× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নায়ক হতে চাইনি, অভিনয়টা করে যেতে চাই: মনোজ কুমার প্রামাণিক

কামরুল হাসান

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৩২ পিএম

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৩৩ পিএম

নায়ক হতে চাইনি, অভিনয়টা করে যেতে চাই: মনোজ কুমার প্রামাণিক

জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। অভিনয়ের পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। বিভাগটির শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মনপাচিত্র’। বর্তমান ব্যস্ততা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর মুখোমুখি হন মনোজ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন কামরুল হাসান...

আপনার ঠাকুরদাদা স্কুলশিক্ষক ছিলেন। বাবা কলেজশিক্ষক। আপনি বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষক। আপনার বাবা, নানা, মামারা যাত্রাও করতেন, মা গাইতেন গান। এদিকে আপনিও অভিনয়ে নিয়মিত। দুটি পেশাতেই কি পরিবার থেকে অনুপ্রাণিত?

আমার মনে হয় আমি পূর্বপুরুষের গণ্ডির বাইরে যেতে পারিনি। শুরুর দিকে ভেবেছিলাম আমি হয়তো ভিন্ন কিছু করছি। কিন্তু যত বয়স বেড়েছে ততই দেখতে পাচ্ছি আমি তাদের মতোই। এটা ভালোই লাগে, একটা সুন্দর অনুভূতি। সম্ভবত তারাও নিজেদের আমার মধ্যে খুঁজে পান। ফলে তাদেরও ভালো লাগে।

অভিনয়ে যুক্ত হওয়া ও আপনার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্টের গল্পটি জানতে চাই...

আকর্ষণবোধ তো অনেক আগে থেকেই ছিল। আমি কখনও চাইনি নায়ক কিংবা প্রোটাগনিস্ট চরিত্রে অভিনয় করব। থিয়েটারে পড়াশোনা করায় অভিনয় করা হয়েছে। সবাই যখন প্রশংসা করছিল তখন ভাবলাম হয়তো অভিনয়টা করতে পারব। ভালোও লাগত, উপভোগ করছিলাম। এরপর ২০১৪ সালে ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প আমার অভিনয় জীবনে একটা টার্নিং পয়েন্ট নিয়ে আসে। আমি আদনান আল রাজীবকে ধন্যবাদ দিতে চাই। তিনি আমাকে ডেকে এনে এই বিজ্ঞাপনের মডেল বানিয়েছেন। এরপর এই সিরিজের নাটক করলাম। নিঃসন্দেহে এ নাটকগুলো আমাকে দর্শকদের কাছাকাছি নিয়েছে, গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে আমি অভিনয়ের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে উঠি।

আপনি প্রচুর নাটকে অভিনয় করেছেন। টেলিভিশন, ওয়েব ফিল্ম, ওয়েব সিরিজ থেকে বড় পর্দায় কাজ করছেন। কোন মাধ্যমে কাজ করাকে উপভোগ করেন?

সবটার মজা ভিন্ন। কেউ যখন এসে ভাই বলে সম্বোধন করে বলে, ‘টিভিতে আপনার নাটক দেখি’, তখন আমার অসাধারণ অনুভূতি হয়। এটা টেলিভিশনেরই ইমপ্যাক্ট। এতে এক ধরনের মজা আছে। ওটিটি একটু ভিন্ন কাজ, ভিন্ন ক্যারেক্টার প্লে করে। সে ক্ষেত্রে অভিনয়ের প্রশংসা পাওয়া, ক্যারেক্টারের প্রশংসা পাওয়াও অনেক বড় প্রাপ্তি। আবার বড় পর্দায় যখন দর্শক আমাকে দেখে তখন আসলে আমার ক্যারেক্টারটা অনেক বড় হয়ে ধরা পড়ে। সুতরাং তিনটি তিন ধরনের ইমপ্যাক্ট। আমি বলব, সবচেয়ে গভীরতর ইমপ্যাক্ট ফেলে বড় পর্দা। তবে আমি কোনোটাকেই ছোট করে দেখছি না। সবকটারই উপযোগিতা রয়েছে।

কী ধরনের চরিত্রে কাজ করে আনন্দ পান?

আমার আকর্ষণবোধ সব সময়ই মাল্টিডাইমেনশনাল ক্যারেক্টার প্লে করা। তবে হয়েছে কি, দর্শক আমাকে চিনেছেন ক্লোজআপ কাছে আসার গল্পের মাধ্যমে। এতে আমি রোমান্টিক বয় হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলাম। তাই তখন দর্শক চেয়েছেন, ডিরেক্টর চেয়েছেন, চ্যানেল চেয়েছে তাই সে রকম ক্যারেক্টারেই নাটক করেছি। এখন ওটিটি আসায় এবং সিনেমায় সুযোগ পাওয়ায় ভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি।

কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন কিসের ওপর ভিত্তি করে?

আমি সবার আগে দেখি ডিরেক্টর কে। এরপর দেখি গল্পে আমার ক্যারেক্টার কী। তৃতীয়ত হচ্ছে গল্পটা কী। চতুর্থত, এ গল্প এবং বাজেট বিবেচনা করি।

ডিরেকশন দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি?

আছে। তবে এখন নয়। দেখুন ডিরেকশন তখনই দিতে চাই যখন আমার মনে হবে ডিরেকশন না দিলে আমি এখন মরে যাব।

‘মনপাচিত্র’ নামে আপনার একটি প্রোডাকশন হাউসও আছে। এর কার্যক্রম কেমন চলছে?

আমার বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্যোগে কিছু কাজ করতে চায়। কাজ করতে গেলে তো বাজেট লাগে। যখন বাজেটের বিষয়টা এলো তখন শিক্ষার্থীরা বলল, ‘স্যার আপনিই প্রডিউস করেন।’ তখন আমি বললাম যে আইডিয়াটা ভালোই। যখন কাজ শেষ হলো তখন সেগুলো বিক্রি করারও আইডিয়া এলো। তখন সে ধরনের মানসম্পন্ন কিছু কাজ প্রডিউস করলাম আমরা। সেগুলো পরে বায়োস্কোপ, চরকির মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে গেল। এবারে আমরা অনুভব করলাম যে আমাদের একটা নিবন্ধিত প্রযোজনা সংস্থা থাকা দরকার। এভাবেই গড়ে ওঠে ‘মনপাচিত্র’। এটাকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে আমরা কিছু শর্টফিল্ম তৈরি করছি। আরও অন্য কাজ করছি। এর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা পাস করে বেরোলে তখন হয়তো বা আমরা এটা নিয়ে বিস্তৃতভাবে ভাবব। 

আপনার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’ এবং ‘অপারেশন সুন্দরবন’। দুটি সিনেমা কতটা তৃপ্তি দিয়েছে আপনাকে?

ছোট পর্দার চেয়ে বড় পর্দায়ই বেশি সাড়া পাচ্ছি। ভিন্নধর্মী চরিত্রে আমাকে দেখতে পেয়ে দর্শকও ভালো ফিডব্যাক দিচ্ছেন। অপারেশন সুন্দরবনে অসাধারণ সাড়া পেয়েছি। বিশেষ করে আমার চরিত্রের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছি। সিনেমাটাও বাংলাদেশের একটা হিট সিনেমা ছিল। বীরকন্যা প্রীতিলতায়ও ভালো সাড়া পাচ্ছি।

অনেক সময় সমালোচনা শোনা যায় শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সময় দেন না। ক্লাসে খুব একটা নিয়মিত নন। অভিনয় নিয়ে পড়ে থাকেন। এ বিষয়ে কিছু বলবেন?

সমালোচনার কি কোনো শেষ আছে! নানানরকম সমালোচনা তারই হয় যার যোগ্যতা থাকে। আমার ইউনিভার্সিটি ও শিক্ষার্থীরা জানে আমি কী করি।

শিক্ষক হিসেবে এবং অভিনেতা হিসেবে সফলতার জায়গাটা কোথায় দেখেন?

সফলতা খুবই জটিল একটি শব্দ। সফলতা হলো লেগে থাকার একটা বিষয়। আমি নিজেকে সফলও মনে করি না, বিফলও না। মনে করি যে শিক্ষকতা ও অভিনয়Ñ এ দুটো কাজ আমার ভালো লাগে। আমি এ দুটোকে ভালোবাসি। এ বিষয়েই পড়াচ্ছি এবং এ বিষয়েই কাজ করছি। ভালোবাসা নিয়েই কাজ দুটো করে যেতে চাই। যদি সফলতার কথা বলেন, তাহলে বলব, আমার সফলতা এটাই যে আমি এ দুটো সেক্টরে কাজ করে যেতে পারছি।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা