প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২২ ০২:০৮ এএম
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২২ ১৬:৫৯ পিএম
স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে বাংলাদেশ সেন্সর বোর্ডের নানা নিয়মনীতি ক্রমেই খড়গ হয়ে উঠছে উল্লেখ করে সেন্সরশিপ প্রথা বাতিলের দাবি জানিয়েছে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পীদের একাংশ।
তারা বলছে, চলচ্চিত্রে নানাবিধ নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হওয়ায় নির্মাতা ও শিল্পীরা ক্রমেই নগণ্য হয়ে পড়েছেন। তাদের অস্তিত্বও হুমকির মুখে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘বাংলা চলচ্চিত্র বা কনটেন্টে সেন্সরশিপের খড়গ : গল্প বলার স্বাধীনতা চাই' শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনে আসেন নির্মাতা-শিল্পী-কলাকুশলী-সংস্কৃতিজনরা।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশের নন্দিত অভিনেতা জাহিদ হাসান৷ তিনি 'শনিবার বিকেল' সিনেমার অভিনেতা৷ ছবিটি সেন্সরে আটকে আছে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
জাহিদ বলেন, ‘এটা বেদনাদায়ক একটি দৃষ্টান্ত। আমি ব্যক্তিগতভাবে এতদিন অভিনয় করা একজন অভিনেতা হিসেবে, শনিবার বিকেল-এর একজন অভিনেতা হিসেবে কষ্ট পাচ্ছি ছবিটি সেন্সরে আটকে থাকায়। আমাদের সিনেমাটি রাশিয়ায় প্রদর্শিত হয়েছে৷ সেখানকার দর্শক আমাকে জড়িয়ে, পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে জড়িয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। অনেকে কেঁদেছেন। এমন একটা সিনেমা দেশে মুক্তি দিতে সমস্যা কোথায়?’
এ অভিনেতা আরও বলেন, ‘আমরা তো দেশের জন্য কাজ করি, দেশের দর্শকের জন্য কাজ করি। আমি তো বিদেশের মানুষকে দেখাব বলে এ কাজটা করিনি। তাহলে ছবিটা কেন দেশের মানুষ দেখার সুযোগ পাবে না? একটা সিনেমা বানাতে কত পরিশ্রম, কত ত্যাগের মধ্য দিয়ে যেতে হয় একটা টিমকে, তা কি উনারা জানেন, যারা কথায় কথায় ছবি আটকান, শর্ত দেন।’
তিনি আরও বলেন, অতি দ্রুত ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি মুক্তির অনুমতি দেওয়া হোক। এ ছাড়া ‘হাওয়া’র মতো সিনেমাকে নানাভাবে আটকে রাখার চেষ্টা চলছে। খতিয়ে দেখতে হবে কারা করছেন কাজটা? উদ্দেশ্যটা কি? আমাদের সিনেমার অবস্থা ভালো না। হলগুলো প্রায় ধ্বংস। আজ যখন কিছু সিনেমা দিয়ে আবার জায়গাটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তখন এসব কেন?’
“কিছু দিন আগে আমার মেয়ে আমার কাছে 'পরাণ' ছবি দেখার টিকিট চেয়েছে। আমি তখন ভাবলাম ছোটবেলায় আমরা বাবা-মায়ের কাছে এভাবে টিকিট চাইতাম। তাহলে আগের অবস্থানে যাচ্ছে ইন্ডাস্ট্রি। এ সময়ে এত প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে তো হবে না”-- যোগ করেন জাহিদ হাসান।
প্রবা/এলএ /এসআর/এমআই