বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:১৮ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:৩৭ পিএম
জনপ্রিয় নাট্যদল ‘প্রাঙ্গণেমোর’। দলটি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে তাদের ৩টি নাটকের ৬টি প্রদর্শনী করতে যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও বগুড়ায় নাটকগুলো মঞ্চায়িত হবে। ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামের দামপাড়া শিল্পকলা একাডেমিতে ‘কনডেমড সেল’ ও ১০ সেপ্টেম্বর ‘হাছনজনের রাজা’ নাটক মঞ্চায়িত হবে।
অনন্ত হিরা রচিত ‘কনডেমড সেল’ নাটকটির নির্দেশনা নিয়েছেন আউয়াল রেজা, আর শাকুর মজিদ রচিত ‘হাছনজনের রাজা’ নির্দেশনা দিয়েছেন অনন্ত হিরা।
১১ সেপ্টেম্বর যাত্রিক কুমিল্লার আমন্ত্রণে কুমিল্লা টাউন হলে অনন্ত হিরা রচিত ও নির্দেশিত ‘মেজর’ নাটকটি মঞ্চায়িত হবে। এ ছাড়া ১৬ সেপ্টেম্বর প্রাকৃতজনের আমন্ত্রণে বগুড়ার সাতমাথায় ‘কনডেমড সেল’ ও ২৪ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর মেয়র নাট্যোৎসবে ‘হাছনজনের রাজা’ নাটক মঞ্চায়িত হবে। এ ছাড়া ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে ‘হাছনজনের রাজা’ নাটকটি মঞ্চায়িত হবে।
নাটকগুলোতে অভিনয় করেছেন--নূনা আফরোজ, অনন্ত হিরা, আউয়াল রেজা, রামিজ রাজু, সাগর রায়, শুভ, জুয়েল, প্রকৃতি, রাহুল, সুজয়, সুমন, মোফাজ্জল, নির্ঝর, বাঁধন, মাছুম, মৌসুমী, রুমা।
কনডেমড সেল নাটকের কথা
‘কনডেমড সেল’ নাটকে ঘটনাপ্রবাহ এবং সকল চরিত্র কাল্পনিক। নাট্যকার এ নাট্য প্রয়াসকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবময় ঘটনা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পূর্বে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর নরঘাতক রাজাকার, আল-বদর, আল-সামস বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে যে গণহত্যা ও নারী ধর্ষণের নির্মমতার বিষক্রিয়ায় নীল করে তুলেছিল, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের আটষট্টি হাজার গ্রাম তারই কিছু খণ্ডচিত্রের নাট্য নির্মাণ ব্যতীত নাটকের বাদ বাকি ঘটনাপরম্পরা বয়ে নিয়ে যায় যে সকল চরিত্রসমূহ, তারা সকলেই কাল্পনিক। তথাপি দর্শকের নিজের দেখা কোনো চরিত্র ঘটনা বা অভিজ্ঞতার সঙ্গে যদি এ নাটকের কোনো চরিত্রের সাদৃশ্য খুঁজে পান বা আবিষ্কার করেন, সে দায় দর্শকেরই।
আর যে সকল দর্শক কোনো সাদৃশ্য খুঁজে পাবেন না বা সাদৃশ্য আবিষ্কার করতে ব্যর্থ হবেন, তারা দায়মুক্তি নিয়েই গৃহে ফিরতে পারবেন। ‘কনডেমড সেল’ নামের এ নাট্য প্রয়াসের অভিপ্রায় দায়যুক্ত দর্শকের অন্বেষণ। নাটকের সকল ঘটনাপ্রবাহ সংগঠিত হবে কারা অভ্যন্তরে ‘কনডেমড সেল’-এ। কারাবিধি বা রীতি অনুযায়ী যেখানে শুধু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিরা থাকে।
হাছনজনের রাজা নাটকের কথা
হাছন রাজা (১৮৫৪-১৯২২) বর্তমান সুনামগঞ্জ জেলার একজন সামন্তপ্রভু ছিলেন। পিতা ও মাতা উভয়ের কাছ থেকে পাওয়া বিশাল জমিদারির মালিকানা চলে আসে কিশোর বয়সে। অর্থ, বেহিসাবি সম্পদ আর ক্ষমতার দাপটে বেপরোয়া জীবনযাপনে অভ্যস্থ হয়ে পড়েন তিনি। জাগতিক লোভ-লালসা, ক্ষমতায়ন, জবরদখল করেও তিনি তার প্রতিপত্তি বাড়ানোর কাজে প্রবৃত্ত ছিলেন। কিন্তু একসময় তাঁর ভেতরের ভ্রান্তি ঘুচে যায়। মধ্য পঞ্চাশে এসে তিনি ভিন্ন এক মানুষে পরিণত হয়ে যান। তাঁর বোধ হয় যে এ জগৎ সংসারের সব অনাচারের মূলে আছে অতিরিক্ত সম্পদ।
কিছুদিনের জন্য অতিথি হয়ে আসা মানুষেরা আসলে মহাশক্তির কাছে একেবারে নশ্বর। তিনি তাঁর সম্পদ জনকল্যাণের জন্য উইল করে দিয়ে কয়েকজন সঙ্গিনীকে নিয়ে হাওরে হাওরে ভাসতে থাকেন। আর এর মধ্যে খুঁজতে থাকেন সেই মহাপরাক্রমশীল স্রষ্ঠাকে। সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজতে খুঁজতে একসময় আবিষ্কার করেন, তাঁর নিজের মধ্যেই তাঁর বাস। তাঁর যে পিয়ারীকে সবাই হাছনজান বলে জানে, সেই আসলে হাছন রাজা।
জগতের মানুষের কাছে যিনি রাজা বলে চিহ্নিত ছিলেন, হাছন রাজার কাছে সে কেউ নয়, বরং পিয়ারী হাছনজানের ভেতরেই প্রকৃত হাছন রাজা বিরাজমান ছিলেন।
নাট্যসূচি
৯ সেপ্টেম্বর ‘কনডেমড সেল’ চট্টগ্রাম দামপাড়া শিল্পকলা একাডেমি
১০ সেপ্টেম্বর ‘হাছনজনের রাজা’ চট্টগ্রাম দামপাড়া শিল্পকলা একাডেমি
১১ সেপ্টেম্বর ‘মেজর’ কুমিল্লা টাউন হল
১৬ সেপ্টেম্বর ‘কনডেমড সেল’ বগুড়া সাতমাথা
২৪ সেপ্টেম্বর ‘হাছনজনের রাজা’ চাঁদপুর মেয়র নাট্যোৎসব
২৬ সেপ্টেম্বর ‘হাছনজনের রাজা’ মূল হল, জাতীয় নাট্যশালা, বাংলাদেশ ল্পিকলা একাডেমি, ঢাকা
প্রবা/এলএ/এমআই