প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৪১ পিএম
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:২৪ পিএম
বহুল আলোচিত সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’-এর মুক্তি আরও একবার পিছিয়ে গেল। গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ঘটা ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাকে উপজীব্য করে নির্মিত ‘শনিবার বিকেল’ (স্যাটারডে আফটারনুন) সিনেমা দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় আটকে আছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে। শনিবার (২১ জানুয়ারি) সিনেমাটির সেন্সর নিয়ে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আরও এক সপ্তাহ পর ছবিটি সেন্সর পাবে কি না তা জানা যাবে, এমনটাই জানিয়েছেন সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মুহ. সাইফুল্লাহ।
শনিবার বিকেল সিনেমা নিয়ে মুহ. সাইফুল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এটা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। যেটি শেষ হতে আরও সাত দিন লাগবে। তার আগে আমরা চলচ্চিত্রটির ছাড়পত্র নিয়ে কিছুই বলতে পারছি না।
এ বিষয়ে আপিল বোর্ডের সদস্য শ্যামল দত্ত প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ‘ছবিটি আমরা ছেড়ে দিয়েছি। এখন আর ছবিটি প্রদর্শনে কোনো ধরনের বাধা নেই। আমাদের আপিল বিভাগ থেকে সিনেমাটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সেন্সরের কাজ শেষ হলেই মুক্তি। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘সিনেমাটি নিয়ে যেই সমস্যার কথা বলা হয়েছে সেরকম কোনও সমস্যা আমরা দেখিনি। কোনো দৃশ্য সংযোজন বা পরিমার্জন করারও প্রয়োজন নেই। এছাড়া ফারুকীর এই সিনেমার সঙ্গে হোলি আর্টিজানে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক নেই। এটি হোলি আর্টিজানের ঘটনার সরাসরি চিত্রায়ণ না, আমরা এ রকম একটা ঘোষণা পরিচালককে দিতে বলেছি। আমরা বলেছি, এরপর আপনি ছবিটি মুক্তি দিয়ে দিন।’
এ বিষয়ে সিনেমার নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি এখনও সেন্সর থেকে কোনো চিঠি পাইনি। তবে আশা আছে এবার একটি ভালো সংবাদ পাব।’
এর আগে চলচ্চিত্র সেন্সর আপিল কমিটি ২১ জানুয়ারি মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী রচিত ও পরিচালিত শনিবার বিকেল সিনেমার বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সভাপতি ও সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে গঠিত সাত সদস্যের সেন্সর আপিল কমিটিতে সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট অভিনয়শিল্পী সুবর্ণা মুস্তাফা, সাবেক অতিরিক্ত সচিব নূরুল করিম, অভিনেত্রী সুচরিতা ও সাংবাদিক শ্যামল দত্ত সদস্য এবং সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন।
এর আগে ২০১৯ সালে ১৫ সদস্যের সেন্সর বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিনেমাটি প্রদর্শনের উপযোগী নয় বলে মত দিয়েছিল।
এ বিষয়ে একাধিকবার সাংবাদিকদের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানান, সেন্সর বোর্ডের মতে সিনেমাটি ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ওপর নির্মিত। অথচ সেখানে দেশের সামরিক বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা যে জীবন দিয়ে অসহায় জিম্মিদের উদ্ধার করেছেন, দুই পুলিশ সদস্য প্রাণ দিয়েছেন, সেটিই অনুপস্থিত। সেজন্য এ দৃশ্যগুলো সংযোজন করতে বলা হয়।
সিনেমাটিতে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মানুষের প্রাণ রক্ষায় জীবনদানের বিষয়টির অনুপস্থিতি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, অপরাধ ও আইনহীনতা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অশ্লীল সংলাপ নিয়ে সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা মতামত দেন।
পরে ২০২০ সালে শনিবার বিকেলের প্রযোজক জাজ মাল্টিমিডিয়া সিনেমাটিতে কিছু দৃশ্য সংযোজিত হয়েছে দাবি করলে বোর্ড সেটি দেখে কোনো সংযোজন পাওয়া যায়নি বলে জানায়।
গত আগস্টে জাজ মাল্টিমিডিয়া আপিল শুনানির আবেদন করে। ফারুকীসহ কয়েকজন চলচ্চিত্র নির্মাতা সিনেমাটি নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দেন।
মন্ত্রণালয়সূত্র জানায়, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ নিজে আপিল কমিটি ও সেন্সর বোর্ডকে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কয়েক দফা কথা বলেছেন।