প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৩ ১২:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৩ ১৩:৫৭ পিএম
টেলিভিশন নাট্যপরিচালকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড। সংগঠনটির নতুন মেয়াদের জন্য নেতৃত্ব বাছাই করতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন। বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিরেক্টরস গিল্ড সূত্র প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছে, নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে নাটকপাড়া। প্রার্থীরা প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, মেয়াদ শেষ হলেও একটি নির্দিষ্ট সময় পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের নির্বাচনে তেমনটাই দেখা গেছে। কিন্তু এবার খানিকটা তড়িঘড়ি করেই হচ্ছে নির্বাচন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে ওঠে নির্বাচন, বিদায়ী কমিটি তেমন কোনো কাজ করতে না পারার সমালোচনাসহ আরও কিছু বিষয়। সেখানে এ বছর নির্বাচনের জন্য সিলেকশন প্রক্রিয়া বেছে নেওয়ার প্রস্তাব আসে। কিন্তু বেশির ভাগ সদস্যই নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ দেখিয়েছেন। যে কারণে বর্তমান কমিটিকে সিলেকশন প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। এ ব্যাপারে সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘সিলেকশন হলে ভালো হতো। নির্বাচনে সমিতির খরচ কমত। কিন্তু সদস্যরা নির্বাচনে আগ্রহী। নির্বাচনেই যেতে হচ্ছে।’
অনেকের দাবি, সংগঠনটির নির্বাচন প্রক্রিয়া পছন্দ না হওয়ায় অনেক পরিচালক নির্বাচন করতে চান না। গতবারও অনেকেই নির্বাচন থেকে সরে যান। এ ধারাবাহিকতায় এবার নির্বাচনের ইচ্ছা থাকলেও শিহাব শাহীন, সকাল আহমেদ, ইমরাউল রাফাত, হৃদি হক, বান্না, পিকলু চৌধুরী, তুহিন হোসেন, ইমেল হক, ফেরারি অমিত, নিয়াজ চন্দ্রদ্বীপ, গোলাম মুক্তাদিরসহ অনেকেই শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। অনেকে আবার এসব মান-অভিমান কাটিয়েই সংগঠনকে এগিয়ে নিতে চাইছেন। নতুন নেতৃত্ব এনে হাল ধরতে চাইছেন। তাদের ভাষ্য, অভিমান করে সরে গেলে তো সংগঠন বাঁচবে না। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে সুদিন নিয়ে আসাই তো সংগঠকের কাজ। তাই নানা সংশয় ও সংকট থাকলেও নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় ডিরেক্টরস গিল্ড।
ছোট পর্দার নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের মোট ভোটার ৪৮২ জন। এখানে সর্বশেষ সভাপতি সালাহউদ্দিন লাভলু পরপর দুবার জয়ী হয়েছেন। নিয়মমতো তিনি এবার নির্বাচন করতে পারছেন না। এবার একটি প্যানেলে সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এসএ হক অলিক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পদপ্রার্থী অনন্ত হিরা। সাধারণ সম্পাদক পদে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচন করছেন কামরুজ্জামান সাগর। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ফরিদুল হাসানের সঙ্গে। এ ছাড়া সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ বাকি ১০ পদে লড়বেন ৩২ জন পরিচালক। জয়ী হবেন ১৯ জন।
অন্যবারের মতো এবারেও নির্বাচনে তারুণ্যের আধিক্য থাকছে। সেই সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দুটি প্যানেলেই লক্ষ করা গেছে বেশ শক্ত প্রার্থী। সেখানে অনন্ত হিরা ও কামরুজ্জামান সাগর সমমনা প্যানেলে প্রার্থী হয়েছেন সহ-সভাপতি মনির হোসেন জীবন ও প্রাণেশ চন্দ্র চৌধুরী। আরও আছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সাইফ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী সোহাগ ( সোহাগ কাজী), অর্থ সম্পাদক মুক্তি মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম রেজা জুয়েল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জহির খান, প্রশিক্ষণ ও আর্কাইভবিষয়ক সম্পাদক শুভ্র খান, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সবুজ খান, আইন ও কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুল রিজু, দপ্তর সম্পাদক দেবব্রত রনি। কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য হিসেবে লড়বেন সৈয়দ আওলাদ, মেহেদি হাসান মুকুল, ইমাম রিপন, ফিরোজ আহমেদ দুলাল।
এদিকে ‘একুশের চেতনায় আমরা ২১’ স্লোগান নিয়ে সভাপতি পদে এসএ হক অলিক ও সাধারণ সম্পাদক পদে ফরিদুল হাসান জোট বেঁধেছেন। তাদের সমমনা এই প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন মনোজ সেনগুপ্ত, কায়সার আহমেদ ও আশরাফুল আলম রন্টু। যুগ্ম সা. সম্পাদক পদে ফিরোজ খান, যুগ্ম সা. সম্পাদক রাশেদা আক্তার লাজুক, অর্থ সম্পাদক আবু রায়হান জুয়েল, প্রচার ও প্রকাশনা জিয়া উদ্দিন আলম, প্রশিক্ষণ ও আর্কাইভ সরদার রোকন, তথ্য ও প্রযুক্তি মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, আইন ও কল্যাণ তারিক মোহাম্মদ হাসান, দপ্তর সম্পাদক সাঈদ রহমান। প্যানেলটিতে কার্যনির্বাহী সদস্যপদে লড়বেন শাহীন মাহমুদ, শহিদুল ইসলাম রুনু, নাসির উদ্দীন মাসুদ।
সভাপতি পদপ্রার্থী এসএ অলিক নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘নির্বাচিত হলে সংগঠন যেন একটি দক্ষ ও কার্যকর কমিটি পায় সেটা বিবেচনা করে আমরা তারুণ্য, অভিজ্ঞতাকে সংমিশ্রণ করে প্যানেল দিয়েছি। এখানে প্রত্যেকেই যার যার জায়গায় যোগ্য। আশা করছি প্রিয় সংগঠনের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারব।’
অন্য প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কামরুজ্জামান সাগর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে ধারণ করে আমরা সংগঠনকে এগিয়ে নিতে চাই। নাটকের আঙ্গিনাকে সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন নিয়ে আমরা এক হয়েছি।’
এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুল লতিফ বাচ্চু। তার সঙ্গে দুই সহযোগী কমিশনার নরেশ ভুঁইয়া ও মাসুম রেজা। নির্বাচন নিয়ে আব্দুল লতিফ বাচ্চু বলেন, ‘আমরা একটি আধুনিক এবং পরিচ্ছন্ন নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি ১০ মার্চ নাটকের নির্মাতাদের মিলনমেলা হবে। তারা আনন্দ-উৎসব পরিবেশে তাদের আগামীর নেতৃত্ব বেছে নেবেন।’