সৌম্য প্রীতম
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:৩৯ এএম
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:৪০ এএম
সারা যাকের। একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পী। মঞ্চে ও টেলিভিশনের পর্দায় তার অবদান অনেক। আজ শুরু হচ্ছে ‘আলী যাকের নতুনের উৎসব-২০২৩’, চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ আয়োজনের আহ্বায়ক তিনি। এ উৎসব ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সৌম্য প্রীতম।
আজ শুরু হচ্ছে ‘আলী যাকের নতুনের উৎসব-২০২৩’। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক আপনি। দীর্ঘ বিরতির পর এ উৎসব আবারও চালু হচ্ছে। এতে কোনো চ্যালেঞ্জ বোধ করছেন?
প্রায় তিন বছর পর আবারও আয়োজিত হচ্ছে আলী যাকের নতুনের উৎসব-২০২৩। করোনা মহামারির কারণে মূলত এ আয়োজন করা নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বিশেষ কোনো চ্যালেঞ্জের বিষয়টি তাই কোনোভাবেই মনে আসছে না। বরং উৎসবটি কবে শুরু করা যায়, তার একটি তাড়না ছিল। গত বছরের মাঝামাঝি থেকে আমরা এ আয়োজনের পরিকল্পনা করতে থাকি। সে সময় পাঁচটি নাট্যদলকে প্রণোদনা দেওয়া হয় নতুন নাটক নির্মাণের জন্য। যেহেতু উৎসবে নতুন নাটক প্রদর্শিত হয়, তাই নাটক মঞ্চোপযোগী করে তোলার জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে এ সময়টাকেই উৎসব আয়োজনের জন্য উপযুক্ত মনে হয়েছে।
প্রথমবারের আয়োজন থেকে এবারের উৎসবে ব্যতিক্রম কিছু থাকেছে কি না?
কিছুটা পরিবর্তন এবার থাকছে। ২০১৯ সালে প্রথমবার আয়োজিত উৎসবে সাতটি নাট্যদল প্রণোদনা পেয়েছিল। এবার তা কমে পাঁচটি হয়েছে। তবে উৎসবে একটা নতুন সংযোজন হয়েছে। ২০১৮ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় উদযাপন করে প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশে দর্শনির বিনিময়ে নিয়মিত মঞ্চনাটক প্রদর্শনীর ৪৫ বছর। সে আয়োজনে বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় অনন্য ভূমিকার জন্য মঞ্চনাটকের চার নাট্যজনের নামে সম্মাননা পদক প্রবর্তনের ঘোষণা করা হয়। সে ঘোষণা অনুযায়ী আলী যাকের নতুনের উৎসব ২০২৩ আয়োজনের উদ্বোধনী দিন [আজ] বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের চার ব্যক্তিত্বকে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় এ সম্মাননা প্রদান করবে। সৈয়দ শামসুল হক, জিয়া হায়দার, খালেদ খান, আলী যাকের এ চার গুণিজনের বিশেষ অবদান স্মরণে প্রথমবারের মতো এ বছর থেকে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় সম্মাননা পদক প্রদান করবে। আজ সন্ধ্যা ৬টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হবে।
মঞ্চনাটক নিয়ে আলী যাকের যে স্বপ্ন দেখে গেছেন, তা সম্পূর্ণ করতে নাগরিকের সামনের দিনের পরিকল্পনাগুলো কী...
আলী যাকের তার সৃষ্টিকর্মে বেঁচে থাকবেন। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় সব সময় তার স্বপ্ন ধারণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছি। বেশকিছু কাজও চলছে। আলী যাকেরের স্মৃতিতে সংগ্রহালয় বাতিঘর করা হয়েছে। সেখানে তার বই, শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। আরও রয়েছে বিভিন্ন সম্মাননা স্মারক, স্বীকৃতিপত্র, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্মৃতিস্মারক, তার ব্যবহার্য নানা জিনিসপত্র। নতুনরা তার বিষয়ে জানতে পারবেন।
এবারের উৎসব নিয়ে প্রত্যাশা কী?
যেকোনো সৃজনশীল কাজ চলমান রাখতে নতুন নতুন সৃজন প্রয়োজন। উৎসবের প্রথম থেকেই আমরা চেয়েছি মঞ্চে নতুন নাটক যুক্ত হোক। এবারের উৎসবেও তা-ই হয়েছে। উৎসবে অনেক নতুন শিল্পী বিভিন্ন প্রযোজনার মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছেন। নতুনরা নাটক দেখার মাধ্যমে আরও বেশি করে সংযুক্ত হবেন, এটি প্রত্যাশা।
ঢাকার বাইরে কোনো নাট্যদলকে কি এবার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে?
রেপার্টরি নাট্যদল হৃৎমঞ্চ ‘রিমান্ড’ নাটকটি এ উৎসবে মঞ্চায়ন করছে। নাট্যদলটি মূলত সিলেটের। এ ছাড়া প্রথমবার আয়োজিত উৎসবেও ঢাকার বাইরের নাট্যদল অংশ নিয়েছিল।
রাজধানীর বাইরের নাট্যদলগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে উৎসবে আরও বেশিসংখ্যক থিয়েটার দলকে যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে কি না?
দেখুন, প্রতিটি নাট্যদলের কিছুটা সীমাবদ্ধতা আছে। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় ও মঙ্গলদীপ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আমরা বিভিন্ন নাট্যদলের কাছে নতুন মঞ্চনাটকের পরিকল্পনা চেয়েছিলাম। এটা কিন্তু দেশের প্রতিটি নাট্যদলের কাছেই আহ্বান ছিল। এখন ঢাকার বাইরের কোনো নাট্যদল যদি মঞ্চোপযোগী নাটক নিয়ে আসতে পারে, আমরা অব্শ্যই স্বাগত জানাব। আমরা উৎসবে নাটকের সংখ্যার চাইতে মানের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।