বাবা দিবস
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
অভিনেত্রী ফরিদা পারভিন ববিতা। ছবি: সংগৃহীত।
বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা পারভিন ববিতা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকের হৃদয়ে। কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে দেন বাংলাদেশের নাম। পর্দার সফল এই অভিনেত্রীর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তার বাবা এএসএম নিজাম উদ্দিন আতাউব। আজ ২১ মে বাবা দিবস উপলক্ষে স্মৃতির ঝাঁপি খুলে সেই প্রিয় মানুষটিকে নিয়েই আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন ববিতা।
শুধু বাবা দিবস এলেই যে আব্বাকে মনে পড়েÑ আমার কাছে কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। আমার জীবনজুড়ে জড়িয়ে আছেন আমার আব্বা। সবাই বলেন, আমি নাকি আমার আব্বার আদর্শে বেড়ে উঠেছি। আদৌ কি আমি আব্বার আদর্শে বেড়ে উঠতে পেরেছিÑ এটা আমার নিজের কাছে নিজেরই প্রশ্ন। আমার বিয়ের মাত্র চার মাস পরেই আমার আব্বা এএসএম নিজাম উদ্দিন আতাউব ইন্তেকাল করেন। যে কারণে মানসিকভাবে সেই সময় অনেক ভেঙে পড়েছিলাম। বাবাকে ঘিরে প্রত্যেক সন্তানেরই অনেক স্মৃতি থাকে। আব্বা সব সময় আমাদের ছয় ভাইবোনকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাসায় ফেরার কথা বলতেন। আমার জীবনের সাফল্যের মূলমন্ত্র আব্বার কাছ থেকেই পাওয়া। এই যে আমি এত পরিপাটি থাকি, গুছিয়ে থাকার চেষ্টা করিÑ এটা আব্বার কাছ থেকেই পাওয়া। আব্বা যখন অফিস থেকে আসতেন তখন আমরা সবাই পান বানিয়ে খাওয়াতাম। আব্বা তখন বেশ আয়েশ করে পান খেতেন। আবার পা টিপে দিতে দিতে সব আবদার করতাম। আব্বা আমাদের সেই আবদার রাখতেনও। আব্বা সিনেমা দেখতে পছন্দ করতেন, অনেক সিনেমা দেখতেন তিনি। সিনেমা দেখে আমাদের মজার মজার গল্প বলতেন এবং সে সব গল্প আব্বা আমাদের অভিনয় করতে বলতেন। সেখান থেকেই অভিনয়ে আমার অনুপ্রেরণা আসা। পরবর্তী সময়ে যখন আমি সিনেমার নায়িকা হিসেবে কাজ শুরু করি, তখনও আব্বা আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিতেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়ের আগে আব্বাই সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে চিঠি আদান প্রদান করতেন ইংরেজিতে। শুটিংয়ের সময় সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে আব্বার চমৎকার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। আমার ইংরেজি শেখার খুব শখ ছিল বিধায় আব্বা আমাকে ছোটবেলাতে একটি ডিকশনারি কিনে দিয়েছিলেন। আমি তখন প্রথম শ্রেণিতে পড়ি। বাগেরহাটে থাকি সবাই। সবাই আমাকে রেখে মামার বাড়ি যাবে বেড়াতে। আমি বুদ্ধি করলাম কীভাবে আব্বাকে রাজি করানো যায়। আব্বা সন্ধ্যা নাগাদ বাসায় ফেরার সময় আমিই হারিকেন নিয়ে আব্বাকে এগিয়ে আনতে গেলাম। আমাকে দেখে আব্বা ভীষণ খুশি, কারণ তখন বিদ্যুৎ ছিল না। অন্ধকারে আব্বাকে এগিয়ে আনতে গিয়েছিলাম। আব্বা তখন খুশি হয়ে বলেন, কী চাও মা? আমি বললাম আমাকেও সঙ্গে নিয়ে মামার বাড়িতে বেড়াতে যেতে হবে। আব্বা রাজি হলেন। আব্বা আমার জীবনের আদর্শ। তাই আমার ইচ্ছা আমার মৃত্যুর পর যেন বনানী কবর স্থানে আব্বার কবরেই যেন আমাকে দাফন করা হয়।