প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:১০ পিএম
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৩৮ পিএম
সারা দেশের মতো ঝিনাইদহ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতেও শুরু হয়েছে ১৫ দিনব্যাপী তৃতীয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৩। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উৎসব চলবে ৩ মার্চ পর্যন্ত। ‘সবার জন্য চলচ্চিত্র, সবার জন্য শিল্প সংস্কৃতি’ -স্লোগানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে একযোগে দেশের ৬৪ জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ সারা দেশে এই উৎসব চলছে।
তার অংশ হিসেবে ঝিনাইদহে প্রথম দিনে দেখানো হয় পরিচালক নুরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হচ্ছে উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। সমকালীন ২৩টি চলচ্চিত্রসহ ৫টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৩৬টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে এবারের উৎসবে।
ঝিনাইদহ শিল্পকলা একাডেমিতে চলচ্চিত্র দেখতে আসা দর্শক কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শরীফুজ্জামান বলেন, ‘একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়া, ভালো পরিবেশের অভাব, প্রযুক্তি আর আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে বড় পর্দায় বা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা এখন একেবারেই বিলুপ্তির পথে। এ সময়ে এমন উৎসব আয়োজনে দর্শকের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে।’
সাংস্কৃতিক কর্মী ইছহাক বলেন, ‘এমন উৎসব আয়োজনকে ঘিরে তেমন প্রচার-প্রচারণা না থাকায় দর্শক সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা দেখা গেছে। তবে প্রত্যাশা করছি শিগগিরই দর্শক বাড়বে।’
ঝিনাইদহ জেলা নাট্য সমন্বয় পরিষদের সভাপতি রুবেল পারভেজ জানান, প্রদর্শনীর ছবিগুলো নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়, এটা শুধু বিনোদন নয় জ্ঞানেরও জায়গা। দেশের নামিদামি লেখক-পরিচালকের সান্নিধ্য না পেলেও তাদের রেখে যাওয়া বই, সিনেমা দেখার সুযোগ মিলছে এমন প্রদর্শনীতে।
গণসংগীতশিল্পী সংস্থার সাংস্কৃতিক কর্মী যোগেন বিশ্বাস জানান, ‘এখন ভালো চলচ্চিত্র তৈরি হলেও আকাশ মিডিয়ার কারণে মানুষ দেশের সিনেমা দেখতে হলমুখী না। সেক্ষেত্রে শিল্পকলার এমন আয়োজন প্রশংসার দাবি রাখে এবং সংস্কৃতি ও বিনোদনপ্রিয় মানুষ হলমুখী হবে।’
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার লাল্টু বলেন, ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তখনকার পরিচালকদের তৈরি সিনেমা ও সমকালীন লেখক-পরিচালকদের সিনেমা পরিবারসহ হলে গিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই আয়োজনের মাধ্যমে।’
ঝিনাইদহ জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার জসিম উদ্দিন জানান, ‘উৎসব নিয়ে ঝিনাইদহবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। জেলায় মাত্র ১টি সিনেমা হল চলছে। বড় পর্দায় বা হলে গিয়ে যারা সিনেমা দেখতে চায়, তাদের দেখার জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ।’
পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে; সমকালীন চলচ্চিত্র, নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র, ধ্রুপদী চলচ্চিত্র এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে বাছাই করা মোট ৩৬টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবারের উৎসবে। এর মধ্যে মেজবাউর রহমানের হাওয়া, রায়হান রাফির দামালসহ ২৩টি সমকালীন চলচ্চিত্র (২০১৮-২০২২ সাল) এবং ১৩টি অন্যান্য ক্যাটাগরির চলচ্চিত্র রয়েছে।