প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৩ ১৪:০৫ পিএম
‘টাইটানিক’ খ্যাত তারকা কেট উইন্সলেটকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষণের প্রয়োজন হয় না। ব্যক্তিত্ব ও গুণে তিনি ভক্তদের কাছে সব সময়ের প্রিয় একজন অভিনেত্রী। কিন্তু সবার পছন্দের এই অভিনেত্রীর জীবনেও আছে কালো অধ্যায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, একটা সময় সিনেমা থেকে সরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়েছিল তার। যে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য তার এমন খ্যাতি, তা একটা সময় ছেড়ে দেবেন এমন পরিস্থিতি ছিল তার জন্য ভীষণ কষ্টের।
১৯৯৭ সালে লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করা টাইটানিক সিনেমা মুক্তির পরই তার জীবন বদলে যেতে শুরু করে। পেয়ে যান তুমুল জনপ্রিয়তা। সেই সূত্র ধরে সে সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় নির্মাতা জিম থ্রিপলেটনের। সে পরিচয় থেকে পরিণয়, তারপর বিয়ে। ১৯৯৮ সালে তাদের বিয়েও হয়ে যায়। কিন্তু এরপর অন্ধকার জীবনে পা দেন কেট উইন্সলেট। সে সময় মেয়ে মিয়া হানি থ্রিপলেটনের জন্ম হয়।
মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের সেই খারাপ সময় কখনও ভুলতে পারব না। জিম (সাবেক স্বামী) আমার জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিল। আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব সবার কাছ থেকে আমাকে আলাদা করে দিয়েছিল সে।’
শুধু পরিবার কিংবা বন্ধু নয়, সিনেমা থেকেও দূরে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন জিম, এমনটাই জানালেন কেট উইন্সলেট। তিনি বলেন, ‘সিনেমার কোনো কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এলে জিম সেগুলো আমাকে করতে বারণ করত। সে আমাকে বলত অগুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে। সে সময় আমি ব্যাপারটি বুঝে উঠতে পারতাম না। কিন্তু পরে বুঝতে পারি, সে কখনই চাইত না আমি বিখ্যাত হই। তার ভয়ংকর ইগো সমস্য ছিল। স্ত্রী তার স্বামীর চাইতে বিখ্যাত হবে, তা কখনও মানতে চাইত না জিম।’
এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন সম্পর্ক অবশ্য খুব বেশিদিন টেনে নেননি কেট উইন্সলেট। ২০০১ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ক্যারিয়ার বাঁচাতে বিচ্ছেদের মতো কঠিন পথে হাঁটতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি উইন্সলেট।
এরপর ২০০৩ সালে পরিচালক স্যাম মেন্ডেজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কেট। মেন্ডেজ-কেট দম্পতির সন্তান ছেলে জো আলফি উইন্সলেট মেন্ডেজ। ২০১০ সালে কেট-মেন্ডেজ সম্পর্কের ইতি ঘটে।
তারপর বর্তমান স্বামী নেড রকনরোলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন কেট উইন্সলেট। ২০১২ সালে বিয়ে করা কেটের এটি তৃতীয় বিয়ে হলেও নেডের দ্বিতীয় বিয়ে।
উইন্সলেট ও নেড বর্তমানে বাস করছেন নিউইয়র্ক সিটির গ্রিনিচ ভিলেজে।