সৌম্য প্রীতম
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ০০:১২ এএম
‘যেতে নাহি দিব হায়,/তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।’ এমন বাস্তব সত্য সবাইকে মেনে নিতে হয়। তবে মহান শিল্পীদের ক্ষেত্রে এ কথাটা একটু অন্যরকম। সৃজনকর্মের মধ্য দিয়ে তারা বার বার ফিরে আসেন। প্রস্থান হয় তাদের শরীরের, কিন্তু সাধারণের মনের মধ্যে তারা সদাজীবন্ত।
নায়করাজ রাজ্জাক আজও বাঙালির হৃদয়ে ঠিক সেভাবেই সজীব হয়ে আছেন। একজন সৃষ্টিশীল অভিনেতা, যিনি প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকবেন তার কর্মের মধ্য দিয়ে। অভিনয়ের পাশাপাশি তার ব্যাপ্তি ছড়িয়ে আছে পরিচালনা ও প্রযোজনাতেও। বাংলা সিনেমার নায়করাজ রাজ্জাকের ৮২তম জন্মদিন আজ। ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় তিনি হয়ে ওঠেন এই বাংলার আপনজন। তাই তিনি সবার ভালোবাসার নায়করাজ।
চলচ্চিত্রে নায়ক হওয়ার অদম্য স্বপ্ন ও ইচ্ছা নিয়ে রাজ্জাক ১৯৫৯ সালে ভারতের মুম্বাইয়ের ফিল্মালয়ে সিনেমার ওপর পড়াশোনা ও ডিপ্লোমা করেন। এরপর কলকাতায় ফিরে এসে ‘শিলালিপি’ ও আরও একটি সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে ১৯৬৪ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কবলে পড়লে পরিবার-পরিজনসহ ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে রাজ্জাক ‘উজালা’সিনেমায় পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
ষাটের দশকে সালাউদ্দিন পরিচালিত হাসির সিনেমা ‘তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’-এ একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রাজ্জাক ঢাকায় তার অভিনয় জীবনের সূচনা করেন। যদিও এর আগেই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল এ অভিনেতার। এরপর নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে নায়করাজের যাত্রা শুরু হয় জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। ‘বেহুলা’সিনেমায় সুচন্দার বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেন রাজ্জাক।
১৯৯০ সাল পর্যন্ত বেশ দাপটের সঙ্গেই ঢালিউডে সেরা নায়ক হয়ে অভিনয় করেন রাজ্জাক। এর মধ্য দিয়েই তিনি অর্জন করেন নায়করাজ রাজ্জাক খেতাব। অর্জন করেন একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা। এ ছাড়া রাজ্জাক জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেন।
রাজ্জাক অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছেÑ নীল আকাশের নীচে, ময়নামতী, মধু মিলন, পিচ ঢালা পথ, যে আগুনে পুড়ি, জীবন থেকে নেয়া, কী যে করি, অবুঝ মন, রংবাজ, বেঈমান, আলোর মিছিল, অশিক্ষিত, অনন্ত প্রেম, বাদী থেকে বেগম, ছুটির ঘণ্টা ইত্যাদি। প্রায় ৩০০ সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক।
সিনেমা প্রযোজনাও করেছেন চিত্রনায়ক রাজ্জাক। ‘রংবাজ’ সিনেমা প্রযোজনার মধ্য দিয়ে নায়করাজের যাত্রা শুরু। এটি পরিচালনা করেছিলেন জহিরুল হক। রাজ্জাকের বিপরীতে ছিলেন কবরী। ববিতার সঙ্গে জুটি বেঁধে নায়করাজ প্রথম নির্দেশনায় আসেন ‘অনন্ত প্রেম’ চলচ্চিত্র দিয়ে। এই ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে। নায়ক হিসেবে এ অভিনেতার সবশেষ চলচ্চিত্র ছিল শফিকুর রহমান পরিচালিত ‘মালামতি’। এতে তার বিপরীতে ছিলেন নূতন।
নায়করাজ রাজ্জাক সবশেষ তার বড় ছেলে নায়ক বাপ্পারাজের নির্দেশনায় ‘কার্তুজ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এই চলচ্চিত্রে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রয়াত পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামও অভিনয় করেছিলেন।
২০১৭ সালের ২১ আগস্ট নায়করাজ চলে যান না ফেরার দেশে।