প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৩:০৫ পিএম
কিংবদন্তি অভিনেতা আবুল হায়াত
অভিনয়ের প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠা, বহুমাত্রিক প্রতিভা এবং সাত দশকেরও বেশি সময়ের সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের মাধ্যমে বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রে অনন্য এক জায়গা করে নিয়ে আছেন কিংবদন্তি অভিনেতা আবুল হায়াত। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র— তিন মাধ্যমেই তার অসামান্য অবদান তাকে দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় নাট্যব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন সফল প্রকৌশলী, লেখক ও নাট্যচিন্তক হিসেবেও সুপরিচিত। দীর্ঘ এই শিল্পযাত্রায় অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসা ও সম্মান অর্জন করেছেন তিনি।
তারই ধারাবাহিকতায় এবার গত রবিবার সকালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেন এই বরেণ্য অভিনেতা। নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের আয়োজনে শুরু হওয়া সাত দিনব্যাপী চতুর্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব-২০২৬-এ বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি। স্নাতকোত্তর ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশনা শাখার শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। উৎসবের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল। এ সময় বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব আবুল হায়াতকে ‘নাট্যজন সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
সম্মাননা গ্রহণ করে আবুল হায়াত বলেন, ‘এই সম্মাননা আমার কাছে শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি সবার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। শিল্প মানেই শিক্ষা, আর আমি এখনও শিখছি। ত্রিশালের মাটিতে দাঁড়িয়ে বারবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা মনে পড়ছে। মাত্র ১০ বছর বয়সে নাটকের সঙ্গে আমার পথচলা শুরু হয়েছিল। ১৯৫৪ সালে প্রথম মঞ্চে উঠি। অভিনয়জীবনের ৭২ বছর পার করেছি, আর আমার বয়স ৮১ বছরেরও বেশি হয়ে গেছে।’
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অভিনয় মানে শুধু মঞ্চে দাঁড়িয়ে সংলাপ বলা বা মুখ দেখানো নয়। অভিনয় হলো বাস্তবতাকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা। জীবনে সাফল্যের চেয়ে সততা ও নিষ্ঠা অনেক বড়। নাটক মানুষকে অন্যের সুখ-দুঃখ অনুভব করতে শেখায় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। অভিনয় মূলত কল্পনার শিল্প, কিন্তু সেই কল্পনাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই একজন প্রকৃত অভিনেতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল বলেন, ‘আবুল হায়াত আমাদের দেশের অভিনয়জগতের অন্যতম বড় শিল্পী। এমন উচ্চতায় পৌঁছাতে প্রয়োজন দীর্ঘ সাধনা, নিষ্ঠা ও আত্মিক চর্চা। নাট্যকলার শিক্ষার্থীদের তার অভিনয় ও শিল্পভাবনা নিয়ে গবেষণা করা উচিত। অভিনয় শুধু সংলাপ বলা নয়, চরিত্র ও পরিস্থিতিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার শিল্প। ফুটবলে যেমন মেসি বা রোনালদো অনন্য, অভিনয়ের জগতে আবুল হায়াতও তেমনি এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।’
উল্লেখ্য, সাত দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন একটি করে নাটক মঞ্চস্থ হবে। উৎসবে অংশ নিতে ঢাকা থেকে এসেছে নাট্যদল ক্ষ্যাপাটে। পাশাপাশি ভারত থেকেও একটি নাট্যদল অংশ নেবে।