× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিনেমার ইমেজ সংকটে ঘটনাবহুল তিন মাস

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৩ ১২:৪৯ পিএম

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৩ ১২:৫০ পিএম

সিনেমার ইমেজ সংকটে ঘটনাবহুল তিন মাস

দুঃসময় যেন কাটছেই না ঢাকাই সিনেমায়। বছরে দুয়েকটি সিনেমা ভালো যাওয়া ছাড়া আর কোথাও নেই কোনো সুখবর। বরং একের পর এক ইস্যুতে উত্তাল হয়ে থাকে দেশের চলচ্চিত্রের আঙিনা। দেখতে দেখতে তিন মাস ফুরাতে চলল। তিনটি সিনেমাও মুক্তি পায়নি, যার মাধ্যমে ‘আলো এসেছে’ বলা যাবে। দুয়েকটি সিনেমা খানিক প্রশংসা কুড়ালেও ব্যবসায়িক সাফল্যের প্রশ্নের সবই ব্যর্থ। কারও কারও ভাগ্যে বলা যায় বিপর্যয় নেমেছে। এসবের ভিড়ে নতুন বছরটি বেশ কিছু ঘটনার মুখোমুখি করেছে ঢালিউডকে। যার মধ্যে বেশিরভাগই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত করেছে দেশীয় চলচ্চিত্রের ইমেজ। 

রাজ-পরীর ডিভোর্স কাণ্ড!

বছরের শুরুটা হয়েছিল পরীমনি ও শরিফুল রাজের সংসার ভাঙনের সুরে সুরে। তবে আশার কথা হলো, সংসারটি টিকে আছে। সুখে-আনন্দে সন্তানকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছে এই তারকা দম্পতি। 

ঘটনার সূত্রপাত ডিসেম্বরের শেষদিকে এক মধ্যরাতে ফেসবুকে স্বামী শরিফুল রাজের সঙ্গে ‘সম্পর্ক ছিন্ন করা’ নিয়ে পরীমনির এক পোস্টের মাধ্যমে। এরপর পরীমনি গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘এখনও আমাদের বিচ্ছেদ হয়নি। তবে আমি সম্পর্ক ছিন্ন করে রাজের বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছি। আজ থেকে আমরা আলাদা হয়ে গেলাম। শিগগির তাকে (শরিফুল রাজ) ডিভোর্স পেপার (নোটিশ) পাঠিয়ে দেব।’ ৩১ ডিসেম্বর রাতে ফেসবুক পোস্টে পরীমনি ‘হ্যাপি থার্টিফার্স্ট এভরিওয়ান’ উল্লেখ করে লেখেন, ‘আমি আজ রাজকে আমার জীবন থেকে ছুটি দিয়ে দিলাম এবং নিজেকেও মুক্ত করলাম একটা অসুস্থ সম্পর্ক থেকে। জীবনে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার থেকে জরুরি আর কিছুই নেই।’ দীর্ঘ সেই স্ট্যাটাসে পরী দাবি করেন, স্বামী রাজ তার ওপর নির্যাতন করেন। এসব নিয়ে রাজ ছিলেন নিশ্চুপ। তিনি সংসার, সম্পর্ক নিয়ে কোনো কথাই বলেননি কোথাও। তখন সবাই ধরেই নিয়েছিলেন ভেঙে যাচ্ছে রাজ-পরীর সংসার। তবে সে শঙ্কা কেটে গেছে। দুজনেই বুদ্ধিমানের পরিচয় দিয়ে সংসার বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবে ডিভোর্স নিয়ে দুই তারকার নানা পোস্ট ও বক্তব্যে বিরক্ত হয়েছেন চলচ্চিত্রের মানুষসহ সাধারণরাও।

শনিবার বিকেল সিনেমা নিয়ে নাটক

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকা বহুল আলোচিত ‘শনিবার বিকেল’ ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের অনুমতি পায়নি আজও। অনেক দিন ধরেই সিনেমাটি আটকে আছে। এর পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী অনেক চেষ্টাই করেছেন এটি দেশে মুক্তি দিতে। গেল ২১ জানুয়ারি দুপুরে হঠাৎ করেই জানা যায়, এ সিনেমাটি মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। সাংবাদিক ও আপিল বোর্ড সদস্য শ্যামল দত্ত গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেদিন ‘শনিবার বিকেল’ ছবিটি নিয়ে আপিল বোর্ডের শুনানি হয়। আপিল কমিটির সদস্যরা সিনেমার নির্মাতা–প্রযোজকের বক্তব্য শোনেন। এরপর সিনেমাটি নিয়ে মতামত দেন, ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিতে কোনো বাধা নেই। তবে সেই বাধা আজও কাটেনি। আটকেই আছে ‘শনিবার বিকেল’। এদিকে পরিচালক তার সিনেমাটি মুক্তি দিয়েছেন আমেরিকা ও কানাডায়।

অপু-বুবলীর দ্বন্দ্বে বর্ষা

চলতি মার্চ মাসের শুরুতেই নায়ক শাকিব খান সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, তার বড় ছেলে (শাকিব-অপুর সন্তান) আব্রাম খান জয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন শাকিব। বাবা-ছেলের সেই আলাপনের ভিডিও ভাইরাল হয় নেট দুনিয়ায়। অনেকেই মনে করছেন, অপু বিশ্বাসের আবদারেই ভিডিওটি পোস্ট করেছেন শাকিব। তাই বুবলীর জবাবের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। আগ্রহীদের অবাক করে দিয়ে শাকিব-জয়ের ভিডিওটি শেয়ার করে বুবলী লেখেন, ‘বাবারা তার সব সন্তানদের প্রতিই এভাবে ভালোবাসা দিয়ে পাশে থাকুক। কারণ একজন বাবা তার সন্তানদের অন্যতম বন্ধু, অভিভাবক ও উত্তম পথপ্রদর্শক।’

এরপরই অপু-বুবলীর দ্বন্দ্বের মাঝে চলে আসেন বর্ষা। বুবলী ও তার ছেলের ছবি পোস্ট করে বর্ষা লেখেন ‘সুন্দর’! সেই পোস্ট শেয়ার করে বুবলী লেখেন, ‘ধন্যবাদ বর্ষা আপু, অনেক ভালোবাসা।’ বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি অপু বিশ্বাস। তিনি অনন্ত জলিলের প্রথম স্ত্রীর মেয়ের গায়েহলুদের একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে বর্ষার মতোই লেখেন, ‘সুন্দর’। ভিডিওটি অনন্তকে ট্যাগ করেন অপু। ভিডিওর টাইটেলে লেখা, ‘অনন্ত-জলিলের কন্যার গায়েহলুদ!’

অপু বিশ্বাসের এই ভিডিও লিংকের মন্তব্যের ঘরে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, অপু কি শাকিবের প্রথম স্ত্রী বলেই এমন ভিডিও পোস্ট করে বর্ষার বিরুদ্ধে কৌশলী প্রতিশোধ নিলেন?

পাঠান মুক্তি নিয়ে বিতর্ক

বলিউড বাদশা শাহরুখের ‘পাঠান’ ২৫ জানুয়ারি ভারতসহ নানা দেশের সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে। দারুণ ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহেও সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন পরিচালক ও প্রযোজক অনন্য মামুন। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট থেকে এটি সাফটা চুক্তিতে আমদানি করা হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশি এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে টুইটারে শাহরুখ খানও বলেছিলেন, ‘আমি এরই মধ্যে বলেছি, দ্রুতই সেখানে পাঠান মুক্তি পাবে।’ এই ঘোষণার পরই শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। শুরুতে দেশের নির্মাতা ও শিল্পীরা বিরোধিতা করেন হিন্দি সিনেমা আমদানির ব্যাপারে। অনেকে মাঠে নেমে আন্দোলনও করেন। অন্যদিকে হল মালিকরা হিন্দি সিনেমা আমদানির পক্ষে সোচ্চার হন। হল বাঁচাতে ও হলে দর্শক ফিরিয়ে আনতে তারা দাবি করেন, হিন্দি সিনেমার বিকল্প নেই। তথ্য ও সম্প্রচার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে হয় দফায় দফায় বৈঠক। জানা যায়, মন্ত্রণালয়ের জটিলতা কাটছে। তবে আজও সিনেমাটি বাংলাদেশে মুক্তির পথ দেখেনি। 

এই ঘটনায় বিতর্কে জড়ায় শিল্পী সমিতি। শুরুতে দেশে ‘পাঠান’ সিনেমা মুক্তির বিরোধিতা করে শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। কয়েকটি বৈঠক শেষে শিল্পী সমিতি বলিউডের সিনেমা আমদানির পক্ষে সম্মতি দেয়। শর্ত জুড়ে দেয় সিনেমা হল থেকে হিন্দি সিনেমার লাভের ১০ শতাংশ দিতে হবে শিল্পী সমিতির ফান্ডে। এই বিষয়টি বেশ সমালোচনার জন্ম দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির রোল পড়ে সমিতির শর্ত নিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত আমদানিকারক ও মন্ত্রণালয় শিল্পী সমিতির শর্ত মেনে নিয়েছে। ফলে সব সমিতিই এখন নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে দেশের প্রেক্ষাগৃহে হিন্দি সিনেমা মুক্তির পক্ষে। ধারণা করা হচ্ছে, রোজা ঈদের পর মুক্তি পেতে পারে ‘পাঠান’।

শাকিবের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

দেশের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান। প্রায়ই নানা রকম সমালোচনার জন্ম দেন তিনি। সম্প্রতি ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ সিনেমার এক প্রযোজক রহমত উল্লাহ শাকিবের বিরুদ্ধে শিডিউল ফাঁসানো এবং এক নারী সহকারী প্রযোজককে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। ১৫ মার্চ এই প্রযোজক এফডিসির তিন সমিতি বরাবর লিখিত অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগের পর ১৬ মার্চ বিকেলে প্রযোজক সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু এবং ওই প্রযোজককে নিয়ে সমঝোতার জন্য বৈঠকে বসেন শাকিব। ঘণ্টাব্যাপী সেই আলোচনায় কোনো সমাধান আসেনি।

তাই সেই প্রযোজকের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শাকিব খান। ১৮ মার্চ রাতে তিনি গুলশান থানায় মামলা করতে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা বসে থেকে মামলা না করেই ফিরেছেন তিনি। জানা গেছে, তিনি আজকালের মধ্যে আদালতে গিয়ে মামলা করবেন। এই ঘটনাটি চলচ্চিত্রপাড়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শাকিব খানকে ঘিরে চলছে সমালোচনাও। সাত বছর আগের বিষয়গুলো সামনে আসায় বিব্রত শাকিব ও তার অনুরাগীরাও। তবে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের দাবি, চলচ্চিত্রের ইমেজ সংকট হচ্ছে নানা ঘটনায়। তার ভিড়ে শাকিব খানের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ যে অভিযোগ এসেছে, সেটা খুব অস্বস্তিকর। সিনেমার মানুষদের সুনাম নষ্ট করছে। সিনেমার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। শাকিবের উচিত এই অভিযোগগুলো মিথ্যে হলে শক্তভাবে এর প্রতিবাদ করা ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া।

দুপুরে কারাগারে বিকেলে মুক্ত মাহি

সিনেমার জন্য ঘটনাবহুল বলা চলে মার্চ মাসকেই। বেশ কিছু ঘটনা এই ২০ দিনেই ঘটেছে, যা বেশ হইচই ফেলে দিয়েছে। সর্বশেষ চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি হতাশ করেছে সিনেমার মানুষদের। স্বামী রাকিব সরকারকে নিয়ে ওমরাহ করতে সৌদি গিয়েছিলেন মাহি। গত শনিবার ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মাহিকে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বাসন থানায় নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে তিনি গাজীপুর জেলা কারাগারে পৌঁছান। পরে বিকাল ৫টার দিকে মাহির আইনজীবীরা আদালতে তার জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন দেন। পরে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা নায়িকা গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি নাড়িয়ে দিয়েছে সারা দেশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একজন গর্ভবতী তারকাকে গ্রেপ্তার করে তাকে কারাগারে পাঠানো এবং রিমান্ড আবেদন করে সমালোচনার মুখে পড়ে পুলিশ প্রশাসন। অনেকে আবার নায়িকা মাহির সমালোচনাও করেন, ফেসবুক লাইভে গিয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ আনায়। মাহির এই ঘটনাটি নিয়ে বিব্রত চলচ্চিত্রের মানুষরাও। তারা মনে করছেন, চলচ্চিত্র শিল্প ও শিল্পীদের ইমেজের যে সংকট চলছে, সেখানে ‘মাহিকাণ্ড’ নতুন করে হতাশার জন্ম দিল। তবে দিন শেষে মাহির জামিনে মুক্তিতে স্বস্তি পেয়েছেন সবাই।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা