ভব যত্ন নিয়ে কাজটি করেছেন তিনি। তার দৃষ্টিভঙ্গি, শিল্পবোধ দর্শককে আকৃষ্ট করবে বলে আমার বিশ্বাস।’
সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে আনোয়ার আজাদ ফিল্মস ও এস জে মোশনস পিকচার্স। নওশাবা ও সেমন্তি সৌমি ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন সাজ্জাদ হোসাইন, মোহাম্মদ বারী, মিলি বাশার, ফজলুর রহমান বাবু, জয়শ্রী কর জয়া, শতাব্দী ওয়াদুদ, সানজিদা মিলা, উপমাসহ আরও অনেকে। চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য ও সংলাপ করেছেন ফাহমিদুর রহমান ও আহমেদ খান হীরক। এ বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।