মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
নাজিফা তুষি, ছবি: রাফক্লিক।
বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে খুব অল্প সময়েই নিজের অভিনয় দক্ষতায় আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন নাজিফা তুষি। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দাÑ দুই মাধ্যমেই সমান স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করে তিনি দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বাস্তবধর্মী গল্প, শক্তিশালী নারী চরিত্র এবং ভিন্নধর্মী নির্মাণে কাজ করার আগ্রহের কারণে তিনি নির্মাতাদের কাছেও হয়ে উঠেছেন আস্থার নাম। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সম্পূর্ণ নতুন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে দর্শকের সামনে আসছেন তুষি। বহুল আলোচিত বাংলাদেশি ডিস্টোপিয়ান ওয়েব সিরিজ ‘অ্যানি’-তে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ।

‘রেহেনা মরিয়ম নূর’ খ্যাত এই নির্মাতার নতুন কাজ ‘অ্যানি’ ইতোমধ্যেই দেশ-বিদেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, এটি শুধু একটি ওয়েব সিরিজ নয়; বরং ভবিষ্যতের এক ভয়াবহ পৃথিবীর গল্প, যেখানে মানবিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা এবং বেঁচে থাকার লড়াই এক ভিন্ন মাত্রা পায়।
সিরিজটির গল্প আবর্তিত হয়েছে অ্যানি নামের এক তরুণীকে কেন্দ্র করে। ছোট একটি শহরের নার্স অ্যানি নিজের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষার চেয়ে পরিবারের দায়িত্বকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। বাবা-মাকে হারানোর পর পাঁচ ভাইবোনকে মানুষ করার কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় সে। প্রতিদিনের সংগ্রামের মধ্যেই হঠাৎ পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে রহস্যময় এক মহামারি, যার নাম ‘রেড ডিজিজ’ বা ‘হেইট প্যান্ডেমিক’।

অন্যসব মহামারির মতো এই রোগ মানুষের শরীরের চেয়ে বেশি আঘাত হানে মানসিকতায়। এতে আক্রান্ত পুরুষরা নারীদের প্রতি চরম বিদ্বেষ, সহিংসতা এবং ঘৃণাপূর্ণ আচরণ করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে সমাজে ভেঙে পড়ে স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং বেঁচে থাকার লড়াই। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অ্যানি কীভাবে নিজের পরিবারকে নিরাপদ রাখবে এবং মানবিক মূল্যবোধ আঁকড়ে ধরে টিকে থাকার চেষ্টা করবেÑ সেই গল্পই তুলে ধরা হয়েছে সিরিজটিতে। বাস্তবধর্মী নির্মাণশৈলী, সংযত অভিনয় এবং মনস্তাত্ত্বিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গল্প বলার জন্য পরিচিত সাদের এই নতুন কাজ নিয়েও দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক।

মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় স্বীকৃতি পেয়েছে ‘অ্যানি’। বাংলাদেশের প্রথম ওয়েব সিরিজ হিসেবে এটি জার্মানির মর্যাদাপূর্ণ সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যালের ‘উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এই অর্জন শুধু নির্মাতা বা অভিনয়শিল্পীদের জন্য নয়, বাংলাদেশের ওয়েব কনটেন্ট শিল্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, নাজিফা তুষির ক্যারিয়ারও এগোচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। বিজ্ঞাপন ও টেলিভিশনে কাজের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করলেও বড়পর্দায় তিনি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন ‘হাওয়া’ সিনেমায় অভিনয় করে। পরে ‘সুড়ঙ্গ’ চলচ্চিত্রেও নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দেন। এ ছাড়া চলতি বছর রোজার ঈদে প্রেশার কুকার এবং ঈদুল আজহায় ‘রইদ’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি গল্প ও চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তিনি বরাবরই ভিন্নধর্মী কাজকে গুরুত্ব দেন।
-6a48a7b8aef69.jpg)
ডিস্টোপিয়ান গল্প, শক্তিশালী নারী চরিত্র এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কারণে ‘অ্যানি’ ইতোমধ্যেই দর্শক ও সমালোচকদের কৌতূহলের কেন্দ্রে রয়েছে। নাজিফা তুষির অভিনয় এবং আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের নির্মাণÑ এই দুইয়ের সমন্বয়ে সিরিজটি বাংলাদেশের ওয়েব কনটেন্টে নতুন এক মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন অনেকে।