বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:৫৭ এএম
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:২৯ পিএম
নতুন বছর বরণ করে নেয়ার অপেক্ষায় সবাই। তাই এখন চলছে পুরোনা সব হিসাব-নিকেশ। ২০২২ সাল সংগীতাঙ্গন কেমন ছিল? যদি এক কথায় বলা হয়, দেশের সংগীতাঙ্গন হতাশার একটি বছর পার করল। অডিও কোম্পানি, শিল্পী, গীতিকার, সুরকারদের মধ্যে এখন ঘোর অনিশ্চয়তা ভর করেছে। কারণ, স্থিতিশীল নেই গানের বাজার। আর এটা নিয়ন্ত্রণের কোনো পদ্ধতিও নেই। একটা সময় জনপ্রিয় কোনো শিল্পীর লাখ লাখ কপি ক্যাসেট ও সিডি বিক্রি হতো। কিন্তু এখন আর তা নেই। ইউটিউবে গান প্রকাশ হচ্ছে। যার ফলে সেটা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও নেই। এর ওপর আবার ওয়েলকাম টিউন থেকে আয়ের পরিমাণ কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। যার ফলে কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র গানে বিনিয়োগ করছে খুব কম। কোরবানির ঈদের পর এই গতি আরো কমে গেছে। এখন অনেকটাই স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে সংগীতাঙ্গনে। গান এখন টিকে আছে বলা যায় সিনেমা, নাটক ও ওটিটি কন্টেন্টের উপমা হয়ে৷ গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর গান প্রকাশের সংখ্যা যেমন কম ছিল, তেমনি আলোচিত গানের সংখ্যাও তেমন নেই।
কোটি ছাড়ানো গানের সংকট
কণ্ঠশিল্পী সুলতানা ইয়াসমিন লায়লার কণ্ঠে ‘অন্তরেতে দাগ লাগাইয়া’ গানের ভিউ তিন কোটি ছাড়িয়েছে। বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত এই গানের কথা লিখেছেন মাহমুদ মুরাদ, সুর করেছেন টিপু সুলতান ও আকাশ মাহমুদ। সংগীতায়োজন করেছেন আকাশ মাহমুদ। ইউটিউবে গান প্রকাশের পর থেকে সংগীতাঙ্গন এমন বছর কখনো দেখেনি। গত কয়েক বছর বছরের শেষদিকে কোটি কোটি ভিউয়ের গান ছিল ডজনেরও বেশি। তবে বছরের শেষদিকে এসে কয়েকটি গানের সন্ধান মিলেছে কোটি ভিউয়ের কাছাকাছি। এর মধ্যে আনিকার গাওয়া ‘পালাবি কোথায়’ গানের ভিউ প্রায় ৯০ লাখ। এ গানের কথা ও সুর করেছেন তাপস। চাকচিক্য এই মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছেন বলিউড তারকা নার্গিস ফাখরি। জামাল হোসেনের কথায় কণ্ঠশিল্পী মোহাম্মদ মিলন ও কোনালের দ্বৈত গান ‘পাইনা তোকে’র ভিউ প্রায় ৮৫ লাখ। এ গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইমরান মাহমুদুল। পাঁচ মাস আগে প্রকাশিত ইমরানের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘ঘুম ঘুম চোখের’ ভিউ ৮১ লাখ ছাড়িয়ে। জামাল হোসেনের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেন ইমরান নিজেই। এক মাস আগে প্রকাশিত ইমরান ও পড়শীর কণ্ঠে ‘দ্বিতীয় জীবন’ গানের ভিউ ৫০ লাখ।
ইমরানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়, অডিও গান চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। দেশের প্রথম কোটি ভিউয়ের গায়ক ইমরান। ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ গানটি তার প্রথম কোটি ভিউ স্পর্শ করে ইউটিউবে। এ শিল্পীর ৫০টি গান রয়েছে, যেগুলোর ভিউ কোটি ছাড়িয়ে। ২০২২-এ এসে এই গায়কের কোনো কোটি ভিউ গান নেই! তবে ইমরানের কণ্ঠে প্রকাশিত গানগুলো বছরের শেষদিকে প্রকাশ হয়েছে। গানগুলোর কোটি ভিউ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বেলাল খান ও মমতাজের ‘বাপের বড় পোলা’ গানের ভিউ ৫৫ লাখ ছাড়িয়ে। সোমেশ্বর অলির কথায় গানটির সুর করেছেন বেলাল খান নিজেই।
বছরের প্রাপ্তি ইমন চৌধুরী
সংগীতাঙ্গনে এত না পাওয়ার ভীড়ে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সংগীত পরিচালক ইমন চৌধুরী। এ বছর দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে সবচেয়ে বেশি শ্রুতিমধুর ও জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তাতে ইমন চৌধুরীর নাম শুরু দিকে থাকবে। তবে এর একটিও অডিও গান নয়। ইমনের হাত ফহরে দুটি গান এ বছর সবচেয়ে সফলতা পেয়েছে। যার মধ্যে হাওয়া সিনেমার ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানটি সবার মুখে মুখে ফিরেছে। গানটির কথা ও সুর হাশিম মাহমুদের। গেয়েছেন আরফান মৃধা শিবলু। হাওয়া ছবির আরেক গান ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’ও ভালোই সাড়া ফেলে। গানটি লিখেছেন ও গেয়েছেন বাউল শিল্পী বাসুদেব দাস। এই গান দুটিই হাওয়া সিনেমার ব্যাপক ব্যবসাসফলতার জন্য অন্যতম কারণ। তরুণ প্রজন্ম পছন্দ করেছে চরকির ওয়েব ফিল্ম ‘দুই দিনের দুনিয়া’র গান ‘ট্যাকা পাখি’। গেয়েছেন মাশা ইসলাম। তিনটি গানেরই সংগীতায়োজন করেছেন ইমন চৌধুরী।
''ভাল্লাগে' দুই বাংলার দর্শকের ভালো লেগেছে
সুমি শবনমে 'ভাল্লাগে' শিরোনামের গানটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে ভাইরাল। দেশের গন্ডি পেরিয়ে কলকাতাতেও গানটি পেয়েছে জনপ্রিয়তা। 'ছেলে তোর প্রেমে পড়ার কারণ/ তোর শ্যামলা শ্যামলা বরন' গানটির সাথে কোমড় দুলিয়েছেন কলকাতার অনেক জনপ্রিয় তারকারাও। এরমধ্যে গানটি ছাড়িয়েছে ৩৭ মিলিয়ন ভিউ। শুরুতে গানের ভিউয়ের সংখ্যা কম থাকলেও ভাইরাল হওয়ার পর বাড়ছে জনপ্রিয়তা। এর কথা ও সংগীতায়োজন করেছেন আকরাম হোসেন।