মহিউদ্দিন মাহি
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:৪৩ পিএম
পরিচালক অং রাখাইন। বাংলাদেশের চাকমা ভাষায় নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘মর থেঙ্গারি’ বা ‘আমার বাইসাইকেল’- এর নির্মাতা তিনি। চলচ্চিত্রটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে। এটির মুক্তির আশা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছেন নির্মাতা। নতুন উদ্যমে শুরু করলেন নতুন সিনেমার কাজ। নাম ‘মর্যো’।
‘মর্যো’ শব্দের বাংলা অর্থ হচ্ছে মানুষ। যার শুটিং ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন নির্মাতা। এটি তার তৃতীয় সিনেমা। এবারের সিনেমার গল্পও আদিবাসীদের জীবন নিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অং রাখাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি একজন সিনেমা নির্মাতা। আমার কাজ হচ্ছে নির্মাণের মাধ্যমে জীবনের গল্প বলা। সেই গল্প শুধুই যে আমার বা আমাদের জন্য হবে তা কিন্তু নয়। প্রতিটি সিনেমাই প্রতিটি দেশের প্রতিটি মানুষের। এই চিন্তাধাঁরা থেকেই নির্মাণে আশা আমার। তাই ‘মর থেঙ্গারি’ সিনেমাটির মুক্তির অপেক্ষায় না থেকে তৃতীয় সিনেমার কাজ শুরু করে দিয়েছি। ইতোমধ্যেই শুটিং শুরু হয়েছে। সব কাজ শেষ হতে আনুমানিক ২ বছর সময় লাগবে। এরপর ২০২৬ সালে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা আছে। তাই আপাতত নতুন সিনেমার কাজ নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছি।’
সিনেমার গল্প ও অভিনয়শিল্পীদের বিষয়ে জানতে চাইলে রাখাইন বলেন, ‘এটাও আদিবাসী ভাষা ও সেখানকার মানুষের গল্পের সিনেমা। আদিবাসী শিল্পীরাই অভিনয় করবেন। গল্পের প্রয়োজনে তাদেরকেই আমি প্রাধান্য দেই সব সময়। আশা করি এই সিনেমাটি দেশের সব দর্শককে দেখাতে পারব।’
এর আগে নির্মাতা অং রাখাইনের সঙ্গে তার ‘মর থেঙ্গারি’, ‘আমার বাইসাকেল’ নিয়ে কথা হয় প্রতিদিনের বাংলাদেশের। সে সময় তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না। আমি খুবই ক্লান্ত। কারণ সিনেমাটির মুক্তির জন্য আমি অনেকের কাছেই গিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। বলতে গেলে এক প্রকার আশা ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থায় আছি আমি। অনেক গণমাধ্যমের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। সবাই শুধু আমার কাছে মুক্তি না পাওয়ার কারণ জানতে চায়। আমি কীভাবে কারণ বলব! সেটা সেন্সর দেখবে।’
এরপর সিনেমাটিকে মুক্তির অনুমতি না দেওয়ার কারণ জানতে সেন্সর বোর্ডে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মুহ. সাইফুল্লাহ বলেন, “‘আমার বাইসাইকেল’ নামে একটি সিনেমার কথা আমি শুনেছি। এখনও দেখা হয়নি। কিছুদিনের মধ্যেই আমরা দেখব। তারপর মুক্তি না পাওয়ার কারণ জানাতে পারব।”’
রাখাইনের এই সিনেমাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই দেশের বেশকিছু নির্মাতা মুখ খুলেছেন। দাবি জানিয়েছেন সিনেমাটিকে মুক্তির অনুমতি দেওয়ার।
অং রাখাইন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু রাখাইন গোষ্ঠীর সদস্য। ২০১২ সালে তিনি ‘আমার বাইসাইকেল’ ছবির নির্মাণকাজ শেষ করেন। এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার একটি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথমবারের এটি প্রদর্শন করেন। পরে ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ফিল্ম ক্লাবগুলোয় ঘরোয়াভাবে ছবিটি প্রদর্শন করেছিলেন তিনি। এরপর তিনি আরও একটি সিনেমার কাজ শুরু করেন। সেটি এখনও নির্মাণাধীন রয়েছে। এর মধ্যেই তৃতীয় সিনেমার শুটিং শুরু করলেন তিনি।