প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৩ ১২:৪৭ পিএম
আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৩ ১২:৪৮ পিএম
চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি ওলিভার, সিনড্রেলাসহ অনেক দুর্দান্ত নাটকে অভিনয় করে ফেলেছেন। নাটক নিয়ে ঘুরেছেন স্পেন, রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ। তবে পুরো বিশ্ব তাকে চিনেছে আরও পরে। যার কথা বলা হচ্ছে তিনি ড্যানিয়েল ক্রেইগ। সারা দুনিয়ায় তিনি জেমস বন্ড নামে পরিচিত। আজ তার জন্মদিন।
১৯৬৮ সালের ২ মার্চ ইংল্যান্ডের চেস্টারে জন্মগ্রহণ করেন এই আকর্ষণীয় অভিনেতা। ইংল্যান্ডের লিভারপুলে বেড়ে উঠেছেন। বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করলেও জেমস বন্ড সিরিজে এসে সাফল্য পান তিনি। ১৬ বছর বয়সে লন্ডনে এসে তিনি ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ থিয়েটারে’ যোগ দেন। তার মায়ের বেশ কিছু বন্ধুবান্ধব ছিলেন মঞ্চের অভিনেতা। প্রায়ই মা এবং বোনকে নিয়ে চলে যেতেন নাটক দেখতে। তিনি ভর্তি হন ‘গিল্ডহিল স্কুল অব মিউজিক অ্যান্ড ড্রামা’য়। তার যখন ৯ বছর বয়স, তখন রাগবি ছিল তার পছন্দের খেলা। ফুটবলও খেলতেন।
ড্যানিয়েলের প্রথম সিনেমা ‘দ্য পাওয়ার অব ওয়ান’। তবে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ১৯৯৬ সালে বিবিসি মিনি সিরিজ ‘আওয়ার ফ্রেন্ডস ইন দ্য নর্থ’। এ সিরিজের মধ্য দিয়ে তিনি দর্শক সমালোচকদের নজরে পড়েন। ২০০২ সালে ড্যানিয়েল ‘রোড টু পারডিশন’ সিনেমায় অসাধারণ অভিনয় করেন। এরপর বন্ড চরিত্রের জন্য সুযোগ পান ড্যানিয়েল ক্রেইগ। শুরুতে অবশ্য বন্ড হওয়ার জন্য বয়স অনেক বেশি বলে একহাত নিয়েছিলেন সমালোচকরা তাকে। কিন্তু অচিরেই তিনি বদলে দেন সবকিছু। ড্যানিয়েলের নিজের ভাষায়, ‘যখন আমি বন্ড চরিত্র করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলাম তখন এটা করেছিলাম আমার জীবনটা বদলে দেওয়ার জন্য। আমি জীবনে কখনও টাকার জন্য সিনেমা করিনি।’
২০০৬ সালে ক্যাসিনো রয়্যাল দিয়ে শুরু হয় বন্ডের যাত্রা। এরপর ২০০৬ সালে রিলিজ হয় ‘কোয়ান্টাম অব সোলাস’। তার অভিনীত পাঁচটি বন্ড সিরিজের সর্বশেষ ‘নো টাইম টু ডাই’ ২০২১ সালে মুক্তি পায়। এর মধ্যেমে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে ইতি টানেন তিনি।
ড্যানিয়েল ক্রেইগের কিছু মজার তথ্য তুলে ধরা হলো :
সবচেয়ে বেঁটে বন্ড
অসাধারণ ফিজিকের অধিকারী ড্যানিয়েলকে পর্দায় দেখে বোঝার উপায় নেই। কিন্তু তিনি সবচেয়ে বেঁটে বন্ড। তার উচ্চতা ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি। তার পূর্বসূরি সব বন্ড যথাক্রমে শন কোনারি, রজার মুর, ব্যারি নেলসন, টিমথি ডালটন বা পিয়ের্স ব্রসন্যান সবাই কিন্তু ৬ ফুটের বেশি লম্বা ছিলেন।
পরচুলার বন্ড
‘আমার যেমন বেণি তেমনি রবে চুল ভেজাব না’। ড্যানিয়েল ক্রেইগ এ গানটি অন্য ভাবে গেয়েছেন, যখন তিনি বন্ডের ভূমিকায় অভিনয় করার অফার পেয়েছিলেন। তার আগে টাক মাথার বন্ডকে কখনও সিনেমা স্ক্রিনে দেখা যায়নি। স্বভাবতই পরচুলা ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয় তাকে। কিন্তু ড্যানিয়েল তা সরাসরি নাকচ করে দেন। পরে প্রযোজকরা তার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হন।
আরও পড়ুন: আবার হবে জয় বাংলা কনসার্ট
ড্যানিয়েলে আস্থা
যখন তিনি বন্ড চরিত্রের জন্য মনোনীত হন, তখন এটা নিয়ে জল ঘোলা কম হয়নি। সারা বিশ্বের সিনেমার অনেক তাবড় নাম তাঁর বন্ড সিনেমায় অভিনয় করা নিয়ে কটাক্ষ করেন। কিন্তু ড্যানিয়েলের সমর্থনে এগিয়ে আসেন চারজন বন্ড! শন কোনারি, রজার মুর, টিমথি ডালটন ও পিয়ের্স ব্রসন্যান খোলাখুলি তাকে সমর্থন করেন। মেঘ কেটে গিয়ে ২০০৬ সালে মুক্তি পায় ক্যাসিনো রয়্যাল।
শন কোনারিতে মুগ্ধ ড্যানিয়েল
অনেকেই ড্যানিয়েলের ভক্ত। কিন্তু শন কোনারি তার সবচেয়ে পছন্দের বন্ড অভিনেতা। এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি জানিয়েছিলেন তিনি।
ছদ্মবেশে জীবন
রিল লাইফে স্পটলাইটে থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে বেশি অ্যাটেনশন পছন্দ করেন না তিনি। একবার খানিকটা ছদ্মবেশ ধারণ করে আমেরিকায় একটি সিনেমা হলে গিয়েছিলেন ড্যানিয়েল। সেখানে এক ব্যক্তি তাকে দেখে মন্তব্য করেন, ‘আপনাকে কি কেউ বলেছে আপনি ড্যানিয়েল ক্রেইগের মতো দেখতে?’ ড্যানিয়েল উত্তরে ‘না’ বলে হল ছেড়ে চলে যান।