লিমন আহমেদ
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৩ ১২:৩৪ পিএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩ ১২:৩৪ পিএম
ঢাকা মাতিয়ে গেলেন কলকাতার নন্দিত শিল্পী, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক অঞ্জন দত্ত। শুক্রবার রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১তম ব্যাচের দ্বিতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে ঢাকায় সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ করেন অঞ্জন। তিনি গেয়ে শোনান ‘বেলা বোস’, ‘রঞ্জনা’, ‘আমি বৃষ্টি দেখেছ’, ‘ম্যারি এ্যান’, ‘তুমি না থাকলে সকালটা এত মিষ্টি হতো না’-এর মতো জনপ্রিয় গানগুলো। বর্তমানে ব্যস্ত আছেন তার নতুন সিনেমা নিয়ে। ঢাকা সফর ও তার আপকামিং সিনেমা নিয়ে তিনি একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন প্রতিদিনের সঙ্গে। লিখেছেন লিমন আহমেদ
কেমন আছেন?
যেভাবেই হোক ভালো থাকার বয়স এখন। তাই ভালো আছি, বেঁচে আছি। আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা করছি।
ঢাকা ঘুরে গেলেন সম্প্রতি। কলকাতা, দার্জিলিং নিয়ে আপনার অনেক আবেগের কথা আমরা জানি। শহর হিসেবে ঢাকা আপনাকে কেমন অনুভূতি দেয়?
আগেও বলেছি, ঢাকাকে আমার বিদেশ বিদেশ লাগে না। আমার ঘরেরই একটি অংশ মনে করি। ঢাকায় গেলে আমি সবসময় আনন্দিত হই। মনে হয় সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের ঘরের বারান্দায় বসে চা খাচ্ছি। সেখানকার মানুষ আমাকে খুব আন্তরিক হয়ে অঞ্জন দাদা বলে ডাকা। সম্বোধনের অন্যরকম এই অনুভূতি উপভোগ করার সুযোগ আমি বাংলাদেশে গেলেই শুধু পাই। আমাদের ভাষা এক। তাই কে কোন দেশের, সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। বাংলা আমাদের ভাষা, বাংলা আমার মা।
এবারের ঢাকা সফরের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাই
এবার শুধু গান গাইতে এসেছিলাম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা কনসার্ট ছিল। সারা রাত গান করেছি। অভিজ্ঞতা দারুণ। গানপাগল সব মানুষ এসে ভিড় করেছিলেন। নেচে-গেয়ে কনসার্টটি উপভোগ করেছেন তারা। একটা সময় মনে হচ্ছিল আমি শ্রোতা আর সামনে দাঁড়ানো সবাই অঞ্জন। তাদের গলায় ‘বেলা বোস’, ‘মালা’, ‘তুমি না থাকলে’ গানগুলো আমি শুরু করার আগেই মিউজিক শুনে তারা গাইতে শুরু করে। বিষয়টি আমাকে আনন্দ দিয়েছে, মুগ্ধ করেছে। আমি গানের মানুষ, আমার গান যখন আমার সামনেই শ্রোতারা গেয়ে ফেলে, তখন আমি মুগ্ধ হয়ে শুধু শুনি। এবার তারা আমাকে এমনই মুগ্ধ একটি স্মৃতি উপহার দিয়েছেন।
তার মানে এবারের সফরটি অনেক মধুর স্মৃতি জমিয়ে দিল...
একদম। জাবির ৩১ ব্যাচের রি-ইউনিয়ান ছিল। তারা আমাদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গেল। গান গাওয়া ছাড়াও তাদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিয়েছি। সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি ওদের গান শোনবার আগ্রহটা দেখে। গান গাইতে গাইতে হঠাৎ তাকিয়ে দেখি, ওখানে মুক্তমঞ্চের আশপাশের গাছের ওপর মানুষ। প্রথমে তো ভড়কে গেলাম। এসব কি! পড়ে জানলাম, আমাদের গান শোনার জন্য তারা গাছের মগডালে উঠে বসেছে। ভাবুন একবার! সত্যি এবারের সফরটা খুব উপভোগ করেছি আমরা। বিশেষ করে আমি। শ্রোতারা যখন গান গাইতে শুরু করবে, কনসার্ট তখন একটা রাজকীয় রূপ পায়। গান করতে করতে মনে হচ্ছিল সারা রাত গাইলেও আমি ক্লান্ত হব না। কারণ আমার শ্রোতাদের ক্ষুধা না মিটিয়ে স্টেজ থেকে আমি নামতে পারব না। তাই জাহাঙ্গীরনগরে প্রথমবার যাওয়া এবং গান গাওয়ার অনুভূতি আমার আজীবন মনে রাখার পাতায় লেখা থাকবে।
সাম্প্রতিক শিডিউলে ঢাকায় আসার কোনো সম্ভাবনা আছে?
আপাতত নেই। কবে হবে সেটাও জানি না। রুটিন করে কাজ করার মানুষ আমি নই। তবে ডাক পড়লেই আমি চলে আসব। এবার যেমন গেলাম। যে শহরের মানুষ আমাকে ভালোবাসে, তাদের ভালোবাসার ডাকে সাড়া দিতে আমি সবসময়ই প্রস্তুত।
অনেক দিন পর আপনার পরিচালনায় নতুন সিনেমা মুক্তি পেল। কেমন সাড়া মিলছে?
সত্যি, অনেক দিন বাদে গোয়েন্দা গল্প নিয়ে কাজ করলাম। ভালো সাড়া পাচ্ছি। এখানে একটু অন্যরকম করে গোয়েন্দাকে দেখানোর চেষ্টা করেছি।
মনে হয় সেটা দর্শকের ভালো লেগেছে। আমারই লেখা ‘ড্যানি ডিটেকটিভ আইএনসি’ গল্প নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এটি। সিনেমাটি শুধু বানাইনি, এতে অভিনয়ও করেছি। ‘রিভলবার রহস্য’ সিনেমায় সুপ্রভাত দাস, তনুশ্রী চক্রবর্তী ও অন্য শিল্পীরা বেশ ভালো অভিনয় করেছেন।