প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৫০ পিএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৫৯ পিএম
গাজী মাজহারুল আনোয়ার
স্বাধীনতার জন্য ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষের যুদ্ধটা কেবল বন্দুক আর গোলাবারুদের ছিল না৷ সে যুদ্ধে অনেক বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল সংস্কৃতি। যার মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে গান। সে সময় বহু গান তৈরি হয়েছে; যা দেশের মানুষ ও যোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছে, প্রেরণা দিয়েছে।
সেসব গানকে আমরা স্বাধীনতার গান বলি, মুক্তির গান বলি। সে তালিকায় উজ্জ্বল ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানটি।
১৯৭০ সালে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আগুনঝরা যে গানটি তৈরি হয়েছিল আজও তার আবেদন ফুরায়নি। যে কোনো ক্রাইসিস, বিক্ষোভ-বিপ্লবে দাবি আদায়ের হাতিয়ার হয়ে ওঠে এই গান। তবে আফসোস, সবরকম দাবি-দাওয়ার ঊর্ধ্বে চলে গেলেন আজ এ গানের গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
এ গানটি কীভাবে জন্মেছিল? কী তার প্রেক্ষাপট ও গল্প, জানতে চেয়েছিলাম স্রষ্ঠার কাছেই। ২০২০ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নিজগৃহে এক আড্ডায় সেই গল্পটাই জানিয়েছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
তিনি বলেন, ‘১৯৭০ সালের ৭ মার্চ, রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিলেন। দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ল স্বাধীনতার জন্য সেই ডাকে সাড়া দিয়ে। বঙ্গবন্ধু ভাষণ শেষ করলেন ‘জয় বাংলা’ দিয়ে। সেই জয় বাংলার বারুদ ছড়িয়ে গেল সর্বত্র। যেদিন ভাষণ দিলেন সেদিনের সন্ধ্যায় ফার্মগেটে একটি স্টুডিওতে বসে আছি। সেটি তখন খুব বিখ্যাত স্টুডিও। বড় বড় সব গানের মানুষদের আনাগোনা। সেখানে ছিলেন সালাহউদ্দিন স্যার। তিনি আমার স্কুলের স্যার ছিলেন।’
বললেন, ‘জয় বাংলা’ নিয়ে একটা কাজ করতে পার। এই মুহূর্তে এটা প্রচার করা খুব জরুরি। মানুষকে উৎসাহ দেবে। আমি ভাবতে থাকলাম ‘জয় বাংলা’ নিয়ে কি লেখা যায়। শেষে বাংলা শব্দটা থাকলে ছন্দ মেলাতে কষ্ট হচ্ছে। ভালো শব্দ পাই না। বাংলা, হ্যাংলা....! তারপর সেটাকে ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ করে নিলাম।
দেখলাম দ্রুতই গান দাঁড়িয়ে গেল। আনোয়ার পারভেজকে ফোন করে বললাম স্টুডিওতে আসতে। সঙ্গে যেন শাহিনকেও (সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ) নিয়ে আসে। আব্দুল জব্বারকেও আসতে বললাম।
এদিকে হঠাৎ ঢুকলেন আলতাফ মাহমুদ। তিনি দেখলেন আমি লিখছি। কাগজটা নিয়েই বললেন, ‘বাহ, দারুণ হয়েছে তো। দে সুর করি।’ কাগজটা নিয়ে হারমোনি টান দিয়ে বসেই সুর করে ফেললেন। আমি বললাম, ‘আনোয়ার পারভেজ আসছে। আপনি বসেন।’ পরে আনোয়ার পারভেজ এলো, আলাউদ্দিন আলী এলো, জব্বার, শাহিন। সবাই মিলে দেখলাম গানটি তৈরি হলো। এর সুর-সংগীত করল আনোয়ার পারভেজ। শাহিন আর জব্বার গাইল। সঙ্গে আরও অনেক শিল্পী ছিলেন। গান তৈরি করে বঙ্গবন্ধুর কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি শুনে খুব পছন্দ করলেন।
বললেন এই গান দিয়েই যাত্রা করবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। আর গান প্রকাশ হতেই রাতারাতি সবার মুখে মুখে চলে গেল ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’।
প্রবা/এলএ/এনএস /এসআর