প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২২ ২৩:১৮ পিএম
সঙ্গীতের মেধাস্বত্ব ইস্যুতে চলচ্চিত্র প্রযোজক বা সঙ্গীত প্রযোজনা-পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা যেন শিল্পীদের ঠকাতে না পারেন, সেজন্য কপিরাইট অফিসের আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান এসেছে এক সেমিনার থেকে।
আজ বুধবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় আর্কাইভস ভবন মিলনায়তনে ‘সঙ্গীত বিষয়ক মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় অংশীজনদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে যোগ দিয়ে সঙ্গীতশিল্পীরা বলেছেন, বাংলাদেশ গীতিকার, সুরকার ও পারফরমারস্ সোসাইটি-বিএলসিপিএসকে সংগঠিত করে তারা মেধাস্বত্ব ইস্যুতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
রেজিস্ট্রার অব কপিরাইট দাউদ মিয়ার সভাপতিত্বে সেমিনারে অংশ নেন সংগীতশিল্পী খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন-বামবার সভাপতি হামিন আহমেদ, দলছুটের বাপ্পা মজুমদার, ফুয়াদ নাসের, মনির খান, প্রয়াত ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার, নূরজাহান আলীম, পলাশ, আলী সুমন, ইমরান মাহমুদুল, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, নেমেসিস ব্যান্ডের রকিবুন নবী, সাকিব চৌধুরী, অয়ন চাকলাদার, সুজন রাজা, অর্থহীনের মহান ফাহিম, পাওয়ার সার্জের জামশেদ চৌধুরী প্রমুখ।
মনির খান সভার শুরুতে অভিযোগ করেন, ‘আমি বহু বছর ধরে সিনেমায় গান গেয়েছি। এখন সেসব সিনেমার প্রযোজক গানগুলো নানা লেভেল কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন পথেঘাটে নানা প্রান্তে আমার গান শুনি। অনেকে আমার গানগুলো গাইছেন। কেউ আবার সুর বিকৃত করেছেন। আমার গাওয়া সেসব গানের কপিরাইট বাবদ আমি তো কিছু পেলাম না। দুঃখজনক হলো, জীবনের শেষভাগে এসে আমার যখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারি না, তখন মানুষ এসে বলে সারাজীবন গান গেয়ে তাহলে কী হল?’
কিংবদন্তি লোকসঙ্গীতশিল্পী আবদুল আলীমের মেয়ে নূরজাহান আলীম বলেন, ‘আমার বাবার গাওয়া গানগুলো এখন অনেক শিল্পী বিকৃত সুরে গাইছে। তারা কোথাও বাবার নামটিও বলছে না। আমরা তার সন্তানরা কীভাবে তার গানের রয়্যালিটি পাব?’
বাপ্পা মজুমদার বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজটি হবে আমাদের গানগুলো যত দ্রুত সম্ভব কপিরাইট করে ফেলা। এখন তো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘরে বসেই কপিরাইট নিবন্ধন সম্ভব। আর গানের রয়্যালিটি আদায়ের বিষয়টি আমাদের কারও একার কাজ নয়। সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীতশিল্পীÑ তিন পক্ষকেই সমন্বয় করে কাজটি করতে হবে।’
বিএলসিপিএসের সভাপতি হামিন আহমেদ বলেন, ‘কপিরাইট ইস্যু বা রয়্যালিটিÑ এই দুই ক্ষেত্রে কাজ করতে গেলে ওয়াইপো ও সিস্যাকের সঙ্গে আমাদের বিএলসিপিএসকে সম্পৃক্ত করতেই হবে। এরা কপিরাইটের আইনি বিষয় ও রয়্যালিটি আদায় নিয়ে বিশ্বজুড়ে কাজ করছে। দ্বিতীয়ত হল, কপিরাইট আইনে উল্লেখ থাকতে হবে যে একজন সঙ্গীতশিল্পী একজন প্রযোজক বা প্রতিষ্ঠান থেকে ঠিক কী পরিমাণ রয়্যালিটি মানি পাবেন। আমরা জানি, কপিরাইট আইনটি আইন মন্ত্রণালয় থেকে পর্যালোচনার পর এখন পার্লামেন্টে শুধু পাস হওয়ার অপেক্ষায়। আমরা এই বিষয়ে নিশ্চিত না, ঠিক কী বলা হয়েছে নতুন আইনে।’
দাউদ মিয়া বলেন, ‘আইনি কাঠামোতে না থাকলেও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কপিরাইট অফিস স্পেশাল একটি টাস্কফোর্স পরিচালনা করে। যাদের কাজ হলো, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কেউ মেধাস্বত্ব আইনের লঙ্ঘন করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রাপ্য রয়্যালিটি বুঝিয়ে দেওয়া।’