বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:৫২ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:১২ পিএম
নতুন গান ‘হেই সামালো’ প্রকাশ করেছে কোক স্টুডিও বাংলা। এ গান দিয়ে শেষ হলো প্রথম সিজন। কোকা-কোলার আন্তর্জাতিক সংগীত আয়োজন কোক স্টুডিওর বাংলাদেশি সংস্করণ প্রথম সিজনে থিম সং ছিল ‘একলা চলো রে’। এটিসহ মোট ১০টি গান প্রকাশ করেছে তারা প্রথম সিজনে। আলোচনা ও সমালোচনায় মাতিয়ে রেখেছিল কোক স্টুডিও বাংলা।
আয়োজকরা জানায়, শেষ গান ‘হেই সামালো’ ৫০০ ভক্তের জন্য বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
কোক স্টুডিও বাংলা দেশের অন্যতম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি নতুন ও পুরাতন প্রতিভার সঙ্গে নিয়ে চমৎকার সব গান তৈরি ও বাংলাপ্রেমী দর্শকদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। ফেব্রুয়ারির মাঝে যাত্রা শুরু করে কোক স্টুডিও বাংলার প্রথম সিজন। ছয় মাসব্যাপী দর্শক-শ্রোতাদের দারুণ সব গান উপহার দিয়ে শেষ হচ্ছে এবারের সিজন।
যাত্রা শুরু করার পর থেকে এই স্বল্প সময়ে কোক স্টুডিও বাংলার ইউটিউব সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লক্ষ। আর এর ফেসবুক পেজে ফলোয়ারের সংখ্যা ৩ লাখ ৩০ হাজার। গানগুলোর মোট ভিউ সংখ্যা ৭ কোটি। ১.৫ কোটি ভিউ নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে আছে ‘ভবের পাগল’ এবং ‘নাসেক নাসেক’।
প্রথম সিজনের শেষ গান ‘হেই সামালো’-তে অংশ নিয়েছেন এক ঝাঁক প্রবীণ এবং নবীন তারকা। তারা হলেন সামিনা চৌধুরী, বাপ্পা মজুমদার, শায়ান চৌধুরী অর্ণব, দিলশাদ নাহার কণা, ঋতুরাজ এবং সুনিধি নায়েক। এ ছাড়া আছেন অনিমেষ রায়, রুবাইয়াত, মাশাসহ অনেকে।
গানটিতে আরও দেখা যাবে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বসবাসকারী ম্রো জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের। বান্দরবানের পাহাড়ে তাদের যে বাঁশির সুর শুনতে পাওয়া যায়, তা এখন শোনা যাবে কোক স্টুডিও বাংলার বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মেও।
‘হেই সামালো’ গান দিয়ে বাংলাদেশিদের অদম্য চেতনা ও বিদ্রোহী চরিত্রের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে কোক স্টুডিও বাংলা।
সলিল চৌধুরীর লেখা ‘হেই সামালো’ ও আবদুল লতিফের লেখা ‘ওরা আমার মুখের ভাষা’ গান দু’টির মধ্যে ফিউশনের মাধ্যমে এই গানটি তৈরি করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালের কৃষকদের নিজেদের অধিকার আদায়ের প্রতিবাদ পরবর্তীতে বিদ্রোহে রূপ নেয়, সেই সময় ‘হেই সামালো’ গানটি রচিত হয়। আর ‘ওরা আমার মুখের ভাষা’ গানটির প্রেক্ষাপট হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, যার পেছনে বিশ্বাস ছিল মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানুষের একটি প্রধান অধিকার।
কোক স্টুডিও বাংলা-র সংগীত প্রযোজক শায়ান চৌধুরী অর্ণব বলেন, ‘শেষ গানটির জন্য আলাদা কিছু করার চিন্তা থেকেই বিভিন্ন ঘরানার শিল্পীদের একত্রিত করে, গণসংগীত নিয়ে কাজ করেছি আমরা। সবাই মিলে গানটি করা ছিল এক দারুণ অভিজ্ঞতা। এই গান বাংলাদেশিদের অদম্য চেতনা তুলে ধরেছে। আশা করি, গানটি গাওয়ার সময় যে আবেগ আমরা অনুভব করেছি, তা আমাদের দর্শক-শ্রোতাদেরও স্পর্শ করবে।’
কোকা-কোলা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তা জি তুং বলেন, ‘সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সম্বৃদ্ধ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোক স্টুডিও বাংলা নিয়ে আসতে পারাটা আমাদের জন্য দারুণ আনন্দের ব্যাপার। প্রথম সিজনে আমরা সবার আন্তরিক সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশে রিয়েল ম্যাজিক সৃষ্টি করা, এবং এক্ষেত্রে আমরা সফল হয়েছি বলে আমি বিশ্বাস করি। এর কৃতিত্ব কোক স্টুডিও বাংলার নেপথ্যের কারিগরদের, সব শিল্পী ও পারফরমারদের। তারা রিয়েল ম্যাজিকে বিশ্বাস করেছেন এবং তা সৃষ্টি করেছেন।’
‘নাসেক নাসেক’ দিয়ে যাত্রা শুরু করে কোক স্টুডিও বাংলা। এরপর প্রকাশ পেয়েছে ‘প্রার্থনা’, ‘বুলবুলি’, ‘ভবের পাগল’, ‘চিলতে রোদ’, ‘ভিন্নতার উৎসব’, ‘সব লোকে কয়’, ‘লীলাবালি’, ‘দখিন হাওয়া’। সর্বশেষ এসেছে ‘হেই সামালো’।
প্রথম সিজনে অংশ নিয়েছেন মমতাজ বেগম, বাপ্পা মজুমদার, পান্থ কানাই, দিলশাদ নাহার কণা, সামিনা চৌধুরী, মিজান, তাহসান খানসহ বাংলাদেশের একঝাঁক কিংবদন্তি তারকা শিল্পী। আরও ছিলেন অনিমেষ রায়, বগা তালেব, নন্দিতা, মাখনসহ সংগীত জগতের উদীয়মান শিল্পীরা।
প্রবা/এলএ /এসআর