প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
গাজী রাকায়েত রচিত ও নির্দেশিত ‘নিখাই’ নাটকের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
জাত-ধর্ম কিংবা সামাজিক বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়Ñ সে মানুষ। এমনই মানবিক বার্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে থিয়েটার নাট্যদলের প্রযোজনা ‘নিখাই’। গাজী রাকায়েত রচিত ও নির্দেশিত এ নাটক এবার স্পর্শ করতে যাচ্ছে এক অনন্য মাইলফলক। আজ ১১ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে অনুষ্ঠিত হবে নাটকটির শততম প্রদর্শনী।
থিয়েটার নাট্যদলের ৩৪তম প্রযোজনা ‘নিখাই’-এর গল্প এগিয়েছে ব্রিটিশ শাসনামলের একটি স্টিমারঘাটকে ঘিরে। ঘাটটিতে প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনা থাকলেও সেখানে স্থায়ীভাবে কেউ বসবাস করেন না। তবে এক রহস্যময় বৃদ্ধ টানা ১০ বছর ধরে ঘাটটি আঁকড়ে পড়ে আছেন। গভীর রাতেও যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, তখনও তাকে সেখানে দেখা যায়।
গল্পের মোড় ঘুরে যায় এক গভীর রাতে। হঠাৎ এক দারোগা তার স্ত্রীকে নিয়ে নদী পার হওয়ার উদ্দেশ্যে ঘাটে এসে উপস্থিত হন। কিন্তু মাঝি না থাকায় তাদের অপেক্ষা করতে হয়। সেই অপেক্ষার মধ্যেই ঘটতে থাকে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা। ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় এক মানুষের জন্মপরিচয়, ভালোবাসা এবং সমাজের নির্মম বৈষম্যের ইতিহাস।
নাটকটি সম্পর্কে গাজী রাকায়েত বলেন, এটি তার লেখা প্রথম মৌলিক গল্পভিত্তিক নাটক। মানব-মানবীর ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ নাটকে সমাজের বৈষম্য, জাতপাত ও উঁচু-নিচু বিভেদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন মানুষের মধ্যে সব ধরনের ভেদাভেদ দূর করার জন্য। পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে হলে মানুষের সঙ্গে মানুষের ব্যবধান ঘোচানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সেই বৈষম্যহীন মানবিকতার কথাই ‘নিখাই’-এ বলতে চেয়েছি। কিছুদিন আগেই আমার আরেকটি নাটকও শততম মঞ্চায়নের মাইলফলক ছুঁয়েছে। সব মিলিয়ে অনুভূতিটা সত্যিই অসাধারণ।’