প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৪:১২ পিএম
বেশ কয়েক বছর আগে দেশে ধর্ষণের পরিমাণ তীব্র আকার ধারণ করে। জনজীবনে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। এর মধ্যে ২০১৯ সালের দিকে বেশ কিছু সংবাদ সারা দেশে তোলে আলোড়ন। গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় ধর্ষণে অভিযুক্ত আসামিদের মৃত্যুর খবর। রাজধানীর অদূরে সাভার থেকে শুরু করে ঝালকাঠির ভাণ্ডারিয়া। ধর্ষণে সে সময় নিহত হন বেশ কয়েকজন, হত্যা করা হয় একই কায়দায়।
প্রথম দুটি হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তার কোনো আলামত বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রথম দুই হত্যাকাণ্ডে হত্যাকারীর পরিচয় পাওয়া না গেলেও তৃতীয় হত্যাকাণ্ডে ধর্ষকদের সাবধান করে কিছু ক্লু দেওয়া হয়েছিল। ঝালকাঠিতে পাওয়া তৃতীয় মরদেহের বুকে লেখা ছিল, ‘আমি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার রহিমার (ছদ্মনাম) ধর্ষক রাকিব। ধর্ষণের পরিণতি ইহাই। ধর্ষকরা সাবধান। হারকিউলিস।’
তৃতীয় চিরকুটে পাওয়া ক্লুতে দেখা যায় হত্যাকারীর নাম হারকিউলিস। আসলে এটা হত্যাকারীর নাম নয়, বরং ক্লু। কারণ, গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী হারকিউলিস ছিলেন গ্রিসের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর। আর ধর্ষণে অভিযুক্তদের হত্যাকারী আসলে এই হারকিউলিসের কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত। এই সত্য ঘটনাটি নিয়ে এবার নির্মিত হচ্ছে ওয়েব সিরিজ ‘মারকিউলিস’। আট পর্বের সিরিজটি নির্মাণ করেছেন আবু শাহেদ ইমন। লোমহর্ষক ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে নির্মিত ওয়েব সিরিজটির পরতে পরতে রয়েছে সাসপেন্স। দেশের একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এটি চলতি বছরেই মুক্তি পাবে।
এতে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, সাবিলা নূর, রওনক হাসান, আফিয়া তাবাসসুম বর্ণসহ আরও অনেকে। সিরিজটিতে বিশেষ চমক নিয়ে হাজির হবেন ‘মনপুরা’ খ্যাত নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমক। তিনি অভিনয় করবেন একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে।
মারকিউলিস নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু বলেন, ‘একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিরিজটি নির্মিত হয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে এর দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে। এখানে দর্শক আমাকে ভিন্নরকম চরিত্রে দেখতে পাবেন। এর বেশি কিছু এখন বলতে চাইছি না। পুরো গল্পটি যেমন রহস্যে ঘেরা, আমার অভিনীত চরিত্রটিও ঠিক তেমনই।’
তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেল, সিরিজটিতে ফজলুর রহমান বাবুকে ভয়ংকর একটি চরিত্রে দেখা যাবে। এখানে তিনি দর্শকের সামনে আসবেন একজন ধনাঢ্য শিল্পপতি হিসেবে। যার চরিত্রে আছে নিষ্ঠুরতা।
অভিনেত্রী সাবিলা নূর এতে কাজ করা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সিরিজটির শুটিং করেছি ডিসেম্বরে। কিন্তু কাজটির জন্য অক্টোবর থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। সিরিজটির জন্য ১১টি ড্রাফট তৈরি করি, এরপর রিহার্সেল করি। গল্প ও চরিত্র সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাবে না। তবে এটুকু বলতে পারি, এটা থ্রিলার ও ড্রামা বেইজড। আমার চরিত্রের নাম জয়িতা। এ সিরিজে জয়িতার একটা ভয়ানক জার্নির গল্প রয়েছে। এ চরিত্রের জন্য আমাকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল। আমি অনেক বেশি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি যে, কাজটা কবে প্রচার হবে। সবাই যখন দেখবে তাদের ভালো লাগলেই আমাদের পরিশ্রমটা সার্থক হবে।’
রেহানা মরিয়ম নূরের গল্প একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষক রেহানাকে কেন্দ্র করে। এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন। কিন্তু রেহানা যার জন্য প্রতিবাদী হয়ে ওঠে, যে মেয়েটি আরেক শিক্ষকের কাছে নিগ্রহের শিকার হলে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে রেহানা, সেই মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন বর্ণ। সেই বর্ণ ‘মারকিউলিস’ সিরিজেও আসবেন মুগ্ধতা ছড়িয়ে। চরিত্র সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে চান না। তবে জানান, ‘এ সিরিজে আগ্রহ নিয়ে কাজ করেছি। থ্রিলার ও ড্রামাটিক গল্প। এখানে প্রতিটি চরিত্রই একেকটি গল্পের সূত্রপাত হয়ে আসবে। নির্মাতা অনেক যত্ন নিয়ে এটি তৈরি করেছেন। আমাকে বেশ মজবুত প্রস্তুতি নিয়ে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। মারকিউলিস মুক্তি পেলে যদি দর্শকের ভালো লাগে তবে উৎসাহ পাব।’
২০১৯ সালে ধর্ষকদের শাস্তি দিয়ে হইচই ফেলে দেওয়া হারকিউলিস কে বা কারা ছিল, তার কোনো সুরাহা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওয়েব সিরিজ মারকিউলিসে সেই রহস্য উদঘটান হবে কি না, জানা যাবে এর মুক্তির পর। আপাতত মারকিউলিসের জন্য অপেক্ষা করা যাক।